অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিবাসীদের মরক্কো পাঠানোর উদ্যোগ নিচ্ছে জার্মানি | বিশ্ব | DW | 26.12.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

জার্মানি

অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিবাসীদের মরক্কো পাঠানোর উদ্যোগ নিচ্ছে জার্মানি

২০১৫ সালের উদ্বাস্তু সংকট শুরু হওয়ার পর থেকে জার্মানি কোনো অভিভাবকহীন অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিবাসীকে স্বদেশে ফেরৎ পাঠায়নি৷ তবে এবার, মরক্কোয় সে ধরনের অভিবাসীদের জন্য বিশেষ কেন্দ্র তৈরি করছে জার্মান সরকার৷

রবিবারের ‘ভেল্ট আম সনটাগ' পত্রিকার খবর অনুযায়ী, জার্মান সরকার উত্তর মরক্কোয় দু'টি ‘ইয়ুথ সেন্টার' বা যুব কেন্দ্র তৈরি করছেন, যেখানে স্থানীয় ‘স্ট্রিট চিল্ড্রেন' বা নিরাশ্রয় কিশোর ছাড়া জার্মানি থেকে বহিষ্কৃত অপ্রাপ্তবয়স্ক মরক্কান উদ্বাস্তুদেরও রাখা হবে৷

যে সব অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিবাসীদের পরিবারবর্গকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি, এই ‘পাইলট প্রোজেক্ট'-এর ফলে তাদের বৈধভাবে স্বদেশে ফেরৎ পাঠানো যাবে৷ সাম্প্রতিক কয়েক বছরে জার্মানি কোনো অভিভাবকহীন অপ্রাপ্তবয়স্কদের বহিষ্কার করেনি৷

তথাকথিত ‘শেল্টার'-গুলির কাজ কী হবে?

‘ভেল্ট আম সনটাগ' পত্রিকাকে জার্মান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যে খবর দিয়েছে, সে অনুযায়ী প্রকল্পের রূপরেখা এই রকম:

- মরক্কোয় যে দু'টি আশ্রয় নির্মাণ করা হচ্ছে, তার প্রত্যেকটিতে ১০০ জন করে কিশোর থাকতে পারবে;

- অপ্রাপ্তবয়স্করা সামাজিক সাহায্য, কাউন্সেলিং ও পড়াশুনার সুযোগ পাবে;

- মরক্কো সরকার, স্থানীয় কর্মকর্তা ও এনজিও-দের সঙ্গে সহযোগিতায় এই কেন্দ্রগুলি তৈরি করা হচ্ছে৷

পরিবারবর্গের কাছে প্রত্যাবর্তন আরো ভালো

জার্মান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি বিবৃতি অনুযায়ী শেল্টারগুলি ‘‘১৮ বছরের কম বয়সি স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তনকারী ছাড়া বহিষ্কৃতদের জন্যও খোলা থাকবে, বিশেষ করে যে সব যুবা অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছে৷''

খ্রিষ্টীয় গণতন্ত্রী (সিডিইউ) রাজনীতিক ও জার্মান সংসদের স্বরাষ্ট্র বিষয়ক পরিষদের সাবেক প্রধান আন্সগার হেফেলিং ‘ভেল্ট আম সনটাগ' পত্রিকাকে বলেন যে, প্রকল্পটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও, ‘‘স্বদেশে পরিবারবর্গের সঙ্গে পুনর্মিলনের ব্যবস্থা করতে পারলে তা আরো যুক্তিযুক্ত হতো৷''

‘‘সম্প্রতি কয়েক বছরে যে একজনও অভিভাবকহীন অভিবাসীকে স্বদেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি, তা থেকে বোঝা যায় যে, কর্তৃপক্ষকে তাদের পরিবারবর্গের সন্ধান করার জন্য আরো বেশি সক্রিয় হতে হবে,'' হেফেলিং যোগ করেন৷

জার্মানিতে অভিবাসী ইয়ুথ সেন্টারের কাউন্সেলররা ‘ভেল্ট' পত্রিকাকে বলেন যে, অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিবাসীরা নিয়মিত টেলিফোনে তাদের মায়েদের সঙ্গে কথা বলে থাকে – কিন্তু তা সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে সংশ্লিষ্ট যুবা-কিশোরদের পরিবারবর্গের পরিচয় বা ঠিকানা বার করার কোনো চেষ্টা কাউন্সেলররা দেখেননি৷

অপ্রাপ্তবয়স্কদের বহিষ্কারের আইনগত শর্তাবলী

যে সব অভিভাবকহীন অপ্রাপ্তবয়স্কদের রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে, তাদের বহিষ্কার করার বিভিন্ন কড়া আইনগত শর্ত আছে৷ বহিষ্কারের আগে জার্মান কর্তৃপক্ষকে নিশ্চিত করতে হবে যে, স্বদেশে...

- পরিবারের কোনো সদস্য বা দায়িত্বপ্রাপ্ত অভিভাবক অপ্রাপ্তবয়স্কটিতে স্বগৃহে আশ্রয় দেবেন;

- সেখানে কোনো ‘‘উপযুক্ত'' অভ্যর্থনা কেন্দ্র আছে৷

অপরদিকে সাম্প্রতিক কয়েক বছরে শত শত অপ্রাপ্তবয়স্ককে জার্মানির সীমান্ত থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে অথবা তাদের রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে৷

অতীতে  কতোজন অপ্রাপ্তবয়স্ককে জার্মানি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে?

সংসদে সবুজ ও বামদলের তরফ থেকে একাধিক প্রশ্নের জবাবে জার্মান সরকার যে তথ্য দিয়েছেন, তা হলো:

- ২০১০ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে চারজন অভিভাবকহীন অপ্রাপ্তবয়স্ককে ইউরোপের অপরাপর দেশে বহিষ্কার করা হয়েছে;

- ২০১৫ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে কোনো অভিভাবকহীন অপ্রাপ্তবয়স্ককে জার্মানি থেকে বহিষ্কার করা হয়নি৷

গত মার্চ মাসে জার্মান সরকার মরক্কোয় যুব কেন্দ্রগুলি নির্মাণের অভিপ্রায় ঘোষণা করেন৷ পরিসংখ্যান অনুযায়ী সে সময়ে জার্মানিতে অবস্থানকারী অভিভাবকহীন অপ্রাপ্তবয়স্ক উদ্বাস্তুদের সংখ্যা ছিল প্রায় ৪৮,০০০৷

২০১৫ সালে  উদ্বাস্তুদের জন্য সীমান্ত খুলে দেওয়ার পর চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল ও তাঁর সরকার ক্রমেই আরো বেশি চাপের মুখে পড়েছেন যে, অভিবাসীদের স্রোত কমানোর জন্য সরকারের সক্রিয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিৎ৷ অপরদিকে উদ্বাস্তুদের আগমন নিঃসন্দেহভাবে কমেছে: ২০১৫ সালে প্রায় ৯ লাখ উদ্বাস্তু জার্মানিতে আসেন; চলতি বছরে তা দু'লাখের কম হবে, বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে৷

রেবেকা স্টাউডেনমায়ার/এসি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন