1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

ভালো কাজে পুলিশ, মন্দ কাজে পুলিশ

হারুন উর রশীদ স্বপন ঢাকা
১০ জানুয়ারি ২০১৮

বাংলাদেশে এখন চলছে পুলিশ সপ্তাহ৷ প্রথম দিনেই পুলিশের ১৮২ জন সদস্যকে সাহসিকতার জন্য দেয়া হয়েছে পুলিশ পদক৷ আবার একই সময়ে কয়েকটি নেতিবাচক ঘটনায় সমালোচিতও হচ্ছে পুলিশ৷ অথচ পুলিশের সাহস আর সেবার দিকটিই দেখতে চান নগারিকরা৷

https://p.dw.com/p/2qdnM
Polizei in Bangladesch
ছবি: Picture-Alliance/AP Photo

পুলিশ সপ্তাহ শুরু হয়েছে ৮ জানুয়ারি৷ শেষ হবে ১৫ জানুয়ারি৷ রাজারবাগ পুলিশ লাইনস-এর পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী৷ সেই অনুষ্ঠানেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হসিনা বিভিন্ন সাহসী ও সেবামূলক কাজের জন্য ১৮২ জন পুলিশ সদস্যকে নিজ হাতে পদক তুলে দেন৷ এরমধ্যে সর্বোচ্চ পদক হলো বাংলাদেশ পুলিশ পদক(বিপিএম)৷ আর সেই পদক পেয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সোয়াট টিমের তরুণ কনেষ্টবল সৌরিদ হোসেন৷ তিনি হুইল চেয়ারে বসে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এই পদক নেন৷ সৌরিদ হোসেন ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘গত বছরের ১৬ মার্চ চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে জঙ্গি বিরোধী অভিযানে আমি অংশ নিই৷ আত্মঘাতী জঙ্গিরা আমার সামেনেই গ্রেনেড বিফোরণ ঘটালে আমার বাঁ পায়ের হাড় ভেঙ্গে যায়, বাঁ হাতের একটি আঙুল উড়ে যায়, মুখের চোয়াল এবং কয়েকটি দাঁত ক্ষতিগ্রস্ত হয়৷ চট্টগ্রাম সিএমএইচে চিকিৎসার পর এখন ঢাকার পুলিশ হাসপাতালে আমার চিকিৎসা চলছে৷ চিকিৎসকরা বলেছেন আমি পুরোপুরি সুস্থ হবো, তবে সময় লাগবে৷''

‘আমার শারীরিক কষ্ট আছে, আবার গৌরবও হয়’

সৌরিদ বলেন, ‘‘আমার শারীরিক কষ্ট আছে৷ আবার গৌরবও হয়৷ কারণ, আমি দেশের জন্য, দেশের  মানুষের জন্য কাজ করেছি৷ পদক নেয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমার চিকিৎসার সব দায়িত্ব রাষ্ট্র নিয়েছে৷''

আরেক প্রশ্নের জবাবে পুরষ্কৃত এই পুলিশকর্মী বলেন, ‘‘জীবনবাজি রেখে ভয়-ভীতির উর্ধে উঠেই পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে হবে৷ ভয় পেয়ে কী হবে, যা হবার তা তো হবেই৷''

কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের সহকারি পুলিশ কমিশনার অহিদুজ্জামান নুরও এবার বাংলাদেশ পুলিশ পদক পেয়েছেন৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমি জঙ্গিবিরোধী অভিযানে ব্যক্তিগত অবদানের জন্য এই সর্বোচ্চ পুলিশ পদক পেয়েছি৷ ঠিক কী কাজটি করেছি তা টেকনিক্যাল কারণে বলা যাবে না৷ তবে এটুকু বলা যায় যে, আমি জঙ্গিবিরোধী গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের কাজ করি৷ এই সময়ের উল্লেখযোগ্য যে জঙ্গিবিরোধী অপারেশন হয়েছে, তার মধ্যে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড, সিলেটের আতিয়া মহল, চাপাইনবাগঞ্জ, সর্বশেষ ঢাকার পান্থপথের অলিও হোটেল জঙ্গিবিরোধী অভিযানের সাফল্যে আমার ব্যক্তিগত অংশগ্রণ এবং অবদান আছে৷''

তিনি আরেক প্রশ্নে জবাবে বলেন, ‘‘বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা এখন জঙ্গিবাদ৷ এটা পুরোপুরি নির্মূলে আমি কাজ করতে চাই৷''

‘বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা এখন জঙ্গিবাদ’

এই ১৮২ জনের বাইরেও বাংলাদেশে আরো অনেক পুলিশ সদস্য আছেন, যাঁদের সেবা এবং পেশাগত দক্ষতা প্রশংসনীয়৷ কিন্তু পুলিশ সপ্তাহ চলাকালেই ডিএমপি' অতিরিক্ত কমিশনার ডিআইজি মিজানুর রহমানের ঘটনা দেশের মানুষকে বিস্মিত করেছে৷ তিনি এক নারীকে দ্বিতীয় বিয়ের পর উল্টো তা অস্বীকার করে প্রতারণার মামলা দিয়ে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন৷ ওই নারীর অপরাধ, তিনি বিয়ের ঘটনা ডিআইজি'র কথামতো গোপন রাখেননি৷ সংবাদ মাধ্যমে এ খবর আসার পর তাকে অবশ্য প্রত্যাহার করা হয়েছে৷ তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে৷

মঙ্গলবার খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলায় একটি পুলিশ ফাঁড়ির ১২ কনস্টেবল ও এক এএসআইকে প্রত্যাহার করা হয়েছে৷ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করেছেন৷ আর এর প্রতিবাদ করায় তারা ওই ছাত্রী ভাইকে মারধর করেছেন৷

একই দিনে ঝিনাইদহের মহেশপুর থানার একজন এসআইসহ চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয় ৬৫ পিস ( সাড়ে ছয় কেজি) সোনার বার ডাকাতির অপরাধে৷ বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে তারা মহেশপুরের সুন্দরপুর নামক স্থানে সোনারতরী পরিবহন নামে একটি বাসে অভিযানের নামে ওই সোনার বার ডাকাতি করে৷

‘পুলিশে কেউ কেউ ব্যক্তিগতভাবে অপরাধে জড়িয়ে পড়েন, তা সত্য’

২০১৬ সালে প্রায় ১৩ হাজার ৬শ' পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপরাধ ও অপকর্মের অভিযোগ আনা হয়৷ চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত ১৫ হাজার ১শ' জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়েছে৷ এসব অভিযোগের বেশিরভাগই কনস্টেবল থেকে ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে৷ পুলিশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ যোগসূত্র, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও নৈতিক স্খলনের অভিযোগই বেশি৷

পুলিশ সদর দপ্তরের সিকিউরিটি সেলের তথ্য মতে, গত পাঁচ বছরে পুলিশের বিরুদ্ধে ৭২১টি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে৷ এই মামলাগুলোতে ৭৯৮ জন পুলিশ সদস্যকে আসামি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়৷ এদের মধ্যে শুধুমাত্র ২০১৬ সালেই পুলিশের বিরুদ্ধে মোট ১২৮টি মামলা দায়ের হয়৷

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘পুলিশ সপ্তাহে মূলত পুলিশের সারা বছরের কাজের হিসাব এবং পরবর্তী বছরের কাজের নতুন নির্দেশনা দেয়া হয়৷ আগের বছরে কাজে কোনো ভুল বা সীমাবদ্ধতা থাকলে তা কিভাবে কাটিয়ে ওঠা যায়, তা নির্ধারণ করা হয়৷ আর দেশের প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতিরও পরামর্শ নেয়া হয়৷''

তিনি আরো বলেন, ‘‘যাঁরা সাহসিকতার জন্য পদক পান, তাঁরা যেমন উৎসাহিত হন, কাজের স্বীকৃতি পান, তেমনি অন্য পুলিশ সদস্যরাও উদ্বুদ্ধ হন৷ আর পুলিশে কেউ কেউ ব্যক্তিগতভাবে অপরাধে জড়িয়ে পড়েন, তা সত্য৷ কিন্তু এর দায় দায়িত্ব তাদের নিজেদের৷ পুলিশ বাহিনী তাদের দায়-দায়িত্ব নেয় না, নেবেও না৷''

স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য