অঙ্কের ভয় কাটাতে ভরসা সামসুল স্যার | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 14.09.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

অঙ্কের ভয় কাটাতে ভরসা সামসুল স্যার

পড়ুয়াদের অঙ্কের ভীতি কাটিয়ে শিক্ষারত্ন পুরস্কার পেয়েছেন শিক্ষক সেখ সামসুল আলম৷ সহজ পদ্ধতিতে গণিতের পাঠ দেন তিনি৷ পাঠ্যক্রম সংক্রান্ত তাঁর তিন খণ্ডের বই প্রকাশ করেছে জার্মানির প্রকাশনা সংস্থা৷

বাংলা ব্যান্ডের একটি গান অতীতে খুব জনপ্রিয়তা পেয়েছিল, যার বক্তব্য ছিল ‘অঙ্ক কি কঠিন'৷ আদতে ছাত্রছাত্রীদের কাছে গণিত একটু আতঙ্কের বিষয় বৈকি৷ কারো কাছে এতটাই যে তারা অঙ্ক করতেই চায় না৷ অভিভাবকরা ছেলেমেয়েদের এই অঙ্ক-ভীতি নিয়ে সমস্যায় পড়েন৷ এই সমস্যা সমাধানের পথে অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছেন অঙ্কের মাস্টারমশাই সামসুল আলম৷ পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রাম থানার স্কুল সিলুট বসন্তপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের গণিতের শিক্ষক তিনি৷ বিষয়ের চর্চা ও প্রয়োগের নিরন্তর চেষ্টায় পড়ুয়াদের বন্ধু হয়ে উঠেছেন এই শিক্ষক৷ গত ৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবসে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শিক্ষা দপ্তর তাঁকে শিক্ষারত্ন সম্মান দিয়েছে৷

অডিও শুনুন 03:11

‘গণিত শেখানোর সমস্যা বিশ্বজুড়ে আছে’

যোগ, বিয়োগ থেকে ভগ্নাংশ, জ্যামিতি কিংবা বীজগণিতের ফর্মুলা, ক্লাসের ব্ল্যাকবোর্ডে খড়ি দিয়ে আঁক কেটে, সংখ্যা লিখে শিক্ষকরা অংক শিখিয়ে থাকেন৷ এটাই চেনা পদ্ধতি৷ শেখ সামসুল আলমের পদ্ধতি একেবারেই আলাদা৷ তিনি বিভিন্ন মডেলের মাধ্যমে ছেলেমেয়েদের অঙ্ক শেখান৷ থার্মোকলের মডেল তৈরি করেন, তা দিয়ে নানা সূত্র ব্যাখ্যা করেন৷ কখনো ক্লাসরুমে হাজির করেন মাটির মডেল, ত্রিভুজ বা বর্গক্ষেত্রের৷

বিজ্ঞানের মতো গণিতও হাতে-কলমে শেখান তিনি৷ এ জন্য নিজের উদ্যোগে স্কুলে গড়ে তুলেছেন গণিতের পরীক্ষণাগার৷ সিলুট বসন্তপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পার্থসারথি মোল্লা বলেন, ‘‘পড়ুয়াদের মধ্যে ভীতি দূর হয়েছে ওঁর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে৷ পঞ্চম শ্রেণীতে যে ছেলেটি অঙ্ক পারতই না, মাধ্যমিক সে স্বচ্ছন্দে গণিতে পাশ করে যাচ্ছে৷ নিজের গবেষণা স্কুলে প্রয়োগ করেছেন সামসুল৷ এটা কাজে আসছে ছেলেমেয়েদের৷'' স্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্রী মিত্রা ঘোষ ডয়চে ভেলেকে বলে, ‘‘স্যার খুব সহজভাবে অংক বোঝান৷ আগে যেমন ভয়-ভয় করত, অংক পারব কি না, এখন তা মনে হয় না৷ গণিতের ল্যাবরেটরিতে হাতেকলমে মডেল দিয়ে তিনি অংকের সূত্র বুঝিয়ে দেন৷ তাতে বিষয়টা মনে রাখা সহজ হয়৷''

স্কুলের গণিত শিক্ষায় এই প্রয়োগের দিকটি যতটা সরল মনে হতে পারে, শেখ সামসুল আলমের গবেষণার বিষয়টি ততটাই জটিল৷ তিনি বলেন, ‘‘গণিত শেখানোর সমস্যা বিশ্বজুড়ে আছে৷ আমাদের দেশে তো বটেই৷ গণিত শেখানোর সময় আমার মনে প্রশ্ন জাগে, প্রথম থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত ঠিক পদ্ধতিতে কি আমরা অঙ্ক শেখাচ্ছি? এক্ষেত্রে যে ফাঁক রয়েছে, সেটা পূরণের লক্ষ্যে আমি সিলেবাস তৈরি করি৷ কীভাবে পর্যায়ক্রমে গণিতের শিক্ষা দেওয়া যায়, তার মডেল উঠে আসে গবেষণায়৷'' গণিত নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ এলাকার এক শিক্ষকের চর্চা নজর কাড়ে জার্মানির প্রকাশনা সংস্থা ল্যাম্বা্র্ট-এর৷

সামসুল বলেন, ‘‘এই প্রকাশনা সংস্থা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে৷ ওরা আমার গবেষণাপত্র নিয়ে আগ্রহ দেখায়৷ সেটা বই আকারে প্রকাশিত হয়েছে৷'' জার্মান সংস্থার প্রকাশিত তিন খণ্ডের পুস্তকের নাম ‘এ স্টাডি অফ মেজর কনসেপ্টস ইন ম্যাথামেটিক্স অ্যাট সেকেন্ডারি লেভেল'৷ যে কোনো দেশের স্কুলে গণিত পঠনপাঠনের ক্ষেত্রে এটি বাঙালি শিক্ষকের তৈরি পাঠ্যক্রমের একটি মডেল৷

অডিও শুনুন 03:24

‘পড়ুয়াদের ভীতি দূর হয়েছে ওঁর প্রশিক্ষণে’

১৯৯৭ সালে শিক্ষকতা শুরু করার ২২ বছর পর সরকারের কাছ থেকে সম্মান পেয়েছেন শেখ সামসুল আলম৷ বছরের পর বছর সহজে অংক শেখানোর উদ্যোগ নিয়ে চলেছেন নিজেই৷ তাঁর স্কুলের শিক্ষক সুজয় কর্মকার ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘স্যারকে স্কুলের তরফ থেকে একটা ঘর দেওয়া হয়েছে৷ সেখানে তিনিই ল্যাবরেটরি গড়ে তুলেছেন নিজের খরচে৷ বিভিন্ন গ্রামে, স্কুলে যে শিবির, প্রদর্শনী হয়, তারও খরচ নিজেই দেন৷'' গণিত শেখানোর অভিনব মডেল নিয়ে ইউরোপের দেশ আগ্রহ দেখালেও, পশ্চিমবঙ্গের সর্বত্র তা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ এখনো দেখা যাচ্ছে না৷ তবু সব ছেলেমেয়ে সহজে অঙ্ক শিখবে, এই স্বপ্ন নিয়ে অক্লান্ত গণিতের মুশিকল আসান সামসুল স্যার৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন