অন্ত্রের জীবাণুরা কি আমাদের স্বাস্থ্যের ভিত্তি? | বিশ্ব | DW | 24.01.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

অন্ত্রের জীবাণুরা কি আমাদের স্বাস্থ্যের ভিত্তি?

অন্ত্রে যে কোটি কোটি ব্যাকটেরিয়ার বাস, তাদের রকম আর বৈচিত্র্যের সঙ্গে নাকি আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার সম্পর্ক আছে, বলছেন হাইডেলব্যার্গের বিজ্ঞানীরা৷

ম্যাগনিফায়িং গ্লাস দিয়ে দেখলে তবে বোঝা যায়: আমাদের অন্ত্রে কোটি কোটি জীবাণু বাস করে৷ আমরা সুস্থ থাকি বা অসুস্থ হয়ে পড়ি – এ সবই নির্ভর করে এই জীবাণুদের উপর৷ ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর মলিকিউলার বায়োলজির ড. পেয়ার  বর্ক বলেন, ‘‘জীবাণুদের প্রভাব আগে যা ভাবা গিয়েছিল, তার চেয়ে অনেক বেশি৷ আমরা সবে এই ধাঁধার প্রাথমিক টুকরোগুলো জোড়া দিতে শুরু করেছি৷''

পেয়ার বর্ক হাইডেলব্যার্গের আণবিক জীববিজ্ঞান কেন্দ্রে কাজ করেন৷ তাঁর গবেষণার বিষয় হল, আমাদের শরীরের অন্ত্র ও সেখানে বাস করা জীবাণু, যা আমাদের সবচেয়ে অচেনা৷ তিনি জানালেন, ‘‘আমাদের প্রত্যেকের শরীরে দেড় কিলো পরিমাণ ব্যাকটেরিয়া বাস করে৷ মানুষের অন্ত্রকে টেনে বের করলে, তা দু'টো টেনিস কোর্ট ঢেকে দিতে পারে৷ কাজেই আমরা এখানে মানুষ ও জীবাণুর মধ্যে আদানপ্রদানের এমন সব নমুনা দেখি, যা দেখলে চমকে যেতে হয়৷''

পেয়ার বর্ক বলেন, আমদের জীবাণুর প্রয়োজন৷ তাদের কল্যাণে আমরা খাদ্য থেকে পুষ্টি সংগ্রহ করি৷ বর্ক আবিষ্কার করেছেন যে, মানুষ ও তার জীবাণুরা বিভিন্ন ধরণের হয়, তাদের ভিন্ন ভিন্ন গোষ্ঠীতে ভাগ করা যায়৷ ব্লাড গ্রুপের মতো অন্ত্রও তিন ধরনের হয়: অর্থাৎ প্রত্যেক মানুষের খাবার হজম করার প্রক্রিয়া আলাদা, যা নির্ভর করে তার পেটে কী ধরণের ব্যাকটেরিয়া রয়েছে, তার উপর৷

এক বিশেষ ধরণের ইনটেস্টিনাল ফ্লোরা মানুষকে মোটা করে দেয়৷ ইঁদুরদের ক্ষেত্রে তা প্রমাণ করা সম্ভব হয়েছে: একটি মোটা ইঁদুরের পেটের জীবাণু যদি একটি রোগা ইঁদুরকে দেওয়া হয়, তবে রোগা ইঁদুরটাও মোটা হয়ে যায়৷ মানুষদের ক্ষেত্রেও কথাটা সত্যি কিনা, পেয়ার বর্ক ও তাঁর সহযোগীরা তা পরীক্ষা করে দেখতে চান৷ কাজেই তাঁরা মানুষের পেটের জীবাণুদের এক ধরণের আদমশুমারি শুরু করেছেন: এই গণনা থেকে দেখা গেছে যে, মোটা মানুষ আর রোগা মানুষদের পেটের জীবাণুর বৈচিত্র্যে তফাৎ আছে৷ যে সব মানুষের পেটে নানা প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া নেই, তাদের সমস্যা আছে৷

বর্ক বলেন, ‘‘স্থূলতা বা মেদবাহুল্য নিয়ে জরিপ থেকে জানা গেছে যে, মোটা মানুষদের এক-চতুর্থাংশের অন্ত্রে জীবাণুর বৈচিত্র্য কিছুটা কম, যার ফলে তাদের পেটের প্রদাহের ঝুঁকি বেশি – যা খুব ভালো কথা নয়৷''

হাসপাতাল আর বাড়ির তফাৎ

চরম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, জীবাণুমুক্ত পরিবেশ, এ সব হাসপাতালের পক্ষে আদর্শ হলেও, দৈনন্দিন জীবনে তা নিয়ে প্রায়ই বাড়াবাড়ি করা হয়ে থাকে – যা আমাদের ব্যাকটেরিয়া বা আমাদের পক্ষে খুব ভালো নয়৷ বার্লিনের সুবিখ্যাত শারিটে হাসপাতালের গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনাল বিশেষজ্ঞ ব্রিটা জিগমুন্ড-এরও যা মত৷ প্রতিদিন তাঁর কাছে এমন অনেক অপেক্ষাকৃত তরুণ রোগী আসেন, যারা দীর্ঘমেয়াদি পেটের রোগে – বিশেষ করে প্রদাহে ভুগছেন৷ যার পরিণাম একটি ফোলা ও রক্তাক্ত অন্ত্র৷

চিকিৎকরা দেখেন যে, অন্ত্রের প্রদাহ রোগের ক্ষেত্রে অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়াগুলি তাদের ভারসাম্য হারিয়েছে৷ ভালো ব্যাকটেরিয়াগুলি কমে গেছে, খারাপ ব্যাকটেরিয়াগুলির পরিমাণ বেড়েছে৷ এছাড়া সুস্থ মানুষদের তুলনায় ব্যাকটেরিয়ার বৈচিত্র্যও কম৷ গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনাল স্পেশালিস্ট ড. ব্রিটা সিগমুন্ড বলেন, ‘‘কিন্তু অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল এই তথ্য যে, দীর্ঘমেয়াদি পেটের রোগীদের অন্ত্রে ব্যাকটেরিয়ার বৈচিত্র্য তুলনায় কম হয়৷ ব্যাকটেরিয়ার বৈচিত্র্য কমে যায়, যত ধরনের ব্যাকটেরিয়া আছে, তারা কমে যায়৷ সুস্থ মানুষদের ক্ষেত্রে তা অনেক বেশি হয়৷''

অন্ত্রে ব্যাকটেরিয়ার অভাব রোগের কারণ না তার ফলশ্রুতি, তা এখনও স্পষ্ট নয়৷ কিন্তু এটা পরিষ্কার যে, অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া আর মানুষের রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতার মধ্যে কোনো না কোনো সংযোগ আছে৷ ব্রিটা সিগমুন্ড জানালেন, ‘‘অন্ত্রের উপরিভাগটা মেলে ধরলে একটা ফুটবল মাঠের অর্ধেক ঢেকে দেওয়া যায় – যা কিনা প্রায় অবিশ্বাস্য৷ এবং এই উপরিভাগের সর্বত্র ইমিউন সিস্টেমের কোষগুলি রয়েছে৷ তা থেকেই বোঝা যায় যে, মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার একটা বড় অংশ এই অন্ত্রেই রয়েছে৷''

মাস্টিপল স্ক্লেরোসিস, ডায়াবেটিস, এমনকি হৃদরোগের উৎপত্তিও অন্ত্র থেকে হতে পারে, বলে সিগমুন্ডের ধারণা৷ তিনি জানতে চান, অন্ত্রের জীবাণু আর মানুষের রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা কিভাবে পরস্পরকে প্রভাবিত করে ও ইন্টসেটিনাল ফ্লোরা পাল্টে রোগ ভালো করা সম্ভব কিনা – যেমন অন্ত্রের জীবাণুগুলোকে বদলানোর থেরাপি করে৷ সেভাবেই হয়তো ভবিষ্যতে ক্রনিক অসুখবিসুখ সারানো যাবে৷

ভিডিও দেখুন 04:13
এখন লাইভ
04:13 মিনিট

কোনো কোনো জীবাণু আমাদের বাঁচায়?

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন