অনন্য এক বিশ্বকাপের অপেক্ষা | আলাপ | DW | 28.05.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সংবাদভাষ্য

অনন্য এক বিশ্বকাপের অপেক্ষা

ক্রিকেট বিশ্বকাপকে ‘বিশ্বকাপ’ হিসেইে স্বীকার করতে চাইতেন না সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়৷ প্রয়াত এই সাহিত্যিক বলতেন, ১২-১৪ দলের একটা খেলা কী করে বিশ্বকাপ হয়!

ভাগ্যিস সুনীল বেঁচে নেই! এবার সেই ক্রিকেট বিশ্বকাপ ছোট হয়ে ১০ দলের খেলা হয়ে গেছে৷ এই ঘটনা শুনলে তো ক্রিকেট বিশ্বকাপকে টুর্নামেন্ট বলেই মানতে চাইতেন না সুনীল৷ তবে এই ১০ দলের খেলা বলেই এবার অনন্য এক বিশ্বকাপ দেখতে চলেছি আমরা৷ গত কয়েক আসর ধরে বিশ্বকাপের যে অনিশ্চয়তা দেখে আমরা অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিলাম, সেটা শেষ হতে চলল৷ লিগভিত্তিক এই টুর্নামেন্ট এবার সত্যিই খুজে বের করবে ‘সেরা' দলকে৷ আর এ জন্যই মানতে হবে যে, এই ২০১৯ সালে ইংল্যান্ডে হতে চলেছে স্মরণকালের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী ক্রিকেট বিশ্বকাপ৷ 

১৯৭৫ সালে ৮টি দলকে নিয়ে শুরু হয়েছিল ওয়ানডে বিশ্বকাপ৷ এর মধ্যে ৬টি ছিল আইসিসির পূর্ন সদস্য এবং বাকি দুটি সহযোগী সদস্য দেশ৷ তখন ক্রিকেট খেলুড়ে দেশ এত কম ছিল যে, এটাই বেশ বড় আকারের টুর্নামেন্ট বলে বিবেচিত হয়েছিল৷ তা-ও কিন্তু সব দল সবার সাথে খেলেনি৷ ৮ দলকে দুই গ্রুপে ভাগ করে হয়েছিল আয়োজন৷ ১৯৭৯ সালে ঠিক একই ফরম্যাটে আয়োজিত হয় দ্বিতীয় আসর৷ সবার সাথে সবার দেখা হলো না৷ ১৯৮৩ সালের তৃতীয় আসরেও ৮টি দল দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলল৷ ১৯৮৭ সালের চতুর্থ আসরেও দেখা গেল একই ঘটনা৷ ১৯৯২ সালে এসে প্রথম বিশ্বকাপের ফরম্যাট বদলায়৷

১৯৯২ বিশ্বকাপকে বলা যায় এবারের বিশ্বকাপের প্রকৃত পূর্বসুরী৷ সেবার বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল ৯টি দল৷ সবার সাথে সবার খেলা হলো৷ এরপর সেরা চারটি দল সরাসরি খেলল সেমিফাইনাল৷ সেই সময়ই একটা প্রস্তাবনা ছিল যে, ক্রিকেট যেহেতু কম দেশের খেলা, এই ফরম্যাটটাই ধরে রাখা হোক৷ কিন্তু ১৯৯৬ সালে আবার ফরম্যাটে পরিবর্তন এলো৷

ততদিনে জগমোহন ডালমিয়াদের কল্যাণে ক্রিকেটের গায়ে বিশ্বায়নের বাতাস লেগেছে৷ ফলে ক্রিকেটকে ছড়িয়ে দেওয়ার একটা মন্ত্র নিয়ে ১৯৯৬ সালে বিশ্বকাপের আসর বসলো দক্ষিণ এশিয়ার তিন টেস্ট খেলুড়ে দেশে৷ অংশগ্রহনকারী দেশের সংখ্যা এক লাফে বেড়ে হলো ১২৷ দুই গ্রুপে ৬টি করে দল খেললো৷ ফলে সবার সাথে সবার খেলার যে ধারা ১৯৯২ সালে দেখা গিয়েছিল, সেখান থেকে আবার সরে এলো বিশ্বকাপ৷ ১৯৯৬ ও ১৯৯৯ সালে ১২ দলকে নিয়ে দুই গ্রুপের খেলা হলো৷ এরপর ২০০৩ সালের বিশ্বকাপে দল বাড়লো আরো দুটো৷ ১৪ দল এবার দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে খেললো৷

২০০৭ সালে একেবারে আনকোরা, মোড়কভাঙা এক পদ্ধতির বিশ্বকাপ দেখলো ক্রিকেটবিশ্ব৷ ১৬ দলের টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হলো ওয়েস্ট ইন্ডিজে৷ এবার ৪টি গ্রুপে অনুষ্ঠিত হলো খেলা৷ প্রত্যেক গ্রুপের সেরা দুই দল গেল পরের রাউন্ডে; নাম দেওয়া হলো-সুপার এইট৷ এই ‘সুপার এইট'-এর সব দল সবার সাথে খেললো৷ এখান থেকে সেরা ৪ দল গেল সেমিফাইনালে৷ সেটা ছিল ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ৷ বিশ্বায়নের পর্বে যাঁরা ছিলেন, তাঁরা বললেন, এটাই বিশ্বকাপের সেরা মডেল৷ কিন্তু এই মডেল থেকে সরে এলো আইসিসি৷

 

২০১১ সালে আবারও সেই ২০০৩ সালের ফরম্যাটে ফিরে গেল উপমহাদেশের বিশ্বকাপ৷ ১৪ দল দুই গ্রুপে অংশ নিলো৷ তবে এবার বাড়তি হিসেবে যোগ হলো কোয়ার্টার ফাইনাল৷ ২০১৫ সালে, মানে সর্বশেষ আসরটিতেও হলো এই একই ধরনের বিশ্বকাপ৷ কিন্তু ২০১৯ সালের জন্য আইসিসি হঠাত্‍ করে দলসংখ্যা কমিয়ে একেবারে নব্বই দশকের শুরুতে চলে গেল৷ আর ফরম্যাটও করা হলো রবিন লিগ পদ্ধতির৷ 

এখন ক্রিকেট বিশ্ব এই বিশ্বকাপ নিয়ে দুই ভাগে বিভক্ত৷ এক দল মনে করেন, ক্রিকেটের মতো স্বল্প বিস্তৃত খেলার জন্য এটাই আদর্শ ফরম্যাট৷ কারণ, এখানে সবার সাথে সবার খেলা বলে অঘটন ঘটার সম্ভাবনা কম৷ ফলে সত্যিকারের সেরা চারটি দলই সেমিফাইনালে যাবে৷

আবার ক্রিকেট ছড়িয়ে দেওয়ার পক্ষে যাঁরা কথা বলেন, তাঁরা বলেন, ক্রিকেটের সৌন্দর্যটাই এই ফরম্যাটের কারণে নষ্ট হয়ে গেছে৷ অঘটন ঘটার সম্ভাবনা শেষ করে দেওয়াতে একটা আয়ারল্যান্ড বা জিম্বাবোয়ের উত্থান দেখা কঠিন হয়ে গেছে বিশ্বকাপে৷ ২০০৭ বা ২০১১ বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ড যেভাবে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল পাকিস্তান বা ইংল্যান্ডকে হারিয়ে, সেটা এবার আর দেখা যাবে না৷ শুধু আয়ারল্যান্ড কেন, জিম্বাবোয়ের মতো ক্রিকেটের পুরোনো দলও এবার রয়ে গেল বিশ্বকাপের বাইরে৷

শচীন টেন্ডুলকার থেকে শুরু করে বিভিন্ন সাবেক-বর্তমান ক্রিকেটার তাই এই ফরম্যাটের সমালোচনা করেছেন৷

তবে সমালোচনা থাক আর প্রশংসা থাক; এটা মানতেই হবে যে, এই বিশ্বকাপ অন্য যে কোনো আসরের চেয়ে আলাদা হতে চলেছে৷ সেটা শুধু ফরম্যাটের জন্য, তা নয়৷ আরো কিছু বিচারের জায়গা আছে৷ এবার বিশ্বকাপ ইংল্যান্ডে অন্যরকম রান উত্‍সবের একটা বিশ্বকাপ হওয়ার কথা৷

ইংল্যান্ডে এই নিয়ে পঞ্চমবারের মতো বিশ্বকাপ হচ্ছে৷ প্রথম তিন বার বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল ইংলিশরা৷ তখন ইংল্যান্ড থেকে বিশ্বকাপকে বের করার জন্য এশিয়াভিত্তিক একটা রাজনৈতিক সক্রিয়তাও হয়েছিল, যার অংশ হিসেবেই জন্ম নিয়েছিল এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল৷ এরপর আবর্তন নীতিতে বিশ্বকাপ আয়োজিত হতে থাকে৷ সেই নীতিতে ১৯৯৯ সালে আবারও বিশ্বকাপ হয়েছিল যুক্তরাজ্যে৷ কিন্তু এই ক্রিকেটের ‘মাতৃভূমিতে' কখনোই বিশ্বকাপ ঠিক রান উত্‍সবের আসর হয়ে ওঠেনি৷ এবার সেটা হওয়ার খুব সম্ভাবনা আছে৷ 

ইতিমধ্যে বিশ্বকাপের আগে যুক্তরাজ্যে যেসব ওয়ানডে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হচ্ছে, সেখানে পাকিস্তান, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, আয়ারল্যান্ড, বাংলাদেশ রান উত্‍সব করছে৷ ফলে বিশ্বকাপেও যে সেটা হবে, তাতে খুব একটা সন্দেহ নেই৷ 

Debabrata Mukhopadhyay - Journalist

দেবব্রত মুখোপাধ্যায়, ক্রীড়া সাংবাদিক

ইংল্যান্ড বলতে এক সময় মনে করা হতো বোলারদের খেলা৷ বিশেষ করে গ্রীষ্মের এই সময়ে সেখানে বল নড়াচড়া করবে, দারুণ সুইং থাকবে; এগুলোই সত্যি ছিল৷ কিন্তু ইংল্যান্ডে টি-টোয়েন্টি আসার পর থেকে সেখানে উইকেটের সেই মজাটা চলে গেছে৷ এখন ইংল্যান্ডে টেস্টেও ব্যাটসম্যানদের খেলা হয়৷ ফলে ওয়ানডে এখন সেখানে রীতিমতো বোলারদের বধ্যভূমি৷

বিশ্বকাপে তিন শ রানটাই বিরাট ব্যাপার৷ কিন্তু এবার বিশ্বকাপে সাড়ে তিন শ' নিয়মিত স্কোর হয়ে উঠলেও তাই অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না৷

তবে মজাটা হলো, সবটাই তো আর কিউরেটরের হাতে নেই৷ কিছুটা প্রকৃতির হাতেও আছে৷ এই সময়ে মাঝে মাঝেই ইংল্যান্ডের আকাশ ভারী হয়ে উঠবে৷ মেঘে ঢাকা আকাশে যতই বোলারদের বিরোধী উইকেট হোক, কিছুটা সুইং তো দেখা যাবেই৷ তাই ব্যাটসম্যানদের পরীক্ষার জন্যই অপেক্ষা করা যাক৷

অপেক্ষা করা যাক সত্যিই অনন্য এক বিশ্বকাপের জন্য৷

প্রিয় পাঠক, আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন