অপ্রতিরোধ্য বাংলাদেশকে দেখছে অস্ট্রেলিয়া | বিশ্ব | DW | 06.08.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ক্রিকেট

অপ্রতিরোধ্য বাংলাদেশকে দেখছে অস্ট্রেলিয়া

ঢাকার বিকেলটা ভিজে যায় আকাশের বৃষ্টিতে। রাজধানীর সীমানা পেরিয়ে পুরো বাংলাদেশের রাত ভেসে যায় আনন্দ-বৃষ্টিতে।

দুই ম্যাচ হাতে রেখেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জিতে ইতিহাস গড়লো বাংলাদেশ ক্রিকেট দল

দুই ম্যাচ হাতে রেখেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জিতে ইতিহাস গড়লো বাংলাদেশ ক্রিকেট দল

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম সিরিজ জয় বলে কথা! সেটিও দুই ম্যাচ হাতে রেখে! ১০ রানের রুদ্ধশ্বাস জয়ে সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে।

অবিশ্বাস্যইতো, নাকি?

এই তৃতীয় টি-টোয়েন্টির আগেই অস্ট্রেলিয়ার অ্যাস্টন অ্যাগার বলেছিলেন মুস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে মুগ্ধতার কথা। মুগ্ধতা এদিনও ছড়ালেন মুস্তাফিজ। কাটারে-স্লোয়ারে নাভিশ্বাস তুললেন অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানদের। সঙ্গে পেস-জুটির শরিফুল ইসলামের বয়সকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন। তাতেই ১২৭ রানও হয়ে যায় জয়ের রসদ।

প্রথম ম্যাচে ১৩১ রান করে জয়। পরেরটিতে ১২১ রান তাড়ায়। এরপর এই তৃতীয় ম্যাচে ১২৭ রান ডিফেন্ড করে। ম্যাচগুলো টি-টোয়েন্টিসুলভ না বলে অভিযোগ করতে পারেন কেউ কেউ। তাতে বয়েই গেছে বাংলাদেশের! যে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সব ফরম্যাট মিলিয়ে সাকুল্যে যেখানে ছিল মোটে দুটি জয়, সেখানে চার দিনের মধ্যেই কিনা তিন জয়!

ইতিহাস এভাবেই লেখা হয়। রূপকথা রচিত হয় এভাবেই।

সে রূপকথার নায়ক কে, তা নিয়ে ধন্দে পড়ে যাওয়াটা স্বাভাবিক। ৫৩ বলে ৫২ রান করা মাহমুদ উল্লাহ রিয়াদের হাতে উঠেছে ম্যাচসেরার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি। কিন্তু সেটি তো খুব সহজেই মুস্তাফিজের হতে পারত। এবং তা কোনো উইকেট না নিয়েই!

৪ ওভারে দিয়েছেন মাত্র ৯ রান। এর মধ্যে ইনিংসের ১৯তম ওভারে, যখন অস্ট্রেলিয়ার ৬ উইকেট হাতে নিয়ে প্রয়োজন ২৩ রান, তখন কিনা মুস্তাফিজের ওভার থেকে এলো মোটে এক রান! এরপর আর শেষ ওভারে ২২ রানের সমীকরণ মেলায় কিভাবে অস্ট্রেলিয়া!

অথচ অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং ইনিংসের বড় অংশ সময় জুড়ে বোঝা যায়নি যে, এমন কিছু হতে যাচ্ছে। ১২ ওভারে এক উইকেটে ৬৮ রানে পৌঁছে যায় তারা। শেষ ৮ ওভারে প্রয়োজন ৬০ রান। হাতে ৯ উইকেট। এমন ম্যাচ পাকিস্তান হারতে পারে। কখনো-সখনো ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিংবা বাংলাদেশও। তাই বলে অস্ট্রেলিয়া! যতোই নিয়মিত ক্রিকেটারদের অনেকে অনুপস্থিত থাকেন, দলটি তো সোনালী জার্সির উত্তরাধিকার।

কিন্তু সবুজ-লালের সামনে এদিন ফিকে হয়ে যায় বাকি সব রং। বেন ম্যাকডারমটের ক্যাচ পড়ে। তাতেও হতোদ্যম হয় না বাংলাদেশ। পরের ওভারে সাকিবের ঘূর্ণিতে পেয়ে যায় প্রার্থিত ব্রেক থ্রু। ক্যাচ ফেলেন যে শরিফুল, তিনিও মুষড়ে পড়েন না। বরং তা পুষিয়ে দেন আবার বোলিংয়ে এসে প্রথম বলে মোসেজ হেনরিক্সের উইকেটে।

কিন্তু বাংলাদেশের ‘গলার কাঁটা' হয়ে তখনো তো ক্রিজে মিচেল মার্শ। আগের দুটো ম্যাচেই যিনি করেছিলেন ৪৫ রান করে। এদিন ফিফটিও পেরিয়ে যান। এরপর পরিণত শরিফুলের শিকারে। ব্যস, জয়ের নেশায় আরো চনমনে হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার সাধ্যি কী রোখে তাদের!

এর আগে সিরিজে প্রথমবারের মতো টসজয়ী বাংলাদেশের ব্যাটিংটা হয়নি মনমতো। বাংলাদেশের দুই ওপেনার নিয়ে তো কথাবার্তা হচ্ছিল অনেক। সেই চাপেই কিনা চিড়েচ্যাপ্টা সৌম্য-নাঈম। প্রথম দুই ম্যাচে ২ ও ০ রানে আউট হওয়া সৌম্য এদিন আউট মাত্র ২ রানে। নাঈম প্রথম ম্যাচে ৩০ করলেও পরের দুই ম্যাচে স্কোর ৯ ও ১।

শুরুতে দুই ওপেনারের বিদায়ের পর ইনিংস পুননির্মাণের দায়িত্ব পড়ে দুই সিনিয়র ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান ও মাহমুদ উল্লাহর উপর। কাজটা ভালোই করছিলেন তারা। কিন্তু ভালো খেলতে খেলতে উইকেট বিলিয়ে আসেন সাকিব (১৭ বলে ২৬)।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ মাহমুদ উল্লাহ

ম্যান অব দ্য ম্যাচ মাহমুদ উল্লাহ

অধিনায়ক ছিলেন তবু। খুব সচ্ছন্দ্যে নয় অবশ্যই, কিন্তু এক প্রান্ত আগলে রেখেছিলেন। অন্য প্রান্তের ফর্মে থাকা আফিফ হোসেন ধ্রুব, নুরুল হাসান সোহানের কাছে প্রত্যাশা ছিল বাংলাদেশের রান রেট বাড়ানোর। সে পথে এগুচ্ছিলেনও তারা। আফিফ ১৩ বলে ১৯ ও নুরুল ৫ বলে ১১ রান করেন। কিন্তু দুজনই কাটা পড়েন রানআউটে। প্রথম দুই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার ফিল্ডিং ছিল গড়পড়তা। সেটি মাথায় রেখেই কিনা সরাসরি ফিল্ডারের কাছে বল যাওয়া সত্ত্বেও রানের জন্য ছোটেন তারা। কিন্তু দু-দুটো ডিরেক্ট থ্রোতে রান আউট দুজনই।

অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ ছিলেন শেষ ওভার পর্যন্ত। ৫৩ বলে ৫২ রানের ইনিংসও খেলেন। শেষ পর্যন্ত যা ম্যাচসেরার পুরস্কার এনে দেয় তাকে। অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা সাধ্যের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করেছেন। বাংলাদেশের ইনিংসের একেবারে শেষ তিন বলে হ্যাটট্রিক তুলে নিজের অভিষেকটা স্মরণীয়ও করে রাখেন অস্ট্রেলিয়ার নাথান এলিস। কিন্তু ওই যে ৯ উইকেটে ১২৭ রানে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ, সেটি আর টপকাতে পারেনি অসিরা।

ম্যাচ যখন শেষ হয়, ঢাকার আকাশে তখনো মেঘের আনাগোনা। কিন্তু বাংলাদেশের ক্রিকেটাকাশে উথাল-পাথাল জোছনা। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জয় বলে কথা!

নির্বাচিত প্রতিবেদন