অন্ধ্র প্রদেশে ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পের ব্যর্থতা | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 30.01.2011
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

অন্ধ্র প্রদেশে ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পের ব্যর্থতা

দারিদ্র্য দূরীকরণে ক্ষুদ্রঋণ একটি বিপ্লব বলা যেতে পারে৷ কিন্তু পৃথিবীর সবদেশেই কিন্তু এই প্রকল্প সফল হচ্ছে না৷ কোথাও কোথাও এই প্রকল্প মুখ থুবড়ে পড়েছে৷

default

ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্প সব জায়গায় সফল হচ্ছে না

ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্প, ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে ব্যবসা করা বাংলাদেশে বেশ সফল হয়েছে৷ ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পের বাস্তবায়ন এবং প্রসারের কারণে মুহাম্মদ ইউনূস নোবেল শান্তি পুরস্কারও পেয়েছেন৷ নব্বই-এর দশকে ক্ষুদ্রঋণ ভারতীয় উপমহাদেশে নিয়ে এসেছে এক ধরণের বিপ্লব৷ পকেট-সাইজ ঋণ দিয়ে দেশ থেকে দারিদ্র্য দূরীকরণের চেষ্টা করা হয়েছে৷ তবে ইদানিং ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পগুলো নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা৷ কেলেঙ্কারি আর বিতর্কের ঝড় উঠেছে ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্প নিয়ে৷ বলা হচ্ছে ঋণের আড়ালে লুকিয়ে আছে চড়া সুদ৷ অর্থাৎ বড় আকারের সুদ গ্রহণ করা হচ্ছে ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে৷ আর এই সুদ বা ঋণ কোনটাই ঠিকমত পরিশোধ করতে পারছে না অন্ধ্র প্রদেশের অনেক গরীব কৃষক৷ ফলে তারা বেছে নিয়েছে আত্মহত্যার পথ৷ প্রায় ৮৮ জন কৃষক এ পর্যন্ত আত্মহত্যা করেছে – এর মূল কারণ হল তারা কেউই ঠিকমত সুদ দিতে পারেনি, ঋণ ফেরৎ দেওয়া তো দূরের কথা৷ আর ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পের কর্মকর্তারা সারাক্ষণই এদের বাড়িতে হামলা করতো সুদ আদায়ের জন্য৷

ব্যর্থ বিমলা রাজন

সাত বছর আগে বিমলা রাজন ভেবেছিলেন ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে তিনি আর্থিক সমস্যার হাত থেকে পরিবারকে রক্ষা করবেন৷

Nobelpreisträger Muhammad Yunus bei der Preisverleihung

ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পের কারণে নোবেল পেয়েছেন মুহাম্মদ ইউনূস

তিনি চেন্নাইয়ের একটি বস্তিতে বাস করেন৷ স্থানীয় একটি সমবায় সমিতির সদস্যা সে৷ সেই সমিতির সাহায্যে তিনি ৮৫ ইউরো অর্থাৎ পাঁচ হাজার একশো রুপি ঋণ নেন একটি ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী সংস্থার কাছ থেকে৷ যেহেতু ব্যবসার জন্য বিমলা ঋণ নিয়েছিলেন তাই তিনি সব্জি ব্যবসার কথা বলেন৷ তা না করে পুরো টাকা তিনি খরচ করেন পরিবারের বিভিন্ন কাজে৷ প্রতি সপ্তাহে ঋণের কিস্তি শোধ করছেন তাঁর স্বামী৷ এরপর বিমলা আরো কিছু ঋণ নেন৷ ৮৫ ইউরো এবং পরের বার ৩৪৫ ইউরোর ঋণ৷ এর পাশাপাশি ব্যাঙ্ক থেকে নেন ২৬০ ইউরোর আরেকটি ঋণ৷ বিমলা রাজন বললেন, ‘‘প্রতিমাসে এতগুলো ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে আমাদের সত্যিই ভীষণ সমস্যা হচ্ছে৷ আমি ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী সংস্থা থেকে আরেকটি ঋণ নিয়েছি আগের ঋণটি শোধ করার জন্য৷ এখন সবগুলো ঋণের বোঝা সত্যিই অনেক বেশি মনে হচ্ছে৷''

বিমলার বয়স ৫৫৷ সব মিলে তাঁর কাঁধে ৭০০ ইউরোর ঋণের একট বিশাল বোঝা৷ অথচ গোটা পরিবার মাসে আয় করে মাত্র একশো ইউরো৷ শেষ পর্যন্ত তিনি সব্জির বাগানের দিকে ঝুঁকে পড়েন৷ কিন্তু সেখান থেকে লোকসান ছাড়া আর কিছুই আসেনি৷

এ ধরণের ঘটনায় বিমলা একা নয়৷ ভারতে হাজার হাজার মহিলা রয়েছেন যারা এ ধরণের সমস্যায় ভুগছেন৷ ক্ষুদ্রঋণ সংস্থাগুলো ডানা মেলে রয়েছে গোটা দেশে৷ যে কোন অঙ্কের ঋণ দিতে তারা প্রস্তুত৷ যেহেতু খুব সহজেই এই ঋণ পাওয়া সম্ভব তাই অনেকেই ঝুঁকে পড়ে ঋণ নেওয়ার জন্য৷

India, Silk worker weaving a sari, a dress worn by women in India, bangalore

কিন্তু ভারতের অন্ধ্র প্রদেশে ক্ষুদ্রঋণ সফল নয়

এই সংস্থাগুলো দরিদ্র মানুষের দ্বারে দ্বারে যায় – ঋণের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা জানাতে৷ এত সহজে এত টাকা একসঙ্গে পাওয়া যাবে? – এই লোভে তখন অনেকেই এগিয়ে যায় ঋণ নিতে৷ সবাই মনে করে হাতে টাকা আছে যে কোন ব্যবসা শুরু করা যাবে৷ বিমলা যেখানে থাকে সেখানে আরো অনেক মহিলা জানিয়েছে তাদের ঋণ নিতে সবসময়ই উৎসাহিত করে সংস্থাগুলো৷

প্রয়োজন শিক্ষার, প্রয়োজন প্রশিক্ষণের

অথচ ক্ষুদ্র ঋণের আগে একসময় ‘সেল্ফ-হেল্প' গ্রুপ মডেলে মহিলাদের ঋণ দেওয়া হত৷ তবে তা কখনো একজনকে দেওয়া হত না৷ কয়েকজনকে একসঙ্গে৷ তাই সবারই দায়িত্ব থাকে ঋণ ফেরৎ দেওয়ার৷ ঋণ দেওয়ারও নানা শর্ত পূরণ করতে হতো ঋণগ্রহীতাদের৷

কীভাবে ঋণ দেওয়া হয় বা ঋণের টাকা দিয়ে কী করা হয় – তা জানার কোন উপায় থাকে না৷ চেন্নাইয়ের ‘রাং দে' দাতব্য ক্ষুদ্রঋণ সংস্থায় কাজ করছেন স্মিতা রাম৷ তিনি জানান, ‘‘যেহেতু এই শর্তগুলো দেখে ঋণ দেওয়া অনেক সময়সাপেক্ষ তাই বেশির ভাগ সংস্থা এ ধরণের ঝামেলায় যেতে চাইছে না৷ একজনকে দ্রুত ঋণ দিয়ে সংস্থাগুলো চলে যায় অন্যজনের কাছে৷ আমার মনে হয় অনেক ফাঁক রয়ে গেছে এ ধরণের কাজে৷ আমাদের ঋণগ্রহীতাদের সঙ্গে কথা বলা উচিত৷ ঋণ কী এবং কেন – তা বোঝানো উচিত৷ ব্যবসা কীভাবে শুরু করা যায়, কোন ব্যবসায় সাফল্য আসবে এসব বিষয়ে জ্ঞান দেওয়া উচিত৷''

অন্ধ্র প্রদেশে ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী সংস্থার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি৷ ঋণের দুষ্টচক্র থেকে কেউই বের হয়ে আসতে পারছে না সেখানে৷ দ্বারে দ্বারে যেয়ে ঋণ দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে রাজ্য সরকার৷ অন্যদিকে রাজনীতিকরা প্রকাশ্যেই বলছে, ঋণের অধিকার সবার আছে৷ ফেরৎ দেওয়ার প্রয়োজন নেই৷ এ ধরণের প্রচারণার সমালোচনা করে মাদুরা ক্ষুদ্রঋণ সংস্থার তারা থিয়াগারাজন জানান, ‘‘আমরা অস্বীকার করছি না যে অসৎ উদ্দেশ্যে ঋণ দেওয়া হচ্ছে৷ তাই বলে সবাই যে তা'ই করছে তা কিন্তু নয়৷ ঋণ ফেরৎ দেওয়ার প্রয়োজন নেই – এই ধরণের চিন্তা-ভাবনা ক্ষুদ্রঋণের পুরো ভিত্তিকেই ধ্বংস করবে৷ যদি তা চলতে থাকে তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের হাতে কোন টাকা-পয়সা থাকবে না৷ আমার মনে হয় যে বা যারা ঋণ দেয় তাদেরই উচিত দেখে শুনে ঋণ দেওয়া৷''

প্রতিবেদন: মারিনা জোয়ারদার

সম্পাদনা: অরুণ শঙ্কর চৌধুরী

বিজ্ঞাপন