অতীতের শত্রু, বর্তমানে বন্ধু | বিশ্ব | DW | 05.11.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বিশ্ব

অতীতের শত্রু, বর্তমানে বন্ধু

ফ্রান্সের সীমান্ত-শহর স্ট্রাসবুর্গে এক কনসার্টে দেখা ফ্রান্স ও জার্মানির প্রেসিডেন্টের৷ প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় এই দু'টি দেশ একে অপরের বিরুদ্ধে লড়লেও যুদ্ধের একশ' বছর পরের এই সাক্ষাৎ শান্তির ও বন্ধুত্বের বার্তা বয়ে আনে৷

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়া উপলক্ষে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ বর্তমানে ছয় দিনের ইউরোপ সফরে রয়েছেন৷ এই সফরে তিনি সেই সময়ের গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্রগুলি ঘুরে দেখবেন৷

কিন্তু সফর শুরুর আগেই প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়ের ‘শত্রু-রাষ্ট্র' জার্মানির বর্তমান রাষ্ট্রপতি ফ্রাঙ্ক ভাল্টার স্টাইনমায়ারের সাথে এক কনসার্টে  দেখা করেন মাক্রোঁ৷ বন্ধুত্ব উদযাপনের এই কনসার্ট ফ্রান্সের সীমান্তে অবস্থিত স্ট্রাসবুর্গ শহরে আয়োজিত হয়৷ ইউরোপের দুই বিখ্যাত সুরস্রষ্টা জার্মান লুডভিগ ফন বেটোফেন ও ফরাসি ক্লদ ডেবুসি'র সুরে সাজানো হয় শান্তির প্রতীক এই কনসার্ট৷

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ১৯১৪ সালে শুরু হয়ে শেষ হয় ১৯১৮ সালে৷ চার বছর ধরে চলা এই যুদ্ধে নিহত হন ১৪ লক্ষ ফরাসি ও ২০ লক্ষ জার্মান সৈনিক৷

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে শান্তি আলোচনা এখনো গুরুত্বপূর্ণ৷ যুদ্ধ যখন ১৯১৮ সালে শেষ হয়, তখন শান্তির বদলে নেমে এসেছিল বিদ্রোহ, চরম ডান-বাম বিরোধ ও বহু বছর ধরে চলা দুর্ভিক্ষ ও দারিদ্র্যের পরিস্থিতি৷ এমন অবস্থার সুযোগ নিয়েই পরবর্তীতে উত্থান ঘটে নাৎসি শক্তির ও বিশ্বজুড়ে শুরু হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রস্তুতি৷

সে কারণেই প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অনেক পরে জন্মালেওযুদ্ধের ক্ষতিকর দিকগুলিভালো করেই জানেন মাক্রোঁ৷

গত সপ্তাহে একটি ফরাসি পত্রিকায় দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জাতীয়তাবাদকে কুষ্ঠরোগের সঙ্গে তুলনা করেন৷ যেভাবে শরীরের একটি অংশ থেকে এই রোগ ধীরে ধীরে গোটা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে, সেভাবেই বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধের প্রবণতাকে ব্যাখ্যা করে মাক্রোঁ আরো বলেন, ‘‘দুটি বিশ্বযুদ্ধের মাঝের বছরগুলির সাথে বর্তমান সময়ের প্রচুর মিল আছে৷''

রবিবারের এই কনসার্টের হাত ধরেই সূচনা হলো মাক্রোঁর নানা কূটনৈতিক সাক্ষাতের ধারা৷ আগামী শুক্রবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে'র সাথে ইংল্যান্ডের যুদ্ধক্ষেত্রগুলি পরিদর্শন করবেন মাক্রোঁ৷ শনিবার জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের সাথেও তাঁর দেখা হওয়ার কথা৷১১ই নভেম্বর, যুদ্ধ শেষ হবার ঠিক একশ' বছর পর প্যারিসে অবস্থিতপ্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রতীক‘আর্ক দ্য ট্রিয়োম্পফ'-এ ব্যাপক উদযাপনের আয়োজন করা হয়েছে৷ এই উদযাপনে  রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুটিন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও যোগ দিতে পারেন৷

এরপর, তিনদিনব্যাপী একটি ‘শান্তি অধিবেশন'-এর আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে উদ্বোধনী বক্তব্য পেশ করবেন জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল৷

এসএস/এসিবি (রয়টার্স/এএফপি/ডিপিএ)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন