অঙ্গই রাজনীতির ভিত | আলাপ | DW | 30.07.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ব্লগ

অঙ্গই রাজনীতির ভিত

রাজনৈতিক দলের অঙ্গ সংগঠনের বহর বেড়েই চলেছে৷ কারো গুরুত্ব খুব বেশি, কোনোটার তুলনায় কম৷ তবে উপেক্ষা করার মতো নয়৷

বছর তিনেক আগের কথা৷ সেই সময়ের বিজেপি সভাপতি এবং বর্তমানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব তার বাবা মুলায়মকে চড় মেরেছিলেন বলে একটি খবর সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়৷ খবরটা সত্যি ছিল না৷ অমিত শাহ বলেছিলেন, এই খবর ভাইরাল হওয়ায় বিজেপি-র কিছুটা রাজনৈতিক সুবিধা হয়৷ কিন্তু এরকম মিথ্যা খবর প্রচার করা ঠিক নয় বলে তিনি দলের আইটি সেলের কর্মীদের সাবধান করে দিয়েছিলেন

বিজেপি-র আইটি সেলের এক শীর্ষ কর্তা একবার কথাপ্রসঙ্গে আমায় জানিয়েছিলেন, কোনো খবর ভাইরাল করতে, সারা ভারতে ছড়িয়ে দিতে তাদের আধঘণ্টা সময় দরকার হয়৷ বিরোধীরা কোনো অভিযোগ করেছে৷ তার জবাব সহ পাল্টা অভিযোগ সারা ভারতে ছড়িয়ে দিতেও আধঘন্টার বেশি সময় লাগে না৷ সেটাও শুধু হিন্দি বা ইংরেজি নয়, ভারতের সব ভাষায় দলের কথা ছড়িয়ে পড়বে৷ সেই পরিকাঠামো, প্রশিক্ষিত কর্মী, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষতা দলের আছে৷ সেই জন্যই এখন দলের শাখা বা অঙ্গ সংগঠনগুলির মধ্যে সব চেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় আইটি৷ সামাজিক মাধ্যমে দলের কথা ছড়িয়ে দেয়া এবং বিরোধীদের আক্রমণ করা, তাদের প্রচার ভোঁতা করে দেয়ার গুরুদায়িত্ব তাদের কাঁধে৷

সে জন্যই দিল্লির দীনদয়াল উপাধ্যায় মার্গের ঝাঁ চকচকে প্রসাদোপম বিজেপি-র সদর দফতরের একটা তলার অনেকখানি জায়গা আইটি সেলকে দেয়া হয়েছে৷ সাধারণ মানুষ অন্য কোনো শাখা সংগঠনের নাম জানুক না জানুক রাজনৈতিক দলগুলির আইটি সেলের নাম জানে৷ বিজেপি-র আইটি সেলের প্রধান অমিত মালবীয়র নামও সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে গেছে৷ পশ্চিমবঙ্গে তো তাকে ভোটের দায়িত্বেও নিয়োগ করা হয়েছিল৷ শুধু বিজেপি নয়, কংগ্রেস, তৃণমূল, ডিএমকে, এসপি--যে পার্টির নাম নিন, সব জায়গায় প্রশিক্ষিত আইটি কর্মীদের নিয়ে গড়ে উঠেছে আইটি সেল৷ এই অঙ্গ সংগঠন ছাড়া ভারতে রাজনৈতিক দল এখন অচল৷ ভোটের সিংহভাগ প্রচারই তো এখন সামাজিক মাধ্যমেই হচ্ছে৷ তাই সব প্রার্থী তাদের নির্বাচনকেন্দ্রে সামাজিক মাধ্যমের দায়িত্ব দিয়ে বেশ কয়েকজন কর্মীকে নিয়োগ করেন৷ একটা রাজনৈতিক দলে অঙ্গ সংগঠনের গুরুত্ব কতটা তা বোঝাতে এই একটা উদাহরণই যথেষ্ট৷

গৌতম হোড়, ডয়চে ভেলে

গৌতম হোড়, ডয়চে ভেলে

ভারতে বড় রাজনৈতিক দলের কতগুলি অঙ্গ সংগঠন আছে, তা সাধারণ মানুষ তো দূরস্থান, দলের নেতারাই চট করে বলতে পারবেন না৷ মোদী-শাহের আমলে তো প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পেশার মানুষদের কাছে টানতে একটা করে সেল তৈরি হয়ে গেছে৷ কংগ্রেসও পিছিয়ে নেই৷ এমনকি তৃণমূলসহ আঞ্চলিক দলগুলিরও অজস্র অঙ্গ সংগঠন৷ নির্দিষ্ট পেশা, বর্ণ, সম্প্রদায়, লিঙ্গের মানুষদের পাশে পেতে, তাদের দলের সঙ্গে যুক্ত করতে,প্রভাবিত করতে সেলের জুড়ি নেই বলে রাজনৈতিক দলগুলির বিশ্বাস৷ তাই প্রতিটি রাজনৈতিক দলেই অজস্র সেল তৈরি হয়েছে ও হচ্ছে৷ তার সবকটিই যে আইটি সেলের মতো অতটা গুরুত্বপূর্ণ এমন নয়৷ কিন্তু নির্দিষ্ট পেশা, সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে পৌঁছতে, তাদের দলে নিয়ে এসে পদ দেওয়ার ক্ষেত্রে অঙ্গ সংগঠনের কোনো জুড়ি নেই৷

বিজেপি-র কথাই ধরা যাক৷ যুব, সংখ্যালঘু, তফসিলি জাতি ও উপজাতি, নারীদের জন্য অঙ্গ সংগঠন তো আছেই সেই সঙ্গে আছে চিকিৎসক, মৎস্যজীবী, সিএ, কৃষক, ওবিসি বা অনগ্রসর, ব্যবসায়ী, প্রাক্তন সেনা কর্মী, বিদেশ, ক্রীড়া, বুদ্ধিজীবী সহ অসংখ্য সেল৷ এটাও সত্যি এইসব অঙ্গ সংগঠনের প্রধানরা পরে রীতিমতো গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়েছেন৷ বর্তমান রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ একসময় বিজেপি-র তফসিলি জাতি মোর্চার প্রধান ছিলেন৷ বর্তমানে দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর এবং কিষান রেড্ডি বিজেপি-র যুব মোর্চার প্রধান ছিলেন, নারী মোর্চার সাবেক প্রধান মৃদুলা সিনহা এখন রাজ্যপাল৷ একসময় বিদেশ সম্পর্কিত সেল সামলাতেন ব্রজেশ মিশ্র৷ বাজপেয়ী যখন প্রধানমন্ত্রী হন, তখন তার প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি ব্রজেশ মিশ্র ছিলেন সব চেয়ে প্রভাবশালী আমলা৷ কংগ্রেসে তো একসময় ছাত্র শাখা থেকে নিয়মিত কেন্দ্রীয় স্তরে নেতারা আসতেন, মন্ত্রী হতেন৷ প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি, আনন্দ শর্মা, জয়রাম রমেশসহ অনেক নেতাই অঙ্গ সংগঠনে আগে ছিলেন৷ সেখান থেকে তাদের গুরুত্ব বাড়ে৷

তবে এখন এই অঙ্গ সংগঠনের বাড়বাড়ন্তের কারণ, দলগুলি নির্দিষ্ট পেশা, জাতিগোষ্ঠীর মানুষের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা করছে৷ ভারতে এখন ভোটের চরিত্র বদলেছে৷ প্রতিটি গোষ্ঠী, পেশার মানুষ চায়, তাদের গুরুত্ব বাড়ুক৷ তাদের সমস্যার কথা সরকার এবং দলগুলি শুনুক৷ প্রধান রাজনৈতিক দলগুলি এখন প্রতিটি আসন জেতার জন্য নানা ধরনের হিসাব করে৷ আগে শুধু জাতপাতের হিসাব হতো৷ এখন সেই হিসাব অনেক নীচের স্তরে ছড়িয়ে গেছে৷ সেখানে ঢুকে পড়েছে নানা ধরনের মাপকাঠি৷ তাই রাজনৈতিক দলের অঙ্গ সংগঠন বাড়ছে৷ বেড়েই চলেছে৷ তাতে সেই সব পেশা, জাতিগোষ্ঠীর মানুষের ইচ্ছাপূরণ হচ্ছে কি না, সেটা অন্য প্রশ্ন, ঘটনা হলো, তাদের সন্তুষ্ট রাখতে নিত্যনতুন পন্থা নিচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলি৷ সেই সব কর্মসূচিও নেয়া হচ্ছে অঙ্গ সংগঠনের মাধ্যমে৷ তাই ভবিষ্যতে অঙ্গ সংগঠনের সংখ্যা বাড়বে বই কমবে না৷

সংশ্লিষ্ট বিষয়