‘অকেজো′ বস্তু সৃষ্টি করে আমোদ পান যে শিল্পী | অন্বেষণ | DW | 05.09.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

‘অকেজো' বস্তু সৃষ্টি করে আমোদ পান যে শিল্পী

প্রয়োজনের বস্তুকে অপ্রয়োজনীয় করে তুললেই কি তার মর্যাদা বোঝা যায়? গ্রিসের এক ডিজাইনার দৈনন্দিন জীবনের এমন সব বস্তুর মধ্যে রদবদল করে ঠিক সেই কাজই করছেন৷ অন্যদেরও তিনি এমন লাগামহীন কল্পনায় উদ্বুদ্ধ করছেন৷

ডিজাইনার ও স্থপতি হিসেবে কাটেরিনা কাম্প্রানি দৈনন্দিন জীবনের অনেক বস্তু অকেজো করে তোলেন৷ যেমন এমন এক ঝাঁঝরি, যা দিয়ে গাছে পানি দেওয়া সম্ভব নয়৷ অথবা এমন ঝাঁটা, যা দিয়ে ঘর সাফ করা যায় না৷ তিনি এমন এক হাঁড়িও সৃষ্টি করেছেন, চুলা থেকে যা নামাতে গেলে দেখা যাবে, যে দুটি হ্যান্ডেলই একই দিকে রয়েছে৷

এমন সব উদ্ভট সৃষ্টিকর্মের সার্থকতা ব্যাখ্যা করে কাটেরিনা বলেন, ‘‘মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই আমার লক্ষ্য৷ কিন্তু আমার মতে, অন্য একটি পর্যায়ও রয়েছে৷ আশেপাশের বস্তুগুলিকে উপেক্ষা না করাই এর উদ্দেশ্য৷ নির্দিষ্ট নিয়মনীতি অনুযায়ী সেগুলি ডিজাইন করা হয়েছে৷ সেই নিয়ম ভাঙলে মানুষ তখনই সেগুলির মর্যাদা টের পায়৷ আমাদের তাই সীমানা অতিক্রম করে ভাবতে হবে৷''

কাটেরিনা আসলে এথেন্সে স্থপতি হিসেবে কাজ করেন৷ সময় পেলেই তিনি ‘দ্য আনকমফর্টেবল' নামের ডিজাইন প্রকল্প নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন৷ এর মধ্যেই ৩০টিরও বেশি বস্তু সেই সংগ্রহে জমা হয়েছে৷ এর মধ্যে কয়েকটি বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করা হয়েছে৷

ইন্টারনেটে এমন সব অদ্ভুত বস্তু ব্যাপক সাড়া পাচ্ছে৷ গ্রিসের এই ডিজাইনার এমন উদ্ভট সৃষ্টির কাজে মেতে থাকেন৷  যেমন তিনি এবার একটি টুথব্রাশ সৃষ্টি করেছেন, যা একেবারেই ব্যবহারের উপযোগী নয়৷ তবে এমন ‘পাগলামি'-র পেছনে যথেষ্ট পরিশ্রমও রয়েছে৷

ভিডিও দেখুন 04:02

অপ্রয়োজনীয় যত সৃষ্টি

কাটেরিনা বলেন, ‘‘মানানসই বস্তু বাছাই করাই সবচেয়ে জরুরি কাজ৷ সেটির নিজস্ব প্রয়োগ থাকতে হবে এবং দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজনীয় বস্তু হিসেবে সেটি উপেক্ষিত হবে৷ তারপর আমি কল্পনায় বস্তুটির ব্যবহার নিয়ে ভাবি৷ তার মধ্যে একটি পথ আমি বানচাল করে দেই৷ স্কেচ করার সময় যে আইডিয়া আমার মুখে সবচেয়ে বেশি হাসি ফোটায়, সেটি নিয়েই আমি কাজ চালিয়ে যাই৷''

বিভিন্ন ওয়ার্কশপে তিনি অন্যদেরও ব্যবহারের অযোগ্য বস্তুর ডিজাইন করতে শেখান৷ অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে তিনি সেই সব ‘অকেজো' আইডিয়া নিয়ে আলোচনা করে বেশ মজা পান৷ কাটেরিনা তার কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘‘ওয়ার্কশপের মাধ্যমে আমি আমার চিন্তাধারা ছড়িয়ে দেবার সুযোগ পাই৷ অন্যরা কীভাবে নির্দিষ্ট কোনো বস্তু নিয়ে কাজ করেন, সেটা দেখে আমি উদ্বুদ্ধ হই৷ এই সব আইডিয়া আমাকে প্রেরণা জোগায়৷''

অংশগ্রহণকারীরাও বাঁধাধরা ছকের বাইরে ভাবনাচিন্তা করতে ভালবাসেন৷ কেউ এই ওয়ার্কশপের পর বাসার অনেক বস্তুর মধ্যে হাস্যরস খুঁজে পান৷ কেউ বা দৈনন্দিন জীবনে অসম্ভব – এমন ভাবনাচিন্তার দিশা জেনে মুক্তির স্বাদও পেয়েছেন৷ কারণ সাধারণ পরিস্থিতিতে তো সবকিছুই চালু থাকে এবং মানুষের কাজে লাগে৷

কাটেরিনা কাম্প্রানি এর মধ্যেই গোটা ইউরোপে নিজের কাজের প্রদর্শনী করেছেন৷ তাঁর ওয়ার্কশপগুলিও ‘আনকমফর্টেবল' সংকলনের ছোটখানো প্রদর্শনী৷ এই প্রকল্প সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘‘দ্য আনকফর্টেবল নামের প্রকল্প এমন এক সময়ে জন্ম নিয়েছে, যখন অনেক কিছুই আমার জন্যই অস্বস্তিকর ছিল৷ আমি ডিজাইনার হতে চেয়েছিলাম, কিন্তু সংকটে জর্জরিত গ্রিসে সেটা সহজ ছিল না৷ তখন আমি ডিজাইনার হিসেবেই অস্বস্তিকর সৃষ্টির পথে যাবার সিদ্ধান্ত নিলাম৷ সেটা ছিল আমার পরিস্থিতির বহিঃপ্রকাশ৷''

এমন অস্বস্তিকর সৃষ্টির কাজ অব্যহত রয়েছে৷ কাটেরিনা কাম্প্রানির মাথায় এমন অনেক ‘অকেজো' আইডিয়া রয়েছে৷

টেওডোরা মাভ্রোপুলস/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন