অতীতের ভেষজ ভবিষ্যতেও কাজে লাগতে পারে | অন্বেষণ | DW | 28.11.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

অতীতের ভেষজ ভবিষ্যতেও কাজে লাগতে পারে

মধ্যযুগে ইউরোপীয়রা প্রকৃতির রোগ নিরাময়ের ক্ষমতা ও ভেষজ হিসেবে জড়িবুটির উপযোগিতার কথা জানতেন৷ অতীতের হারানো জ্ঞানভাণ্ডার উদ্ধার করার চেষ্টা করছেন আধুনিক গবেষকরা৷

ইংরেজি নাম মেরিগোল্ড, এক গাঁদা জাতীয় ফুল৷ এই ফুলের পাঁপড়িতে এমন সব পদার্থ আছে, যা কাটাছেঁড়া বা প্রদাহ কমাতে পারে৷ জার্মানিতে এ ধরনের ফুল, ঘাসপাতা বা জড়িবুটিকে বলে ‘হাইলক্রয়টার' – রোগ সারানোর জড়িবুটি৷ যুগ যুগ ধরে মানুষেরা তাদের অভিজ্ঞতা থেকে এই সব জড়িবুটির কার্যকারিতা সম্পর্কে জ্ঞান সংগ্রহ করেছেন৷ কিন্তু সেই জ্ঞানভাণ্ডারের অনেকটাই আজ বিস্মৃতির অতলে৷

ইতিহাসবিদ, চিকিৎসক, উদ্ভিদবিজ্ঞানী, সকলেই সেই হারানো মানিক ফিরে পেতে আগ্রহী৷ ইওহানেস মায়ার ও তাঁর সতীর্থরা ‘ক্লোস্টারমেডিৎসিন' বা ‘মঠের ওষুধ' নামের একটি গবেষণা গোষ্ঠীর সদস্য৷সুপ্রাচীন গ্রন্থাগারগুলির পুরনো পাণ্ডুলিপি ঘেঁটে মধ্যযুগের ভেষজশাস্ত্রের রহস্য উদ্ধার করার চেষ্টা করেন তারা৷

ভেষজশাস্ত্রের ইতিহাসবিদ ইওহান্নেস মায়ার বলেন, ‘‘সেটা একটা নতুন মহাদেশ আবিষ্কার করার মতো অনুভূতি৷ আমি যখন এক হাজার বছরের পুরনো একটা বই হাতে নেই, তখন মনে হয়, আমি যেন সরাসরি ইতিহাসে ডুব দিচ্ছি৷ হয়তো গত ৪০০ বছর ধরে কেউ এই বইটার পাতা খোলেনি, এটা ভাবলে গায়ে কাঁটা দেয়৷''

জড়িবুটি 

গবেষকরা প্রায়ই অতীতের এমন সব তথ্যের খোঁজ পান, যা তাদের চমকে দেয়৷ বুনো হপ নামের একটি জড়িবুটি মধ্যযুগে ব্যবহার করা হত ব্যথা সারানোর কাজে – আজ তা সকলে ভুলে গেছে৷ মায়ারের ভাষ্যে, ‘‘আমরা দেখতে চাই, অতীতের এই জ্ঞানভাণ্ডার আজও কাজে লাগে কিনা৷ আমাদের আশা, আমরা সুপরিচিত জড়িবুটির সম্পূর্ণ নতুন ধরনের প্রয়োগের সন্ধান পাব, কেননা অতীতে এই সব জড়িবুটি অন্যান্য রোগ সারানোর কাজে ব্যবহার করা হত৷''

বিশ্বাস করা শক্ত, কিন্তু ল্যাভেন্ডারের মতো জড়িবুটি ভাইরাস, ফাংগাস বা ব্যাক্টেরিয়া রুখতে পারে৷ ইওহান্নেস মায়ার ও তাঁর সতীর্থরা দেখতে চান, অন্যান্য পুরনো ভেষজের কোনো অ্যান্টিবায়োটিক প্রভাব আছে কিনা৷

উদ্ভিদদের রোগ সারানোর ক্ষমতা হল তাদের আত্মরক্ষার কৌশলের অঙ্গ৷ মায়ার ব্যাখ্যা করলেন: ‘‘গাছেরা দৌড়ে পালাতে পারে না, কিন্তু মানুষের মতো তাদের একই শত্রুর সঙ্গে যুদ্ধ করতে হয়, অর্থাৎ জীবজন্তু, জীবাণু, ভাইরাস বা ফাংগাসের সঙ্গে৷ সেই কারণে উদ্ভিদরা এমন সব প্রতিষেধক উদ্ভাবন করেছে, যার কল্যাণে তারা আগ্রাসনের হাত থেকে নিজেদের বাঁচাতে পারে৷ আমরা ঠিক সেই পদার্থগুলোকেই রোগ সারানোর কাজে ব্যবহার করতে পারি৷''

মধ্যযুগের ‘চা'

হার্বাল টিবা ইনফিউজন প্রস্তুতকারক মার্টিন বাউয়ার কোম্পানির পরীক্ষাগারে রসায়নবিদরা মধ্যযুগের প্রেস্ক্রিপশান থেকে যতদূর নিখুঁতভাবে সম্ভব তাদের জড়িবুটির চা তৈরি করেন৷ এই চায়ের উপাদান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে, শত শত বছর আগেও মানুষজন উদ্ভিদের অ্যান্টিবায়োটিক ক্ষমতার কথা জানতেন৷

জার্মানির হার্বাল টি বিশেষজ্ঞদের কদর দুনিয়া জুড়ে৷ সদ্য তাঁদের উপদেষ্টা হিসেবে ইস্তানবুল থেকে ডাক এসেছে৷ আরব পণ্ডিত ইবনেসিনা জড়িবুটি চিনতেন; তাঁর সম্মানে ইস্তানবুলে যে ভেষজ জড়িবুটির বাগান প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, তা গড়ে তোলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জার্মান বিশেষজ্ঞদের৷ ইবনেসিনা হাজার বছরের বেশি আগে যে সব জড়িবুটি ব্যবহার করতেন, তা আজ সুলতানের প্রাসাদের পাশেই দেখতে পাওয়া যায়৷ মায়ার বললেন, ‘‘আরব ও ইউরোপীয় ভেষজশাস্ত্রের মধ্যে অনেক মিল আছে৷ উভয় ঐতিহ্যের ভিত্তি হল গ্রিক চিকিৎসাবিদ্যা৷ উভয় প্রথার পণ্ডিতদের মধ্যে বহুকাল ধরে আদানপ্রদান চলেছে৷ আমাদের নিজেদের ঐতিহ্য বোঝার জন্য ইবনেসিনা ও অন্যান্য আরব পণ্ডিতেরা অতীব গুরুত্বপূর্ণ৷''

ইওহানেস মায়ার ও তাঁর সতীর্থরা অতীতের জ্ঞানভাণ্ডারকে বর্তমানে কাজে লাগানোর নতুন নতুন পন্থার সন্ধানে আছেন৷ নানা ধরনের নতুন হার্বাল টি তৈরি করেছেন তাঁরা৷ প্রকৃতির রোগ নিরাময়ের ক্ষমতা বোঝার জন্য সুদূর অতীতে নজর দেওয়াটা দৃশ্যত তাদের কাজে লেগেছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

বিজ্ঞাপন