অগ্রগতি নাকি আত্মশ্লাঘা, কোন পথে সৌদি আরব? | বিশ্ব | DW | 29.10.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সংবাদভাষ্য

অগ্রগতি নাকি আত্মশ্লাঘা, কোন পথে সৌদি আরব?

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান তাঁর দেশকে আমূল বদলে দিতে চান৷ কিন্তু আবেগী এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় অনভিজ্ঞ এই যুবরাজের সফলতার সম্ভাবনা কতটা, তা নিয়ে লিখেছেন ডয়চে ভেলের নাদের আলসারাস৷

‘নিওম' – ২৫ হাজার বর্গ কিলোমিটারের এমন এক শহর, যা হবে প্রযুক্তি গবেষণার প্রাণকেন্দ্র৷ পুরোপুরি সৌর শক্তিচালিত এ শহরে মানুষের চেয়ে রোবটের সংখ্যা থাকবে বেশি৷ প্রকল্প ব্যয় প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ইউএস ডলার ( ৪২৬ বিলিয়ন ইউরো)৷  মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বড় এই প্রকল্পের স্বপ্নদ্রষ্টা সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এ প্রকল্পে বিনিয়োগের জন্য খুঁজছেন স্বপ্নদ্রষ্টাদের, যারা নতুন কিছু করার কথা ভাবেন৷ ৩২ বছর বয়সি এ যুবরাজ এ সময়ের  সৌদি আরবের অন্যতম ক্ষমতাবান মানুষ, নিওমের মতো চমকপ্রদ কিছু করার কথাই কেবল যিনি ভাবছেন না, যিনি তাঁর দেশে ফিরিয়ে আনতে চান উদার ইসলামের চর্চা৷

সৌদি আরবের মতো একটি দেশ, যা দীর্ঘদিন ধরে সারা পৃথিবীর সাংস্কৃতিক পরিবর্তন থেকে নিজেকে সরিয়ে রেখেছে, দুই শতক ধরে যে দেশে ওহাবিজমের মতো কট্টর ইসলামী ধ্যানধারণা প্রচলিত, সেখানে এমন পরিবর্তনের সুর বিষ্ময়কর৷ কিছুদিন আগেই নারীরা গাড়ি চালানোর অধিকার পেয়েছেন৷ রেড সি'তে পর্যটকদের জন্য বিলাসবহুল আবাসনের ব্যবস্থা হচ্ছে, যার অর্থ নারীরা সেখানে বিকিনি পরতে পারবেন, উন্মুক্ত থাকবে বার৷ পরিবর্তনের এমন সুর কিছুদিন আগেও ছিল অকল্পনীয়৷ অবশ্য সৌদি যুবরাজের এই উদারপন্থি মনোভাবের কঠোর সমালোচনা করছেন অনেকে৷ একে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হটানোর কৌশল ভাবছেন অনেকেই৷ অনেকেই আবার বলছেন, এটা দেশে বিনিয়োগের আকর্ষণের কৌশল৷

অবশ্য অনেক সমালোচনা ভিত্তিহীনও নয়৷ এর মধ্যে সরকারের সমালোচনাকারী অনেক নেতা আটক হয়েছেন৷ রাজ্যের সত্যিকারের প্রয়োজন, যেমন গণতন্ত্র বা মানবাধিকারের মতো বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা নেই কোনো৷ অন্যদিকে, সৌদি যুবরাজের উদারপন্থি এই মনোভাবের কারণে কট্টরপন্থী ও রক্ষণশীল ধর্মীয় নেতাদের বিরোধিতার  মুখোমুখি হতে পারে রাজপরিবার৷

নাদের আলসারাস

নাদের আলসারাস, ডয়চে ভেলে

এছাড়াও, এক ধাক্কায় দেশের মানুষের মানসিকতার পরিবর্তনের ভাবনাও খুব উচ্চাকাঙ্খী, বিশেষ করে উদার রাজ্য গড়তে সৌদি যুবরাজের প্রচেষ্টা নিয়ে সন্দিহান সাধারণ মানুষও৷ এর মধ্যে বিন সালমানকে এতটা ক্ষমতা দেয়ার বিষয়টিও সমালোচিত হচ্ছে অনেকক্ষেত্রে৷ ২০১৫ সালের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েই ইয়েমেনের সাথে যুদ্ধাবস্থা তৈরির পর তাঁকে দেয়া ক্ষমতার কতটা সদ্বব্যবহার তিনি করবেন, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যায়৷

দেশকে আধুনিক করা কেবল কয়েকটা বড় প্রকল্প হাতে নেয়ার উপর নির্ভর করে না৷ এর জন্য প্রয়োজন আরো বেশি কিছু৷ খুব অল্প সময়ে তা হবার নয়৷ এর সাথে যোগ হয়েছে তেলের রপ্তানিমূল্য কমে যাওয়া এবং সৌদি বাজেটের ঘাটতির পরিমাণ বেড়ে যাওয়া৷

সবমিলিয়ে, সৌদি যুবরাজ বিন সালমানের পরিকল্পনা কতটা কাজ করবে , তা নিয়ে সংশয় থেকেই যায়৷

আরএন/এসিবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন