অনলাইন থেকে অফলাইনে ছড়ায় বিপদ! | বিশ্ব | DW | 17.11.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

মিয়ানমায়ার

অনলাইন থেকে অফলাইনে ছড়ায় বিপদ!

কিছু বিশেষ প্রযুক্তির সাহায্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো ভুয়ো খবর মুহূর্তে সৃষ্টি করতে পারে বাস্তবিক সহিংসতা৷ আর কীভাবে তা ক্রমেই বর্তমান পৃথিবীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হয়ে উঠছে, সেটাই উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণায়৷

মিয়ানমারের এক বৌদ্ধ মহিলা তাঁর সাথে হওয়া ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করতে থানায় যান৷ তিনি বলেন যে স্থানীয় দুই মুসলমান ব্যক্তিদের দ্বারা নিগৃহীত হন তিনি৷ কিছুদিন পর আরেক সন্ন্যাসী যখন এই বিষয়টি ফেসবুকে একটি পোস্টে বিস্তারিত তুলে ধরেন, নতুন করে শুরু হয় অশান্তি৷

এই পোস্টের কারণে পার্শ্ববর্তী মান্ডালে অঞ্চলে সংখ্যাগুরু গোষ্ঠীর মধ্যে টানা দু'দিন ধরে চলে হিংসা৷ সংঘর্ষে দু'জন মারা যান ও ১৯ জন আহত হন৷ সেই অঞ্চলে ফেসবুক কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ করা হলে তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে৷

তদন্ত শেষ হলে জানা যায়, মুসলমানেদের বিরুদ্ধে যে খবর রটানো হয়েছিল তা আদতে সম্পূর্ণ মিথ্যে৷ শুধু তাই নয়, ধর্ষণের অভিযোগ তোলা নারীও পরে স্বীকার করেন যে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করার জন্য টাকা নিয়েছিলেন তিনি৷

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে মিথ্যা খবর ছড়ানো বিষয়ে এটি একটি ছোট্ট উদাহরণ মাত্র৷

মিয়ানমার, যে দেশ থেকে ইতিমধ্যে প্রায় ৭০০,০০০ রোহিঙ্গা মুসলমানেরা ঘরছাড়া হয়ে বাধ্য হয়েছেন অন্যদেশে পাড়ি দিতে, সেই দেশে ফেসবুকের ব্যবহার নিয়ে গবেষণায় প্রকাশ পেয়েছে একটি নতুন তথ্য৷ একটি বিশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, মিয়ানমারে ফেসবুকের মতো অনলাইন যোগাযোগের মাধ্যমে ভুয়ো খবর ছড়ানো ব্যক্তিদের একটি অংশ বাস্তবের অফলাইন দুনিয়াতেও এই কাজে লিপ্ত থাকে৷

ভুল তথ্য ও সহিংসতা

‘বিজনেস ফর সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি' সংস্থার এই রিপোর্ট দেখায় সোশ্যাল মিডিয়া কীভাবে ব্যবহৃত হয় মানুষকে বিভ্রান্ত করতে৷ এই বিভ্রান্তিই পরে হিংসার রূপ নেয়, যা এক গোষ্ঠীকে আরেক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়ায়৷

কিন্তু এই সমস্যা শুধু মিয়ানমারেই সীমিত নয়৷ ভারত, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানির মতো দেশেও রয়েছে এই প্রবণতা৷

জার্মানির ডানপন্থি দল অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি)-র শরণার্থীবিদ্বেষী ফেসবুক পোস্ট করার হারের সাথে সাথে সেখানে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে শরণার্থীদের ওপর অত্যাচার৷ ২০১৮ সালের গোড়ার দিকে যুক্তরাজ্যের ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই গবেষকের কাজ থেকে জানা গেছে এই তথ্য, যা বোঝায় সামাজিক গণমাধ্যমের বাস্তবিক ক্ষমতার গণ্ডীকে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

হিংসার সংস্কৃতি

অনলাইনে ভুল খবর ছড়ানো মানুষেরা বাস্তব জগতে এমন কাজ করেন না, তা মানতে নারাজ বেশির ভাগ গবেষক৷ সাম্প্রতিক সময়ে পাওয়া তথ্য এই প্রবণতাকেই প্রমাণ করে৷

কেউ কেউ এমনও থাকেন যারা অনলাইনের নকল দুনিয়ায় এতই গভীরভাবে ডুবে থাকেন যে ইন্টারনেট আর জীবনের মধ্যে পার্থক্য করতে ভুলে যান৷ এমনটাই মনে করেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারনেট বিশেষজ্ঞ ভরত গণেশ৷ টুইটার ও ফেসবুকে ছড়ানো মিথ্যে খবরের ভিত্তিতেই জার্মানির কেমনিৎস শহরে ৬০০০ মানুষ অতি-ডানপন্থি মিছিলে যোগ দেয়৷ মার্কিস যুক্তরাষ্ট্রের শার্লটসভিলে শোনা গিয়েছিল এমন স্লোগান, যা সেই অঞ্চলের অতি-ডানপন্থি গোষ্ঠীগুলির ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া৷

দর্শককে বেশি সময় ধরে পর্দায় আটকে রাখতে ফেসবুক বা ইউটিউবের মতো ওয়েবসাইট এক ধরনের বিশেষ অ্যালগোরিদমের সাহায্য নেয়৷ আপনি যা দেখতে চাইছেন, ঠিক তাই দেখাতে পারে এই অ্যালগোরিদম৷ কী বিষয়ে জানতে আপনি ঘন ঘন ইন্টারনেট সার্চ করছেন তা থেকে একটি প্যাটার্ন ঠিক করে নিয়ে এই অ্যালগেরিদম সৃষ্টি করবে এক ‘বাবল' বা বুদবুদের৷ এই বাবল দর্শকের কাছে একটি কাল্পনিক দুনিয়ার সমান৷

এ বিষয়ে কনরাড আডেনাওয়ার ফাউন্ডেশনের সন্ত্রাসবাদ-বিরোধ বিশেষজ্ঞ লিন্ডা শ্লেগেল বলেন, ‘‘এই বাবল থেকে ডিজিটাল যুগের সন্ত্রাসী জন্ম নিতে পারে৷ বারবার একই জিনিস দেখতে দেখতে মস্তিষ্ক তাকে সত্য বলে মেনে নেয় এক সময়৷ এভাবেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে মৌলবাদ মাথায় ঢুকে যেতে সক্ষম হয়৷''

ইউটিউবের ক্ষেত্রেও এমনই আরেক অ্যালগোরিদম কাজ করে যা বিশেষ কিছু ভিডিও-র প্রতি দর্শকের পক্ষপাতকে বুঝে নিয়ে কাছাকাছি বিষয়ের অন্যান্য ভিডিও হাতের কাছে এগিয়ে দেয়৷ ফলে প্রায়ই দেখা যায় বিশেষ কিছু ভিডিও অ্যালগোরিদমের জাদুস্পর্শ পেয়ে লক্ষাধিক মানুষের কাছে পৌঁছে গেছে৷

বর্তমান সময়ে বেশি মানুষের কাছে খবর পৌঁছানো মানেই বেশি আয়৷ অনলাইন বিজ্ঞাপনের পেছনে টাকা ঢালা সংস্থাগুলি তাই ব্যস্ত কীভাবে নতুন নতুন সফটওয়্যার বা অ্যালগোরিদমের সাহায্যে বাড়ানো যায় প্রতি ভিডিও বা ফেসবুক পোস্টের নাগাল৷ খবর মিথ্যে হোক বা সত্যি, সবার গুরুত্ব তা আরো বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াটুকুই৷

সে কারণেই মিথ্যে খবর ছড়ানো নিয়ে বাড়ছে গবেষক মহল থেকে প্রশাসন সর্বত্র চিন্তার ছায়া৷

মর্গান মিকার/এসএস

আপনার কী মনে হয় বন্ধু? অনলাইন থেকে অফলাইনে কি সত্যিই ছড়াতে পারে বিপদ? লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন