অপুর গ্রামে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ জার্মান পরিচালকের | বিশ্ব | DW | 08.11.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

কলকাতা

অপুর গ্রামে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ জার্মান পরিচালকের

কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে এবার ‘‌ফোকাস কান্ট্রি’ জার্মানি৷ অস্কারজয়ী জার্মান চলচ্চিত্র পরিচালক ফলকার শ্ল্যোনডর্ফ উৎসবের প্রধান অতিথি৷ তাঁর মুখোমুখি হয়েছিল ডয়চে ভেলে৷

অস্কারজয়ী জার্মান চলচ্চিত্র পরিচালক ফলকার শ্ল্যোনডর্ফ

অস্কারজয়ী জার্মান চলচ্চিত্র পরিচালক ফলকার শ্ল্যোনডর্ফ

কলকাতা, তথা ভারতের সঙ্গে জার্মান পরিচালক ফলকার শ্ল্যোনডর্ফের পরিচয়ের বয়স ঠিক চার দশক৷ সেই বছর নোবেলজয়ী জার্মান সাহিত্যিক গ্যুন্টার গ্রাস–এর বিখ্যাত সৃষ্টি ‘‌ডি ব্লেশট্রমেল’, বা ‘‌টিন ড্রাম’ অবলম্বনে সিনেমা বানিয়েছিলেন ফলকার শ্ল্যোনডর্ফ৷ সেই ছবি নিয়ে তিনি এসেছিলেন ভারতের সিনেমা রাজধানী মুম্বইয়ে৷ অস্কার পুরস্কার বিজয়ী সেই ছবির যে মূল সম্পাদিত সংস্করণ, যা আগে ভারতে কখনও দেখানো হয়নি, সেই পূর্ণাঙ্গ ছবিটি দেখা যাবে এবার কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে৷

সত্যজিৎ রায়, ঋত্বিক ঘটক, মৃণাল সেনেদের চলচ্চিত্র আন্দোলন ১৯৯৫ সালে পূর্ণতা পেয়েছিল এক আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে৷ সেই উৎসব এবার ২৫ বছরে পা দিল৷ গুরুত্বপূর্ণ এই উদযাপনে কেন্দ্রীয় দেশ জার্মানি৷ যে সুবাদে নতুন পুরনো মিলিয়ে এক গুচ্ছ জার্মান ছবি দেখার সুযোগ পাওয়া যাবে৷ বাছাই তালিকায় থাকবে ধ্রুপদী ও আধুনিক জার্মান সিনেমা, নব্য ধারার জার্মান সিনেমা, ভারত-জার্মানি যৌথ প্রযোজনায় তৈরি ছবি, সঙ্গে জার্মান তথ্যচিত্র এবং অ্যানিমেশন ছবি৷ বিশ্ববিখ্যাত জার্মান পরিচালক আলেক্সান্ডার ক্লুগের রেট্রোসপেক্টিভ থাকবে এবং ‘‌ডিরেক্টর্‌স চয়েস’ নামে একটি বিশেষ বিভাগে ফলকার শ্ল্যোনডর্ফ-এর বাছাই সাতটি ছবি৷

কলকাতার গ্যোটে ইনস্টিটিউটের প্রোগ্রাম অফিসার শর্মিষ্ঠা সরকার ডয়চে ভেলে–কে জানালেন, ‘‌টিন ড্রাম’ ছাড়াও থাকছে আর্থার মিলার-এর নাটক ‘‌ডেথ অফ এ সেল্‌সম্যান’ অবলম্বনে শ্ল্যোনডর্ফের ছবি, মার্গারেট অ্যাটউডের উপন্যাস অবলম্বনে ‘‌হ্যান্ডমেইডস টেল’, লেবাননের রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের সময় বেইরুটে শুটিং করা ‘‌সার্কেল অফ ডিসিট’, তাঁর নির্দেশিত ফরাসি ছবি ‘‌ডিপ্লোমেসি’ এবং শ্ল্যোনডর্ফের ব্যক্তিগত পছন্দের ছবি ‘‌হোমোফাবে’৷

অডিও শুনুন 01:02

উৎসবে যেসব ছবি থাকছে

চলচ্চিত্র উৎসব উপলক্ষে এলেও শ্ল্যোনডর্ফ তাঁর নতুন তথ্যচিত্রের কাজও করে যাচ্ছেন এই যাত্রায়৷ গিয়েছিলেন ঝাড়খণ্ডে, সেই ছবির শুটিংয়ে৷ যদিও এখনই ছবিটি নিয়ে তিনি কোনও প্রচার চাইছেন না, কিন্তু ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন ছবিটির বিষয় সম্পর্কে৷ সে এক অভিনব বিষয়৷ কৃষিজমির পুনরুজ্জীবন৷ ২০১৮ সালে বিকল্প নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অর্থনীতিবিদ টোনি রিনাল্ডোর সঙ্গে আলাপের সুবাদে যে বিষয়টি তিনি জানতে পারেন৷ যে নতুন গাছ রোপন করে নয়, মাটির তলায় থেকে যাওয়া পুরনো গাছের শিকড় থেকেই সবুজায়ন সম্ভব৷ চোখের আড়ালে, মাটির নিচে এরকম শিকড়ের রাজত্ব সজীব থাকে, যার নাম ওঁরা দিয়েছেন ‘‌আন্ডারগ্রাউন্ড ফরেস্ট’৷ এর আগে এই ধরনের বনসৃজনের কর্মকাণ্ড শ্ল্যোনডর্ফ ছবিতে ধরেছেন আফ্রিকার মালি, ঘানা, বুর্কিনা ফাসোতে৷ এবার গন্তব্য ছিল ঝাড়খণ্ড৷ শুটিং করলেন সেখানে৷

কথা বলতে গিয়ে শ্ল্যোনডর্ফ বার বার বলছিলেন গ্রামজীবনের গুরুত্বের কথা৷ এমন এক প্রাকৃতিক পরিবেশে ছোট বাচ্চাদের বেড়ে ওঠার প্রয়োজনীয়তার কথা, যেখানে সব গাছ, সব পশুপাখির নাম বাচ্চারা জানবে৷ প্রতিবেশীদের নাম জানবে৷ মানবিক সম্পর্কগুলো বুঝবে৷ পরিচালক মৃণাল সেনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন শ্ল্যোনডর্ফ, সত্যজিৎ রায়ের একান্ত ভক্ত৷ সত্যজিতের ‘‌অপু ত্রয়ী'‌ তাঁর প্রিয় ছবি৷ বলছিলেন, বড় শহরে নয়, ওই অপুর গ্রামে ফিরে যেতে হবে৷ আজকের এই ডিজিটাল যুগের যে হাজার সমস্যা, তার একমাত্র প্রতিষেধক ওই গ্রামজীবন৷ সেখানেই শান্তি৷‌

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন