অন্য এক বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পথশিশুরা | বিশ্ব | DW | 05.05.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

অন্য এক বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পথশিশুরা

চলতি মাস শেষে ইংল্যান্ডে শুরু হচ্ছে ক্রিকেট বিশ্বকাপ৷ তার আগে শনিবার থেকে শুরু হওয়া অন্য এক বিশ্বকাপে বাংলাদেশসহ দশ দেশের পথশিশুরা অংশ নিচ্ছে৷

চার মেয়ে ও চার ছেলের সমন্বয়ে বাংলাদেশ দল গঠন করা হয়েছে৷ এর মধ্যে আছে সানিয়া ও রাসেল৷ দু'জনেরই বয়স ১৫ এবং তাদের গল্পও প্রায় একইরকম৷ গৃহকর্ত্রীর অত্যাচার থেকে বাঁচতে সেখান থেকে পালিয়ে গিয়ে বাড়ি ফেরার পথ না চেনায় কিছুদিন পথেই বাস করতে হয়েছে সানিয়া মির্জাকে৷ পরে ‘লোকাল এডুকেশন অ্যান্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন' বা লিডো নামের এক সংগঠন তাকে আশ্রয় দেয়৷ সংগঠনটি পথশিশুদের নিয়ে কাজ করে

অভাবের কারণে সানিয়ার বাবা মেয়েকে কাজ করতে শহরে এক দম্পতির কাছে পাঠিয়েছিলেন৷ কিছুদিন সেখানে ভালোই ছিল সানিয়া৷ কিন্তু ঐ দম্পতির প্রথম সন্তান জন্ম নেয়ার পর সানিয়ার উপর অত্যাচার শুরু করেন তারা৷ এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে সানিয়া সেখান থেকে পালিয়ে ট্রেন ধরে কমলাপুর চলে যায়৷ তারপর সে বাবার কাছে ফিরতে গিয়ে বুঝতে পারে যে, সে বাড়ির পথ চেনে না৷ এরপর থেকেই সানিয়ার আশ্রয়স্থল লিডো৷ 

সানিয়ার সহখেলোয়াড় রাসেলের মা ছেলেকে ভাইয়ের কাছে রেখে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন৷ রাসেলের বাবা তার জন্মের আগেই মারা গেছেন৷ এই অবস্থায় মামা-মামি তাকে অত্যাচার করলে সেখান থেকে সেও পালিয়ে যায়৷ পরে তারও আশ্রয় হয় লিডো-র আশ্রয়কেন্দ্রে৷

এই আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মোট আটজন শিশুই পথশিশুদের ক্রিকেট বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করছে৷

বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেয়ে রোমাঞ্চিত সানিয়া ও রাসেল৷ সানিয়া বলছে, ‘‘এটা স্বপ্নপূরণের মতো৷ আমার বিশ্বাস হচ্ছে না যে, আমি বিশ্বকাপ খেলবো৷''

রাসেল বলছে, ‘‘আমি এমন জায়গায় ক্রিকেট খেলবো যেখানে খেলাটার জন্ম হয়েছে৷ আমি লর্ডসে খেলবো৷ আমার মনে হয় না, অনেক মানুষ এমনটা বলতে পারবে৷''

উদ্দেশ্য

লন্ডনভিত্তিক দাতব্যসংস্থা ‘স্ট্রিট চাইল্ড ইউনাইটেড' প্রথমবারের মতো পথশিশুদের জন্য ক্রিকেট বিশ্বকাপের আয়োজন করেছে৷ এর আগে অবশ্য তারা চারবার পথশিশুদের জন্য ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজন করেছিল৷

পথশিশুদের বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য এ ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়৷ পথশিশুদের পাচার ও নিপীড়নের শিকার হওয়ার ঝুঁকি থাকে বলে জানান বিশ্লেষকরা৷

জাতিসংঘের হিসেবে বিশ্বে পথশিশুদের সংখ্যা দেড়শ মিলিয়ন পর্যন্ত হতে পারে৷ এদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় পরিচালিত এক জরিপ বলছে, বাংলাদেশে পথশিশুর সংখ্যা প্রায় সাত লক্ষ৷ এরমধ্যে এক-তৃতীয়াংশের বাস ঢাকাতে৷

মঙ্গলবার লর্ডসে প্রতিযোগিতার ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে৷

জেডএইচ/ডিজি (থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশন)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন