1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

যক্ষ্মার বিরুদ্ধে সামাজিক লড়াই

৪ মার্চ ২০১৮

তিনি নিজেও একসময়ের যক্ষ্মা আক্রান্ত৷ এখন তাঁর কাজ টিবি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের কাউন্সেলিং৷ জীবনের পথ দেখাচ্ছেন মুম্বইনিবাসী নন্দিতা ভেঙ্কাটেশন৷

https://p.dw.com/p/2tWlL
যক্ষ্মায় আক্রান্ত
ছবি: DW/B. Das

মুম্বইয়ের বাসিন্দা নন্দিতা ভেঙ্কাটেশন এক আশ্চর্য কাজ বেছে নিয়েছেন৷ অন্যান্য কাজের ফাঁকে নিয়ম করে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় বন্ধুদের প্রশ্নের উত্তর দেন৷ আপাতদৃষ্টিতে এর মধ্যে কোনো নতুনত্ব নেই৷ ট্রেনে বাসে সোশ্যাল মিডিয়া খুলে বসে পড়া নতুন কিছু নয়৷ কিন্তু নন্দিতা কেবলমাত্র গল্প করার জন্য সোশ্যাল মিডিয়া খোলেন না৷ তাঁর একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য আছে৷

মুম্বইয়ের ট্রেনে প্রতিদিন যাতায়াত করেন নন্দিতা৷ ট্রেনে বসেই তিনি মেসেজে উত্তর দেন৷ তাঁর বন্ধুরা সকলেই টিবি বা টিউবরকিউলেসিসে আক্রান্ত৷ নানারকম প্রশ্ন তাঁদের৷ কিন্তু সমাজে সকলের কাছে সে সব প্রশ্ন করতে তাঁরা ভয় পান৷ লজ্জা পান৷ একসময় ভারতে টিবি-র কোনো ওষুধ ছিল না৷ মনে করা হতো এটি একটি ছোঁয়াচে অসুখ৷টিবি আক্রান্তদের একঘরে করা হতো৷ সময় বদলে গিয়েছে৷ সহজেই এখন টিবি-র চিকিৎসা হয়৷ কিন্তু সামাজিক সমস্যাটি এখনো কোনো কোনো জায়গায় থেকে গিয়েছে৷ এখনো টিবি রোগীদের একঘরে করে রাখার বা তাদের সঙ্গে না মেশার একটা মনোভাব আছে৷ টিবি রোগীরাও তাঁদের রোগ নিয়ে কথা বলতে কুণ্ঠাবোধ করেন৷ সেই সমস্ত মানুষদের জন্যই অবারিত দ্বার খুলে দিয়েছেন নন্দিতা৷ সকলের সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার কাজটিই তিনি করেন সোশ্যাল মিডিয়ায়৷

Ukraine Tuberkulose Krankenhaus in Kiew
ভারতের একটি হাসপাতালে যক্ষ্মা আক্রান্ত রোগীরাছবি: picture-alliance/dpa

প্রশ্ন নানা রকমের৷ এক তরুণী নন্দিতাকে জিগ্যেস করেছেন, বয়ফ্রেন্ডকে টিবি-র কথা বলা উচিত হবে কি না৷ আরেক তরুণী জানতে চেয়েছেন, টিবি-র ওষুধের জন্য তাঁর পিরিয়ড মিস হচ্ছে কি না৷ ২০ বছরের একটি মেয়ে তাঁকে প্রশ্ন করেছেন, টিবি তাঁর পরবর্তী যৌন জীবনে কোনো সমস্যা তৈরি করবে কিনা৷ সব প্রশ্নেরই উত্তর দেন নন্দিতা৷ কার্যত কাউন্সেলিং করেন৷

নন্দিতাও একসময় টিবি রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন৷ ৮ বছর রোগের কথা চেপে রেখেছিলেন তিনি৷ ইতিমধ্যে তাঁর সমস্ত চুল পরে যায়৷ বধিরও হয়ে গিয়েছিলেন৷ জীবনের একেবারে কিনারে পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি৷ কিন্তু সেই ভয়ংকর প্রতিকূলতাকে জয় করতে পেরেছেন তিনি৷ ফের জীবনে ফিরে এসেছেন৷ এবং সে কারণেই তাঁর মনে হয়, এখন যাঁরা টিবি আক্রান্ত তাঁদের পাশে দাঁড়ানো দরকার৷ নিরন্তর কাউন্সেলিং করা দরকার৷

টমসন রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নন্দিতা জানিয়েছেন, এই একই ধরনের প্রশ্ন তাঁর মনেও এসেছিল৷ কিন্তু কারও কাছে প্রশ্নগুলি করে উঠতে পারেননি তিনি৷ কারণ একটাই, কার কাছে এ সব প্রশ্ন করা যায়, সেটাই বুঝে উঠতে পারেননি তখন৷ চিকিৎসকেরা টিবি-র অষুধের সাইড এফেক্ট নিয়ে কোনো কথা বলতে চান না৷ টিবি রোগীদের কাউন্সেলিংয়েরও কোনো ভালো সংগঠন নেই৷

সম্প্রতি ভারতের একটি ব্যাংকের কাছ থেকে ‘ব্রেভ ফাইটার' পুরস্কারও পেয়েছেন নন্দিতা৷ বহু সংগঠন তাঁর লড়াই এবং কাজকে কুর্নিশ জানিয়েছে৷

এই মুহূর্তে ভারতে টিবি আক্রান্তের সংখ্যা চোখে পড়ার মতো বেশি৷ সারা পৃথিবীর নিরিখে হিসেব করলে সংখ্যাটা দাঁড়ায় প্রায় এক চতুর্থাংশ৷ তবে সব ধরনের টিবি সাধারণ নয়৷ অ্যাবডোমিনাল টিবি কিংবা হার্টের টিবি ব্যতিক্রমী ঘটনা৷ এবং সে ধরনের টিবি-র ক্ষেত্রে চিকিৎসাও বেশ জটিল৷ তবে নন্দিতার কথায়, সব ধরনের রোগীর ক্ষেত্রেই একই রকম সামাজিক সংকট কাজ করে৷

মাত্র ১৭ বছর বয়সে টিবি ধরা পড়েছিল নন্দিতার৷ বিশ্বের সঙ্গে এই সময়েই ধীরে ধীরে পরিচয় ঘটে তরুণ-তরুণীদের৷ কেরিয়ার, প্রেম এই সমস্ত বিষয়েই এই বয়সে সকলের উত্তরণ হয়৷ অথচ নন্দিতার ক্ষেত্রে এর কিছুই ঘটেনি৷ সকলেই তার দিকে প্রশ্নের তীর ছুড়ে দিয়েছেন৷ সকলেই তাঁর অসুখকে সন্দেহ করেছেন৷ একঘরে হয়ে থেকেছেন নন্দিতা৷ এমনকি তাঁর চিকিৎসকও বলেছিলেন, অসুখের বিষয়ে কারও সঙ্গে আলোচনা করতে নয়৷ ভবিষ্যতে কারও যাতে এই সমস্যাগুলির মুখোমুখি হতে না হয়, তার জন্যই তাঁর নতুন প্রকল্প শুরু করেছেন নন্দিতা৷

টিবি রোগীদের নিয়ে কাজ করা একটি এনজিও-র কর্মী মঞ্জু আশাও একইরকম সামাজিক সমস্যার কথা বলেছেন৷ নন্দিতার কাজকে তিনি কুর্নিশ জানিয়েছেন৷

রোলি শ্রীবাস্তব/এসজি

প্রতিবেদনটি কেমন লাগলো? জানান আমাদের, লিখুন নীচের ঘরে৷