1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান
ছবি: Imago Images/Zumapress

অনভিজাত দর্শকের চোখে অভিজাত ক্রিকেট

ফয়সাল শোভন
২২ নভেম্বর ২০১৯

১৯৩৯ সাল৷ দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে এসেছে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল৷ ডারবানে চলছে সিরিজের পঞ্চম টেস্ট৷ যতদিন জয়-পরাজয় নির্ধারণ না হবে খেলা চলবে ততদিন৷

https://p.dw.com/p/3TWRQ

ম্যাচ শুরু হলো ৩ মার্চ, চলল ১৪ মার্চ পর্যন্ত৷ তিনদিন খেলা হয়নি বৃষ্টির কারণে৷ ভাবছেন, কে জয়ী হলো? না, নয়দিনেও ফলাফলের দেখা মেলেনি৷ শেষ দিন ইংল্যান্ডের জয়ের জন্য দরকার ছিল ৪১ রান৷ কিন্তু সেটি বাকি রেখেই তাদেরকে পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী জাহাজে চাপতে হয়েছিল৷ খেলাটা যে এতদিন গড়াতে পারে সেটি হয়তো তাদের ভাবনাতেও ছিল না৷ দীর্ঘতম টেস্ট ম্যাচটি তাই পরিসংখ্যানের খাতায় ড্র হয়েই থাকলো৷

একটা সময়ে চার থেকে ছয়দিনের টেস্ট যেমন খেলা হতো তেমনি আবার এমন ‘টাইমলেস' বা বাধাধরা সময়বিহীন ম্যাচও চালু ছিল৷ সময়ের বিবর্তনে সেটি এখন পাঁচদিনে রূপ নিয়েছে৷ কিন্তু তার ভবিষ্যৎ নিয়ে ক্রিকেটপ্রেমী, বোদ্ধা, এমনকি খেলোয়াড়রাও চিন্তিত হয়ে পড়েছেন৷ কীভাবে টেস্টকে আরো আকর্ষণীয় করা যায় তা নিয়ে নানাজন নানা পরামর্শ দিচ্ছেন, নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে বিভিন্ন দেশের ক্রিকেট ক্লাব আর লিগগুলো৷ এর কিছু নিয়ম চালু করেছে সর্বোচ্চ সংস্থা আইসিসিও৷ যেমন, বাংলাদেশ আর ভারতের মধ্যে শুরু হওয়া দিবারাত্রি টেস্টটি৷ এরইমধ্যে অনেকগুলো দেশ অবশ্য গোলাপি বলে খেলে ফেলেছে৷ তাতে টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে নতুন একটা আলোচনা শুরু হলেও সেটি কতটা উত্তেজনা ছড়াতে পারছে তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে৷

DW-Mitarbeiter Porträt Faisal Ahmed
ফয়সাল শোভন, ডয়চে ভেলেছবি: Masum Billah

ক্রিকেটের আমি বোদ্ধাতো নই-ই, খুব আগ্রহী দর্শকও না৷ নিজের দল আর দেশ যখন খেলে তখনই মূলত খেলা দেখা হয়৷ আগ্রহের ক্রিকেটার যেসব দলে খেলেন সময়-সুযোগ হলে তাদের ম্যাচগুলোও দেখি৷ মাঝে মাঝে অবশ্য ইউটিউবে শৈশবের কিংবা অতীতের গ্রেটদের পুরনো খেলার ক্লিপস দেখতেও ভালো লাগে৷

টেস্ট, ওয়ানডে পেরিয়ে ক্রিকেট এখন টি টোয়েন্টির যুগে৷ দর্শক আগ্রহ আর ব্যবসার বিবেচনায় স্বল্প সংস্করণটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সফল সেটি বলা চলে৷ তবে টি-টোয়ন্টির চেয়ে এখনো ওয়ানডেটাই বেশি উপভোগ্য মনে হয়৷ টি-টোয়েন্টি ঠিক আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট যেন হয়ে ওঠে না, শৈশবের পাড়ার খেলার মতোই লাগে৷ ভালো-খারাপ বলের কোনো বালাই নেই, চোখ বন্ধ করে কেবল পেটাও৷ সেদিক থেকে ওয়ানডে ক্রিকেটই ভালো৷ ম্যাচ জয়ের জন্য ব্যাটসম্যান, বোলার, ফিল্ডার সবারই ন্যূনতম নৈপুণ্যের দেখা সেখানে মেলে৷ তবে অনেক ক্রিকেটপ্রেমী অবশ্য ওয়ানডেতেও ঠিক সন্তুষ্ট নন৷ তাদের কাছে প্রকৃত ক্রিকেট আসলে টেস্ট৷

ক্রিকেট নাকি ছিল অভিজাতদের খেলা৷ তবে সেটি ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টি যে নয় তা বলা বাহুল্য৷ আভিজাত্যটি লুকিয়ে মূলত টেস্ট সংস্করণে৷ তার নমুনা মেলে ম্যাচ যখন ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড বা দক্ষিণ আফ্রিকার কোনো ভেন্যুতে হয়৷ দৃষ্টিনন্দন গ্যালারিতে গা এলিয়ে দিয়ে সূর্যস্নান করতে করতে, পরিবার সমেত কিংবা প্রিয়জনকে নিয়ে আয়েশ করে ম্যাচ উপভোগ করা৷ আমার মনে টেস্ট ক্রিকেটের ছবিটা অনেকটা তেমনই৷ ধৈর্য্য ধরে, নিবিষ্ট মনে উচ্চাঙ্গসংগীত উপভোগের মতো করে খেলা দেখা৷ জাকির হোসেনের তবলার সাথে চৌরাসিয়ার বাঁশির যেমন, তেমনি ৷  পাঁচদিন বসে বসে সেটি উপভোগের সুযোগ অবশ্য কতজনেরই বা মেলে৷ আজকের দিনে ব্যাটসম্যান আর বোলারের সেই দ্বৈরথই বা কোথায়!

আমার মতো ক্রিকেটের সাধারণ দর্শকদের কাছে দিনশেষে জয়-পরাজয়ের হিসাবটাই গুরুত্বপূর্ণ৷ আর তাতে শেষমেশ যদি একটা টানটান উত্তেজনা তৈরি হয়, তাহলেই বিনিয়োগকৃত সময় কিংবা পয়সা উসুল৷ সেটির দেখা টেস্টে তো কমই মেলে৷ পাঁচদিনের খেলায় শেষে এসে কয়টা ম্যাচইবা সেই আমেজ ছড়াতে পারে৷ তবে ইদানিংকায় কিছু ম্যাচে এমনটা হয়েছেও বটে৷ কিন্তু অমন দুই-একটা উদাহরণের লোভ দেখিয়ে বেশিরভাগ ম্যাচে পাঁচদিন টিভিসেটের সামনে কিংবা স্টেডিয়ামে বসিয়ে রাখা কি আর সম্ভব! তার চেয়ে ভালো স্কোর জেনে সময় সুযোগ করে শেষটুকু দেখা৷

এমনটা যখন ভাবছি, তখন টেস্ট ক্রিকেটের অতীত গল্পগুলো শুনেও কিন্তু মুগ্ধ হই৷ সত্যিকার অর্থে টেস্ট ক্রিকেট তো আসলে জয়-পরাজয়ের হিসাব নয়৷ বোলারদের সাথে ব্যাটসম্যানদের প্রতিটি বলের যে লড়াই সেটিইতো আসল টেস্ট৷ একপ্রান্তে ডেনিস লিলি, অন্য প্রান্তে স্যার ভিভ রিচার্ডস, মাইকেল হোন্ডিং কিংবা কলিন ক্রফট, অন্যদিক সুনিল গাভাস্কার কিংবা টনি গ্রেগ৷ যেই লড়াইয়ে কখনো বোলার, কখনো জয়ী ব্যাটসম্যান৷ তেমন টেস্ট হলে আমার মতো সাধারণ দর্শকও নিশ্চয়ই খেলা দেখবে৷ না হলে বরংচ ইউটিউবে সেই সময়কার ম্যাচের ক্লিপস দেখে নেয়াই ভালো৷ পিঙ্ক বল হোক, কি খেলা চারদিনের হোক তাতে আমি অন্তত সব ছেড়েছুড়ে নিবিষ্ট মনে দিনব্যাপী টেস্ট দেখার পরীক্ষা দিতে রাজি নই৷ 

প্রিয় পাঠক, আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷ 

 

স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য

এই বিষয়ে আরো তথ্য

আরো সংবাদ দেখান
স্কিপ নেক্সট সেকশন সম্পর্কিত বিষয়
স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

তুরস্কের দিয়ারবাকিরে ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত একটি ভবনের নীচে আটকা পড়াদের উদ্ধারে কাজ করছেন কর্মীরা

তুরস্ক, সিরিয়ায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ২,৬০০ ছাড়িয়েছে

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ

ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ

প্রথম পাতায় যান