অক্সিজেনের সিলিন্ডার ছাড়াই পানির গভীরে ডুবুরি | অন্বেষণ | DW | 11.10.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

অক্সিজেনের সিলিন্ডার ছাড়াই পানির গভীরে ডুবুরি

অক্সিজেনের সিলিন্ডার নিয়ে পানির নীচে ডুবুরিদের দেখলে সমীহ না করে পারা যায় না৷ কিন্তু বিনা অক্সিজেনে সমুদ্রের নীচে অনেক সময় কাটানো আরো কঠিন কাজ৷ জার্মানির এক নারী এক দশক ধরে এ ক্ষেত্রে বিপুল সাফল্য অর্জন করেছেন৷

আনা ফন ব্যোটিশার-এর জন্য গভীর নীল সমুদ্র অসাধারণ এক জগত৷ সেখানে তিনি নিজেকে সম্পূর্ণ মুক্ত বোধ করেন৷ ফ্রিডাইভার হিসেবে তিনি অক্সিজেন ট্যাংক ছাড়াই পানিতে ডুব মারেন৷ আজ তিনি বিশ্বের সেরা ডুবুরিদের অন্যতম৷ আনা বলেন, ‘‘ফ্রিডাইভিং-এর বিশেষত্ব হলো, সে সময়ে সম্পূর্ণ নিজের উপর ভরসা করতে হয়৷ প্রকৃতির সঙ্গে একাই যুঝতে হয়৷ হয়তো প্রান্তিক অর্থে চূড়ান্ত পরিণতির জন্য৷''

আনা বিশ্ব ফ্রিডাইভিং প্রতিযোগিতার জন্য সাইপ্রাস দ্বীপের কাছে ভূমধ্যসাগরে অনুশীলন করছেন৷ ফ্রিডাইভারদের নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসের এক বিশেষ কৌশল রপ্ত করতে হয়, যাতে একবার দম নিয়েই অনেকটা সময় ধরে পানির গভীরে ডুব দেওয়া যায়৷ আনা ফন ব্যোটিশার বুঝিয়ে বলেন, ‘‘শরীরের উপলব্ধি হবে যে সে পানির নীচে রয়েছে৷ আমি নিঃশ্বাস নিতে পারছি না৷ তাই বাঁচতে হলে অক্সিজেন সংরক্ষণ করতে হবে৷ প্রথমে নাড়ির স্পন্দন কমে যায়৷ হৃৎস্পন্দন কমে যায়৷ মেটাবলিজম বা বিপাকের গতি ভীষণ কমে যায়৷ শক্তিক্ষয় কম হয়৷ সবকিছুই অক্সিজেন বাঁচানো ও যতক্ষণ সম্ভব বেঁচে থাকার লক্ষ্যে চালিত হয়৷''

ডুব মারার আগে আনা ফুসফুসের মধ্যে যতটা সম্ভব অক্সিজেন জমা করার চেষ্টা করেন৷ কিছু ডুবুরি নিজেদের ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করার চেষ্টা করেন৷ ফলে তাঁদের শরীরে ক্ষতির ঝুঁকি সৃষ্টি হয়৷ ক্রীড়ার এই শাখাকে লঘু করে দেখা উচিত নয়৷ আনা মনে করেন, ‘‘আমাদের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো অজ্ঞান হয়ে যাওয়া৷ দম বন্ধ রাখলে অজ্ঞান হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়৷ পানির মধ্যে এমনটা ঘটলে এবং কাছেপিঠে সাহায্য করার জন্য কেউ না থাকলে ডুবে মরার ভয় থাকে৷ তাই আমরা পরস্পরের উপর নজর রাখি৷''

ভিডিও দেখুন 04:20

সাগরে সুখ খোঁজেন যে জার্মান নারী

অভিজ্ঞ ডুবুরি হিসেবেই আনা ফন ব্যোটিশার ২০০৭ সালে ফ্রিডাইভিং-এর একটি কোর্স করেছিলেন৷ মাত্র ৬ মাসের মধ্যে তিনি জার্মানির ৩টি রেকর্ড ভাঙেন৷ একই বছরে তিনি মিশরে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ প্রতিযোগিতায় ব্রোঞ্জ মেডেল জেতেন৷

বার্লিনে তিনি সপ্তাহে ৩ থেকে ৪ বার অনুশীলন করেন৷ অনেক ফ্রিডাইভার যোগাসন ও ধ্যানের নানা কৌশল চর্চা করেন৷ আনা অবশ্য ‘ক্রসফিট' নামের এক কঠিন ব্যায়ামের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পছন্দ করেন৷ এভাবে তিনি নিজের ক্ষমতার সীমা বুঝতে পারেন৷ আনা ফন ব্যোটিশার মনে করিয়ে দেন, ‘‘ফ্রিডাইভার হিসেবে আমি মাত্র একবার দম নেবার সুযোগ পাই৷ পেশির অবস্থা এমন হতে হবে, যা বেশি অক্সিজেন ছাড়াও সক্রিয় থাকতে পারে৷ ক্রসফিট করে আমার খুব উন্নতি হচ্ছে৷''

অজানা, কঠিন পথে পাড়ি দেওয়া তাঁর জীবনদর্শনের অংশ৷ তিনি কিছু সময়ের জন্য তাঁর নিওপ্রিন ডাইভিং পোশাক ছেড়ে ল্যাপটপ নিয়ে মশগুল হয়ে পড়েছিলেন৷ ২০১৯ সালের মে মাসে আনা ফন ব্যোটিশার তাঁর প্রথম বই প্রকাশ করেন৷ অ্যাথলিটের জীবনী ছাড়াও তার মধ্যে আরো রসদ পাওয়া যাবে৷ আনা বলেন, ‘‘আমি আসলে ফ্রিডাইভারের ঠিক বিপরীত৷ আমার একটাই ফুসফুস, যার আকার খুবই ছোট৷ সাঁতারু হিসেবেও আমি খুব ভালো নই৷ অনেক কিছুই ভালো না হওয়া সত্ত্বেও আমি যথেষ্ট সফল৷ প্রায় ১০ বছর ধরে আমি বিশ্বসেরাদের অন্যতম৷ এমন কাহিনি বাকিদেরও খোলা মনে জীবনের মুখোমুখি হতে প্রেরণা জোগাবে বলে আমার আশা৷''

সাইপ্রাসে তাঁকে মনোঃসংযোগ করে অনুশীলন করতে হয়৷ সাফল্য আসুক বা না আসুক, আনা ফন ব্যোটিশার মহাসাগরের গভীরে নিজের সন্তুষ্টি খুঁজে পেয়েছেন৷

কিয়র্স্টিন শুমান/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন