অনেক দেশের মানুষেরই অনেক কিছু শেখার আছে | বিশ্ব | DW | 03.04.2015
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

অনেক দেশের মানুষেরই অনেক কিছু শেখার আছে

মহানবীর (সা.) পথে কাঁটা ছড়াতেন এক বুড়ি৷ বুড়িকে কীভাবে ‘শিক্ষা' দেয়া হয়েছিল? গালমন্দ করে?নাকি মেরে? সিঙ্গাপুরে ধর্ম এবং দেশের বর্তমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর অবমাননার দায়ে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়৷ এখন তিনি জামিনে মুক্ত৷

Bildergalerie Begräbnis Lee Kuan Yew

লি কুয়ানের মৃত্যুর কারণে সিঙ্গাপুরের অর্ধনমিত জাতীয় পতাকা

পরমতসহিষ্ণুতার অনেক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ধর্মের কাহিনিতেই আছে৷ ইসলাম ধর্মের সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে একটা কাহিনি তো ছোটবেলায় পাঠ্য পুস্তকেই পড়েছি৷ এক বিধর্মী বুড়ি হযরত মুহাম্মদ (সা.) এবং ইসলাম ধর্মকে খুব অপছন্দ করতেন৷ তাই হযরত মুহাম্মদ (সা.) যে পথ দিয়ে যেতেন সেই পথে সব সময় কাঁটা ছড়িয়ে দিতেন৷ হযরত মুহাম্মদ (সা.) সেটা বুঝতে পেরেছিলেন৷ সে কারণে যখনই ওই পথ দিয়ে যেতেন, সাবধানে তো হাঁটতেনই, নিজ হাতে একটা একটা করে কাঁটা তুলে রাস্তাটা অন্য পথচারীদের জন্য সুগমও করে দিতেন৷ এক সকালে সেই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছেন৷ সন্তর্পণে পা ফেলছেন৷ কাঁটা খুঁজছেন৷ কিন্তু একি পথে তো কোনো কাঁটা নেই!

হযরত মুহাম্মদ (সা.) ভীষণ চিন্তিত হয়ে পড়লেন৷ এমন তো হয়না কখনো! বুড়ি প্রতিদিন কাঁটা ছড়িয়ে রাখেন, আজ ছড়াননি কেন? বুড়ি কি তাহলে অসুস্থ?

Symbolbild Kinder Frieden

শান্তি (প্রতীকী ছবি)

দেরি না করে নবীজী (সা.) গেলেন বুড়ির বাড়িতে৷ গিয়ে দেখেন, যা ভেবেছিলেন তা-ই, বুড়ি সত্যিই অসুস্থ৷ যেই বুড়ি তাঁকে কষ্ট দিতে পথে কাঁটা বিছিয়ে রাখতেন, তার রোগযন্ত্রনা দেখে নবীজী (সা.) কিন্তু খুশি হননি৷ বরং মায়ের বয়সি এক নারীর কষ্টে তাঁর মনও কেঁদেছে৷ নবীজী (সা.) নিজে সেবা-সুশ্রুষা করে সারিয়ে তুলেছেন সেই বুড়িকে৷ এভাবে শুধু বুড়ির অসুস্থতাই দূর করেননি, বুড়ির মনে ইসলাম সম্পর্কে যে ভ্রান্তি বা বিদ্বেষ ছিল, তা-ও দূর করেছেন৷ নবীজীর (সা.) মহত্বে, উদারতায় মুগ্ধ হয়ে বিধর্মী বুড়িও তখন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন৷

সিঙ্গাপুরে আমোস ই প্যাং স্যাং ইসলাম ধর্মের জন্য অবমাননাকর কিছু করেননি৷ ৮ মিনিটের এক ভিডিও তৈরি করে ইউটিউবে দিয়েছিলেন ১৬ বছর বয়সি এই ছাত্র৷ ভিডিওচিত্রটির নাম দিয়েছিলেন, ‘অবশেষে মারা গেলেন লি কুয়ান ইউ'৷

লি কুয়ান ইউ আধুনিক সিঙ্গাপুরের রূপকার৷ টানা ৩১ বছর স্বৈরশাসকের মতো শাসন করেছেন দেশটাকে৷ তবে সিঙ্গাপুর ‘স্বপ্নের দেশ'ও হয়েছে তাঁর সময়েই৷ লি কুয়ান ইউ গত ২৩ মার্চ মারা যান৷ অন্ত্যেষ্টি ক্রিয়ার ঠিক আগের দিনই ভিডিওচিত্রটি প্রচার করে বিতর্কের ঝড় তোলেন আমোস ই প্যাং স্যাং৷ লি কুয়ানকে যীশু খ্রিস্টের সঙ্গে তুলনা করে যীশু এবং তাঁকে ক্ষমতালিপ্সুও বলা হয় ভিডিওতে৷ এ ছাড়া এক কার্টুনে খুব আপত্তিকরভাবে তুলে ধরা হয় লি কুয়ান এবং ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারকে৷

Deutsche Welle DW Arun Chowdhury

আশীষ চক্রবর্ত্তী, ডয়চে ভেলে

এভাবে সিঙ্গাপুরের সদ্য প্রয়াত জাতীয় নেতা এবং খ্রিষ্টান ধর্মে সবচেয়ে শ্রদ্ধার পাত্র যীশু খ্রিষ্টকে অশ্রদ্ধা করেও থামেননি আমোস৷ লি কুয়ানের ছেলে, সিঙ্গাপুরের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী লি লুং-এর উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘‘চাইলে আমার বিরুদ্ধে আপনি মামলা করতে পারেন৷''

প্রত্যাশিতভাবেই সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়া, আধুনিক সিঙ্গাপুরের প্রতিষ্ঠাতা লি কুয়ান ইউ-এর অবমাননা এবং অশ্লীলতার অভিযোগে আমোস ই প্যাং স্যাং-এর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে৷ লি কুয়ান ইউ-এর কোনো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বা কট্টর সমালোচকও বলেননি আমোস যা করেছেন ঠিক করেছেন৷ সিঙ্গাপুরে লি কুয়ানের অনুসারী বা অনুরাগীরও অভাব নেই৷ তাঁরাও প্রতিবাদের নামে অস্থিরতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেননি৷ যীশু সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করায় কেউ আমোসের ওপর চড়াও হননি৷ সবাই আস্থা রেখেছেন আইনের প্রতি৷ জামিন নিয়ে আমোসও হাসিমুখেই বেরিয়েছেন আদালত থেকে৷ আদালতের রায়ের পর দেখা যাবে এ হাসি শেষ পর্যন্ত উজ্জ্বল থাকে কিনা৷

আমার মনে হয়, পৃথিবীর অনেক দেশের অনেক মানুষেরই সিঙ্গাপুরের কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন