অবশেষে করোনা নিয়ে সতর্ক মমতাও | বিশ্ব | DW | 13.03.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

করোনা ভাইরাস

অবশেষে করোনা নিয়ে সতর্ক মমতাও

মার্চ মাসের শুরুতে মমতা বলেছিলেন, দিল্লির দাঙ্গা থেকে নজর ঘোরাতেই ‘করোনা, করোনা’ বলে চিৎকার হচ্ছে৷ শুক্রবার রাজ্য সচিবালয়ে জরুরি বৈঠক ডেকে করোনা নিয়ে রাজ্যবাসীকে সতর্ক করলেন মুখ্যমন্ত্রী৷

পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের মধ্যে যাবতীয় ট্রেন এবং বাস যোগাযোগ মুলতবি করে দেওয়া হলো ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত৷ পিছিয়ে দেওয়া হলো আইপিএল ক্রিকেট, যা ২৯ মার্চ শুরু হওয়ার কথা ছিল৷ কলকাতার ইডেন গার্ডেন্স স্টেডিয়ামে ভারত এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে ক্রিকেট খেলা হবে ফাঁকা স্টেডিয়ামে, যা টিভিতে সরাসরি সম্প্রচারিত হবে৷ বাড়ি বসেই খেলা দেখবেন সবাই৷ মাঠে-ময়দানে সব ধরনের জমায়েতও নিষিদ্ধ করা হলো৷ স্থগিত হয়ে গেল সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি৷ শুক্রবার হঠাৎ নড়েচড়ে বসল পশ্চিমবঙ্গে মমতা ব্যানার্জির সরকার৷ যে মমতা ব্যানার্জি ৪ মার্চ বলেছিলেন, দিল্লির দাঙ্গা থেকে লোকের নজর ঘোরাতেই কেউ কেউ ‘করোনা, করোনা' বলে চিৎকার করছে৷ রাজ্যের সচিবালয় নবান্ন ভবন থেকে মুখ্যমন্ত্রী একগুচ্ছ সতর্কবার্তা জানালেন রাজ্যবাসীর উদ্দেশে৷ পাশাপাশি করলেন এক অভূতপূর্ব ঘোষণা— করোনা সংক্রমণ এড়াতে কেন্দ্র সরকারের নির্দেশিকা মেনে চলুন!‌
কলকাতার সাউথ পয়েন্ট স্কুল, ছাত্রসংখ্যার হিসেবে যা এশিয়ার বৃহত্তম স্কুল বলে পরিচিত, সোমবার থেকে স্কুল বন্ধ করে দিলো অনির্দিষ্টকালের জন্য৷ একাধিক ছোটদের স্কুল অভিভাবকদের উদ্দেশে আগেই জানিয়েছিল, প্রয়োজন মনে করলে বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাবেন না৷ এদিন মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পর একে একে একাধিক স্কুল এবং কলেজ তাদের নিয়মিত ক্লাস মুলতবি রাখার ঘোষণা করেছে৷ কিছু কলেজ অনলাইন ক্লাস চালু করার প্রস্তুতি নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে, যাতে শিক্ষাবর্ষের দিন নষ্ট না হয়৷

অডিও শুনুন 04:01

পুরোপুরি সোশাল মিডিয়া দায়ী: ডা. জোয়ারদার

এদিকে নানা ধরনের গুজব ছড়াচ্ছে সোশাল মিডিয়ায়, মূলত হোয়াটস্‌ অ্যাপে, ব্যক্তিগত বার্তার মাধ্যমে৷ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অবৈজ্ঞানিক তথ্য, স্রেফ ধারণার ওপর ভিত্তি করে সতর্কবার্তা হিসেবে চালানো হচ্ছে৷ এর প্রভাব পড়েছে মাছ-মাংসের বাজারে৷ বিশেষ করে মুরগির মাংস এবং ডিমের চাহিদা ব্যাপক হারে কমে গেছে৷ অথচ এই করোনা ভাইরাস পোলট্রির সঙ্গে একেবারেই যুক্ত নয়৷ ডয়চে ভেলেকে জানালেন বিশিষ্ট প্রাণিবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ, কলকাতার প্রাণিবিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত ডা. সিদ্ধার্থ জোয়ারদার৷ তিনি বিশদে ব্যাখ্যা করেছেন সংক্রমণের বিষয়টি, যে প্রতিটি প্রাণীর নির্দিষ্ট করোনা ভাইরাস বাহিত রোগের সম্ভাবনা আছে, কিন্তু তা কেবল ওই প্রাণীর জন্যই৷ সেইসব রোগ প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে আসার আশঙ্কা নেই৷ এ রোগ মানুষের শরীরে আসছে অন্য মানুষের সঙ্গে প্রত্যক্ষ সংযোগের মাধ্যমে৷ কিন্তু লোকে না জেনেই ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে, যার জন্য সোশাল মিডিয়াই দায়ী৷ এদিন বললেন ডা.জোয়ারদার৷
এদিন আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷ কলকাতাসহ দেশের সবকটি হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টে আপাতত শুধু জরুরি মামলার শুনানিই হবে৷ বিচারক এবং দুই পক্ষের আইনজীবী ছাড়া সেখানে কেউ উপস্থিত থাকবেন না৷ বলা বাহুল্য, এই জরুরি ব্যবস্থাও করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রুখতেই৷

বিজ্ঞাপন