‘অনিশ্চয়তা আর দুর্ভাবনার চাপে সারা বিশ্বেই সহিংসতা বেড়েছে’ | আলাপ | DW | 11.09.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সাক্ষাৎকার

‘অনিশ্চয়তা আর দুর্ভাবনার চাপে সারা বিশ্বেই সহিংসতা বেড়েছে’

করোনাকালেও কেন সমাজে নিষ্ঠুরতার ছড়াছড়ি? ডয়চে ভেলেকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এর কারণ ব্যখ্যা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এডুকেশনাল অ্যান্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ও টিএসসির পরিচালক অধ্যাপক ড. মেহ্জাবীন হক৷

অধ্যাপক ড. মেহ্জাবীন হক

অধ্যাপক ড. মেহ্জাবীন হক

ডয়চে ভেলে : করোনা মহামারির মধ্যে পারিবারিক নির্যাতন কি বাড়ছে?

অধ্যাপক ড. মেহ্জাবীন হক : বিভিন্ন পত্রিকার খবর ও বিভিন্ন ধরনের পরিসংখ্যান নিয়ে আমরা দেখেছি, হ্যাঁ নির্যাতন বেড়েছে৷ বেড়েছে যে, এটা কিভাবে বোঝা যাবে? করোনার ৬ মাসের সঙ্গে আগের ৬ মাসের একটা পরিসংখ্যান মেলালে দেখা যাচ্ছে আসলেই বেড়েছে৷ যেগুলো রিপোর্টেড হয়েছে, তাতেই কিন্তু বাড়ার চিত্রটা দেখা যাচ্ছে৷ আমরা যারা ক্লায়েন্ট ডিল করি, সেখানেও আমরা দেখেছি, এই ধরনের ক্লায়েন্ট এসেছে৷

কেন পারিবারিক নির্যাতন বাড়ছে?

এটার সঙ্গে অনেকগুলো বিষয় জড়িত৷ করোনা মহামারি হঠাৎ করেই এসেছে৷ এর জন্য আমরা প্রস্তুত ছিলাম না৷ এটা যতটুকু না স্বাস্থ্যগত সমস্যা, তার চেয়েও বেশি মানষিক সমস্যা৷ মানুষের মনস্তত্বে এটা বড় ধরনের আঘাত হেনেছে৷ অনেকের চাকরি চলে গেছে, অনেকের বেতন অর্ধেক হয়ে গেছে৷ যারা বেতন পাচ্ছেন না, তারা এখন অন্য কিছু করে জীবন চালানোর চেষ্টা করছেন৷ অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও বন্ধ হয়ে গেছে৷ যারা প্রাইভেট পড়িয়ে বা কোচিং সেন্টারের মাধ্যমে চলতেন, তাদের আয় বন্ধ হয়ে গেছে৷ আর্থিক কারণে ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা পেয়ে বসেছে৷ এটার জন্য কিন্তু আমাদের ব্রেন প্রস্তুত ছিল না৷ আমরা সেটাকে বলছি, এক ধরনের ট্রমার মধ্যে পড়ে গেছেন অনেকে৷ সবকিছু যখন বন্ধ, তখন ঘরে বসে এগুলো চিন্তা করায় মানুষের মনের উপর একটা বড় ধরনের থ্রেট তৈরি করেছে৷

অডিও শুনুন 09:20

‘একজন মানুষ যখন আতঙ্ক বা দুশ্চিন্তায় থাকেন তখন তার ধৈর্য্যশক্তি কমে যায়’

কেন মানুষের আচরণ এতটা হিংস্র হয়ে যাচ্ছে?

একজন মানুষ যখন ভয়ে থাকেন বা আতঙ্কে থাকেন বা দুশ্চিন্তায় থাকেন, তখন কিন্তু তার ধৈর্য্যশক্তি বা সহ্যক্ষমতা কমে যায়৷ সে অল্পতেই বিরক্তি প্রকাশ করে৷ আমাদের দেশে কতজন মানুষ একটা বড় বাসায় থাকেন? সবাই তো ছোট একটা বাসায় থাকেন৷ সেখানে হয়তো ছাদে যাওয়ার ব্যবস্থা নেই, বারান্দা নেই৷ তারা এন্টারটেইনমেন্ট বাইরে গিয়ে করতেন৷ এখন তো বাইরে যেতে পারেন না৷ সেটাই ছিল তার ইমোশনাল ভেন্টিলেশনের জায়গা৷ ঘরে চার দেওয়ালের মধ্যে যখন তাকে বাধ্য হয়ে থাকতে হচ্ছে, ওই ক'জন মানুষের সঙ্গে সবসময় মিশতে হচ্ছে, তখন ছোটখাটো বিষয়েও বেঁধে যাচ্ছে৷ তখন দেখা যাচ্ছে উগ্র আচরণ করছে৷

আর্থিক সমস্যা কি মানুষের আচরণকে আরো বেশি নিষ্ঠুর করছে?

হ্যাঁ, করছে৷ কিছু মাত্রায় তো করছেই৷ যখন একটা মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা থাকে, তখন সে কিন্তু চিন্তা করছে সামনের সপ্তাহ কিভাবে চলবে? তখন দেখা যাচ্ছে তার কিশোর বয়সের ছেলে বা মেয়েটি মোবাইলে চ্যাট করছে বা মুভি দেখছে, তখন তার মধ্যে বিরক্তির উদ্রেক হচ্ছে৷ একবার, দুইবার হয়তো নিষেধ করছে, তৃতীয়বার গিয়ে হয়তো সে মারামারি শুরু করলো৷ এই জিনিসগুলো কিন্তু হচ্ছে৷ শুধু আমাদের দেশ না, বাইরের দেশগুলোতেও আমরা দেখেছি, ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স কিন্তু বেড়ে গেছে৷

এখন ছোট ছোট ঘটনায়ও মানুষ অনেক বেশি উত্তেজিত হয়ে যাচ্ছেন, কারণ কী?

একটা পরিবারে যদি ৫ জন থাকেন, তাহলে ৫ জন পাঁচ ধরনের সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন৷ যিনি গৃহিনী, তারও সমস্যা অনেক বেড়ে গেছে৷ কারণ, সে-ও কিন্তু একটা রুটিনের মধ্যে থাকতো৷ তার একটা হেল্পিং হ্যান্ড ছিল৷ সে তার মতো করে বাড়ি-ঘর গুছিয়ে রাখতো৷ এখন যেটা হচ্ছে, বাসায় সারাক্ষণ সবাই থাকছে৷ সবাইকে দেখতে হচ্ছে, সবার সার্ভিস দিতে হচ্ছে৷ যখন-তখন ঘর নোংরা করছে, চা-নাস্তা চাচ্ছে৷ এদিকে হেল্পিং হ্যান্ডও নেই৷ ফলে তার উপরও অনেক চাপ এসে গেছে৷ তারপরও সবাই কিন্তু সহিংসতায় যাচ্ছে না৷

মানুষ এখন ঘরে বেশি সময় কাটানোর কারণে কি নির্যাতনটা বেড়ে যাচ্ছে?

হ্যাঁ, এটা তো সত্য৷ দীর্ঘ সময় বাসায় থাকার কারণে মানষিক চাপ বাড়ছে৷ ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তাও আছে৷ দুইজন মানুষ যখন পাশাপাশ বসে একই কথা বলছে, তখন একজনের কথা কিন্তু আরেকজনের অপছন্দ হতেই পারে৷ অন্য সময় হলে এটা হয়ত সে গায়ে নিতো না৷ এখন কিন্তু ব্যাপারটা তার গায়ে লাগছে৷

একসঙ্গে বেশি সময় থাকলে ঝগড়া বেশি হয়, করোনা কি সেটা প্রমাণ করে?

অনেকটাই৷ যারা এটা নিতে পারছে না৷ সবার কিন্তু মানসিক শক্তি একই রকম না৷ সবার সাইকোলজিক্যাল গঠনও এক রকম না৷ এই কারণে যারা নিতে পারছে, ভবিষ্যৎ নিয়ে উৎকন্ঠিত না৷ যারা পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারছে তাদের আচরণ কিন্তু খারাপ হচ্ছে না৷ কারণ, পরিস্থিতি তো আপনার হাতে নেই৷ এর মধ্যে দিয়েই আপনাকে চলতে হবে৷ আমার কী হচ্ছে না, এটা না ভেবে আমি কী করতে পারি সেদিকে যদি মনোনিবেশ করতে পারি তাহলে কিন্তু নিজের ভালো করতে পারি৷ অন্যেরও ভালো করতে পারি৷

তাহলে পারিবারিক নির্যাতন কমানোর উপায় কী?

আমরা সবসময় বলি, সহমর্মিতা নিয়ে আরেকজনের কথা শুনতে হবে৷ আপনি যদি আরেকজনের কথা শোনেন, তাহলে একটা ভালো সমঝোতা, সহমর্মিতা বোধ তৈরি হবে৷ তাহলে নিজেরাই আলোচনা করে ঠিক করতে পারবেন আমরা কিভাবে সবাই মিলে ভালো থাকতে পারি৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন