অফিসে কাজের ‘ন্যায্য’ বণ্টন করবে সফটওয়্যার | অন্বেষণ | DW | 26.11.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

অফিসে কাজের ‘ন্যায্য’ বণ্টন করবে সফটওয়্যার

অফিসে কাজের চাপে হতাশা, ক্ষোভ, অসহায় অবস্থা আজকের যুগে বিরল ঘটনা নয়৷ অথচ বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্মীদের কর্মক্ষমতার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করতে হলে কাজের সঠিক বণ্টন অত্যন্ত জরুরি৷ একটি সফটওয়্যার সেই দিশা দেখাতে পারে৷

ভবিষ্যতে কর্মীদের ঠিক ততটাই কাজ দেওয়া হবে, যতটা তারা ভালোভাবে করতে পারবেন৷ একটি সফটওয়্যার সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজের বণ্টন করবে৷ এমন স্বপ্ন বাস্তব করার চেষ্টা চলছে৷ সেই লক্ষ্যে কর্মীদের সব সময়ে নাড়ি মাপার যন্ত্র পরে থাকতে হবে এবং একটি ক্যামেরা তাদের মুখচ্ছবির ভিডিও তুলে যাবে৷ এভাবে মানসিক চাপ ও মনের অবস্থা পরিমাপ করা হবে৷ সেই সব তথ্যের ভিত্তিতে সফটওয়্যার স্থির করবে, যে সেই ব্যক্তিকে কত পরিমাণ কাজ দেওয়া যায়৷ 

মার্কো মায়ার এই সফটওয়্যার তৈরির কাজে অংশ নিয়েছেন৷ চ্যাডলিস প্রোটোকলের ভিত্তিতে তিনি কাজের সময়ে কর্মীদের অবস্থা বিশ্লেষণ করে কাজের চাপ ও আবেগ বোঝার চেষ্টা করছেন৷ সেটা বুঝতে হলে কম্পিউটারকে আবেগ বিশ্লেষণ করা শিখতে হবে৷

স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে রেগিনা বুয়র্গমায়ার কঠিন এক দায়িত্ব পেয়েছেন৷ তাঁকে অনেকগুলি লেখা টাইপ করতে হবে৷ তবে তিনি জানেন না যে টেক্সটগুলি ধীরে ধীরে আরও কঠিন হয়ে উঠবে৷ প্রথমে শিশুদের গল্প, তারপর জটিল রাসায়নিক ফর্মুলা সংক্রান্ত টেক্সট তাঁকে টাইপ করতে হবে৷

পরিমাপ যন্ত্র তাঁর বেড়ে চলা মানসিক চাপের উপর নজর রাখছে৷ সেইসঙ্গে ক্যামেরা তাঁর মুখের নির্দিষ্ট কিছু পেশি সঞ্চালন রেকর্ড করছে, যা থেকে তাঁর আবেগ টের পাওয়া যায়৷ রেগিনা বেশ ভাবলেশহীন হয়ে থাকলেও তাঁর সম্পর্কে অনেক কিছু জানা যাচ্ছে৷ মার্কো মায়ার বলেন, ‘‘ডানদিকে তাকালে বোঝা যাবে, তিনি কতটা উত্তেজিত৷ এখনই দেখলাম উত্তেজনার মাত্রা বেড়ে চলেছে৷ ফলে বোঝা যাচ্ছে যে কাজটা তাঁর জন্য কঠিন বলে উত্তেজনা বাড়ছে৷ আরেকটি বিষয় হলো ভিডিও দেখে হৃদস্পন্দনও টের পাওয়া যাচ্ছে৷ অর্থাৎ হৃদযন্ত্র নিয়মিত, অনিয়মিত, দ্রুত না ধীরে চলছে৷ চিকিৎসাবিদ্যা ও মনস্তত্ত্বের ভিত্তিতে এমন কিছু স্যাম্পেল রয়েছে, যা মানসিক চাপ বা শিথিল অবস্থা তুলে ধরে৷ এর সাহায্যে এমনকি ভাবলেশহীন ‘পোকার ফেস' থাকলেও কারও মনের উত্তেজনা আমরা টের পাই৷''

কর্মীদের সম্মতি ছাড়া জার্মানিতে এমন পর্যবেক্ষণ নিষিদ্ধ৷ কিন্তু তাঁদের কি সবসময়ে সেই সুযোগ রয়েছে? মার্কো মায়ার নজরদারি বা তথ্য সংরক্ষণ করতে চান না৷ তিনি শুধু প্রত্যেক কর্মীর জন্য উপযুক্ত কাজের পরিবেশ সৃষ্টি করতে চান৷ এমন এক প্রণালী তৈরি করতে চান, যা গভীর মনোযোগের সময়ে টেলিফোন কল আসতে দেবে না৷ টনি কোম্পানির প্রধান মার্কো মায়ার বলেন, ‘‘অনেকেই যেটা মানতে বাধ্য হবেন, সেটা হলো প্রযুক্তিগত উন্নতির কারণে মনোযোগে বিঘ্নের কারণ বেড়ে গেছে৷ ইমেল, মেসেঞ্জার, সোশাল মিডিয়া ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে৷ অর্থাৎ গভীর মনোযোগ দিয়ে একটানা অনেক সময় জুড়ে কাজ করা কঠিন হয়ে উঠেছে৷'' 

ফলে তথাকথিত ‘ফ্লো কন্ডিশন' বা আরামদায়ক কাজের সময় বিরল হয়ে উঠছে৷ মার্কো বলেন, ‘‘এই অবস্থাকে প্রায়ই একদিকে অপর্যাপ্ত চ্যালেঞ্জ ও একঘেয়েমি এবং অন্যদিকে অতিমাত্রার কাজ ও মানসিক চাপের মধ্যে আদর্শ ভারসাম্য হিসেবে বর্ণনা করা হয়৷ চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও দায়িত্ব পালন করতে পারলে আমি ‘ফ্লো'-এর মধ্যে থাকি৷''

এই ‘ফ্লো' পর্যায়ে আমাদের শরীর এন্ডোরফিন নামের সুখের হরমোন নিঃসরণ করে৷ তাছাড়া হৃদস্পন্দনের ছন্দেরও উন্নতি হয় এবং ত্বকের পরিবাহিতা বেড়ে যায়৷ মায়ার এই সব শারীরিক প্রতিক্রিয়া কাজে লাগিয়ে কম্পিউটারকে এমন সব আবেগ শনাক্ত করতে শেখাতে চান৷ সেই তথ্যের ভিত্তিতে ক্ষমতা অনুযায়ী কোনো কর্মীর কাজ বণ্টন করা হবে৷

প্রতিবেদন: আলেক্সান্ড্রা ফান ডে পল/এসবি

বিজ্ঞাপন