‘অন্ধ আশাবাদ নিয়ে দেশের নেতা হওয়া যায় না′ | বিশ্ব | DW | 10.07.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ব্রিটেন

‘অন্ধ আশাবাদ নিয়ে দেশের নেতা হওয়া যায় না'

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হবার দৌড়ে বরিস জনসন ও জেরেমি হান্ট একমাত্র টেলিভিশন বিতর্কে অংশ নিলেন৷ ব্রেক্সিটের প্রশ্নে তাঁরা অবশ্য কোনো স্পষ্ট পথ দেখাতে বিফল হলেন৷ অ্যামেরিকার সঙ্গে উত্তেজনার বিষয়টিও উঠে এলো৷

ব্রিটেনের আগামী প্রধানমন্ত্রী কে হচ্ছেন, চলতি মাসের শেষেই তা জানা যাবে৷ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রার্থী তালিকায় অবশিষ্ট দুই ব্যক্তি এক টেলিভিশন বিতর্কে সাধারণ মানুষের কাছে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরলেন৷ দুজনেই রক্ষণশীল টোরি দলের৷ একজন প্রাক্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, আরেকজন বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী৷ দুজনের সামনেই প্রধান চ্যালেঞ্জ ব্রেক্সিট৷ দুজনেই এই কঠিন বাস্তবের মোকাবিলা করে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ব্রিটেনের জন্য সেরা সমাধানসূত্র তুলে ধরার অঙ্গীকার করছেন৷ কিন্তু তাঁদের মধ্যে কেউই এখনো পর্যন্ত ব্রেক্সিট সংক্রান্ত অপ্রিয় কিছু প্রশ্নের স্পষ্ট জবাব দিতে পারেন নি৷ মঙ্গলবার সন্ধ্যায়ও তাঁরা সেই খোলস থেকে বেরিয়ে এলেন না৷

টোরি দলের সদস্য ও ভোটারদের মধ্যে জনপ্রিয়তার মানদণ্ডে এগিয়ে রয়েছেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন৷ যুক্তি ও তর্কের বদলে আবেগ, উৎসাহ ও জোরালো বার্তাকে সম্বল করেই তিনি সেই পথে এগিয়ে যেতে চান৷ এর আগে বার বার বেফাঁস মন্তব্য করে নিজের পায়ে নিজেই কুড়ুল মেরেছেন তিনি৷ তাই দলের নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হবার দৌড়ে তিনি সংবাদমাধ্যমকে সযত্নে এড়িয়ে চলেছেন৷ সে কারণেও মঙ্গলবারের টেলিভিশন বিতর্ক বাড়তি গুরুত্ব পেয়েছিল৷ প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট কৌতূক করে তাঁর সম্পর্কে বলেন, ‘‘বরিস আপনার কোনো প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে আপনার দিকে তাকিয়ে এমনভাবে হাসবে, যে আপনি সেই প্রশ্নই ভুলে যাবেন৷'' তাঁর মতে, রাজনীতিক হিসেবে এই গুণের কদর করা গেলেও প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য এমন স্বভাব মানানসই নয়৷ শুধু ‘অন্ধ আশাবাদ' নিয়ে দেশের নেতা হওয়া যায় না, বলেন হান্ট৷

প্রার্থী হিসেবে এতদিন কোণঠাসা থাকলেও মঙ্গলবার জেরেমি হান্ট নিজেকে দায়িত্বজ্ঞানসম্পন্ন নেতা হিসেবে তুলে ধরার কোনো সুযোগ হাতছাড়া করেন নি৷ নম্র স্বভাব, ক্ষুরধার যুক্তি, স্পষ্ট অঙ্গীকারের মাধ্যমে তিনি নিজেকে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী পদের যোগ্য হিসেবে তুলে ধরেন৷ আগামী ৩১শে অক্টোবর ব্রেক্সিট কার্যকর করতে তিনি বদ্ধপরিকর হলেও ইইউ ও ব্রিটেনের সংসদের অবস্থানকে খাটো করে দেখছেন না তিনি৷ তাই সব রকম সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত হয়ে তিনি ব্রিটেনকে ইইউ থেকে বার করতে চান৷

ব্রেক্সিটের প্রশ্নে ইইউ ও ব্রিটিশ সংসদ নতুন প্রধানমন্ত্রীর নীতি অগ্রাহ্য করলে আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা সম্পর্কেও প্রশ্ন তোলেন বিতর্ক অনুষ্ঠানের সঞ্চালক৷ কিন্তু জনসন ও হান্ট নিজেদের সাফল্য সম্পর্কে কোনোরকম সংশয়ের কারণ দেখছেন না৷ তবে বিরোধী লেবার দল নতুন প্রধানমন্ত্রীর ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে গণভোটের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে৷ সে ক্ষেত্রে দল হিসেবে লেবার ইউরোপীয় ইউনিয়নে থেকে যাবার পক্ষে অবস্থান নিতে চলেছে৷

আন্তর্জাতিক মঞ্চে ব্রিটেনের মর্যাদা ও স্বার্থ তুলে ধরার প্রশ্নেও দুই প্রার্থীর মধ্যে সংঘাত দেখা গেল মঙ্গলবার৷ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প-এর ঘনিষ্ঠ ও অনুরাগী হিসেবে পরিচিত বরিস জনসন দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক সংঘাতের প্রশ্নে স্পষ্ট অবস্থান এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করেন৷ অন্যদিকে জেরেমি হান্ট মঙ্গলবারই এক টুইট বার্তায় ট্রাম্প-এর বক্তব্যের জোরালো বিরোধিতা করে লেখেন, যে ওয়াশিংটনে রাষ্ট্রদূত বাছাইয়ের এক্তিয়ার ব্রিটেনের হাতেই থাকবে৷

উল্লেখ্য, ওয়াশিংটনে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতের কিছু মন্তব্য ফাঁস হয়ে যাওয়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রোষে ফেটে পড়েছেন এবং একাধিক টুইট বার্তায় ব্রিটেনের রাষ্ট্রদূত, বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে, এমনকি রানি এলিজাবেথের বিরুদ্ধেও তোপ দাগছেন৷

এসবি/কেএম (এএফপি, ডিপিএ)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন