অতীত ঝেড়ে ফেলে নতুন সাজে কিয়েভ | অন্বেষণ | DW | 27.10.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

অতীত ঝেড়ে ফেলে নতুন সাজে কিয়েভ

সোভিয়েত আমলের স্মৃতিচিহ্ন সরিয়ে ফেলে নতুন সাজে সেজে উঠছে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ৷ এক জার্মান শিল্পীও সেই উদ্যোগে শামিল হয়েছেন৷ কিন্তু বিষয়টি নিয়ে তর্ক-বিতর্কেরও শেষ নেই৷

এমানুয়েল জারুস একজন শিল্পী৷ তাঁর পূর্বপুরুষরা ইউক্রেন থেকে এসেছিলেন৷ এবার তিনি সোভিয়েত আমলের বোঝা সরিয়ে কিয়েভ শহরের ‘সিটিস্কেপ’ বা সার্বিক চেহারা নতুন করে সাজাতে সহায়তা করতে চান৷ গোটা শহরে সে আমলের বারান্দাহীন ভবনগুলির অবয়বের নবায়ন চলছে৷ এই প্রক্রিয়ার গভীর রাজনৈতিক মাত্রা রয়েছে৷

ক্রেনচালক ভিক্টর সেই কাজে সব সময়ে শিল্পীদের সহায়তা করছেন৷ সেই ক্রেন ছাড়া তাঁরা এমন উচ্চতায় কাজ করতে পারতেন না৷ এমানুয়েল জারুস বলেন, ‘‘১০০ বছর ধরে এটা শুধু দেওয়াল ছিল৷ আজ মানুষ অনেক খোলামেলা হয়ে উঠেছে৷ আজ এতকাল পর সেই জায়গায় জানালা আঁকা হচ্ছে, যা দেশের বর্তমান মুক্তির প্রতীক৷’’

ভিডিও দেখুন 03:31
এখন লাইভ
03:31 মিনিট

নতুন সাজে কিয়েভ

শহরকে উন্মুক্ত করার এই প্রক্রিয়ার অংশ হতে পেরে এমানুয়েল অত্যন্ত গর্বিত৷ এ যেন নতুন পরিচয় দেওয়ালের উপর উলকি এঁকে ফুটিয়ে তোলার মতো অভিজ্ঞতা৷ রাশিয়া ও সোভিয়েত যুগের সম্পর্কের ইতিহাস থেকে বিচ্ছিন্ন হতেও এই প্রক্রিয়া জরুরি৷ এমানুয়েল বলেন, ‘‘এখনো সোভিয়েত আমলের এত ছাপ সত্যি বেশ রোমাঞ্চকর৷ সে সব যেভাবে ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে যাচ্ছে, তা দেখেও ভালো লাগছে৷ আধুনিক শহর হয়ে ওঠার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে৷ মানুষ নতুন কিছু গ্রহণ করতে চায়৷ স্ট্রিট আর্ট দিয়ে সেই লক্ষ্য পূরণ করার চেষ্টা আধুনিক ও অসাধারণ৷’’

দেওয়ালচিত্র আসলে শিল্পকে গ্যালারিতে আবদ্ধ না রেখে সবার জন্যই উন্মুক্ত করছে৷ খোলা আকাশের নীচে প্রদর্শনীর মতো৷ শিল্পীদের সংঘের কাছে এই বিষয়টি ছিল অত্যন্ত জরুরি৷ কিয়েভের ময়দানের বিপ্লবের মূলমন্ত্রের সঙ্গে এই উদ্যোগের যোগসূত্র রয়েছে৷

অন্যদিকে বিগত যুগের দিকে ফিরে তাকাতে ভালবাসেন ইউক্রেনের আলোকচিত্রী এভগেনেই নিকিফোরভ৷ তিনি সাবেক সোভিয়েত আমলের ছাপ ক্যামেরাবন্দি করতে চান৷ সোভিয়েত ইউনিয়নের স্ট্রিট আর্ট৷ পুরানো আমলের দেওয়ালের মোজাইক ডিজাইন৷ উধাও হয়ে যাবার আগে সেগুলি ক্যামেরাবন্দি করতে তিনি গোটা দেশ চষে বেড়ান৷ এখনই অনেক কিছু বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে৷ এভগেনেই বলেন, ‘‘এই মোজাইক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷ এগুলি আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের ইতিহাসের অঙ্গ – এমনকি আমার প্রজন্মের কাছেও৷ এগুলি সৃষ্টির সময় আমরা ছিলাম না৷ আমাদের ইতিহাসের এই অংশ বাঁচিয়ে রাখা অত্যন্ত জরুরি৷ বাস্তবে সম্ভব না হলেও ফটোগ্রাফির মাধ্যমে তা করা উচিত৷’’

এর মধ্যে কিয়েভ শহরে নতুন দেওয়ালচিত্র প্রায় প্রস্তুত৷ এগুলি বিপ্লবের চেতনা বাঁচিয়ে রাখবে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে৷ শান্তির বার্তা ও বৈপ্লবিক স্বপ্নের ছবিগুলি বার বার সমাজে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠছে৷ যেমন প্রবীণ শহরবাসী নাটালিয়া মনে করেন, ‘‘পুরানো আমলের কমিউনিস্ট প্রতীকগুলি দ্রুত সরিয়ে ফেলা উচিত বলে আমি মনে করি৷ আমি নিশ্চিত, যে সেই পথে আর ফেরা হবে না৷ এখন শুধু সামনের দিকে তাকানো উচিত৷’’

বেশিরভাগ মানুষের মতে, সোভিয়েত জমানা ইউক্রেনের অংশ থেকে যাবে বটে, কিন্তু সেই স্মৃতি বড় বেশি আগ্রাসী মনোভাবে ভরা৷

বির্গিট ভিয়ননিশ/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন