1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

পাঁচ বছর জেল খাটবেন সাবেক ডিআইজি প্রিজন্স

৯ জানুয়ারি ২০২২

বরখাস্ত সিলেটের কারা উপ-মহাপরিদর্শক পার্থ গোপাল বণিককে দুর্নীতির দায়ে দু’টি ধারায় ৫ ও ৩ বছরের জেল দেয়া হয়েছে৷ তবে দুই ধারার সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে বলে তাকে সব মিলিয়ে পাঁচ বছর সাজা খাটতে হবে৷

https://p.dw.com/p/45JpO
 Bangladesch I Partha Gopal Banik (DIG) verurteilt
ছবি: bdnews24

রোববার ঢাকার ৪ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারকরা এ রায় দেন৷ অপরাধমূলক অসদাচারণ ও জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুটি ধারায় পার্থ গোপাল বণিককে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭ (১) ধারায় পাঁচ বছর ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫ (২) ধারায় তিন বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত৷ পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে৷ অনাদায়ে, তাকে আরো ৩ মাস জেল খাটতে হবে এমনটি জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদপত্রগুলো৷ 

ডয়চে ভেলের কন্টেন্ট পার্টনার বিডিনিউজ টোয়েন্টি ফোর ডটকম জানায়, দুই ধারার সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে বলে তাকে সব মিলিয়ে পাঁচ বছর সাজা খাটতে হবে৷ এর মধ্যে থেকে হাজতবাসকালীন সময় বাদ যাবে৷

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ২০১৯ সালে পার্থ গোপাল বণিকের বাসা থেকে ৮০ লাখ টাকা উদ্ধারের পর তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে৷   
মামলায় অভিযোগ করা হয় যে, সরকারি দায়িত্ব পালনকালে ‘ঘুস, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে’ ওই অর্থ তিনি পকেটে ভরেছেন এবং নিজের বাসায় লুকিয়ে রেখেছেন৷

সাবেক এই কারা কর্মকর্তার বাসা থেকে জব্দ করা ৮০ লাখ টাকার মধ্যে ৬৫ লাখ ১৪ হাজার টাকা ‘অবৈধ উপার্জন’ হিসেবে বিবেচনা করে তা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে বলা হয়েছে রায়ে৷ বাকি ১৪ লাখ ৮৬ হাজার টাকা ‘বৈধ উপার্জন’ হিসেবে বিবেচনা করে  পার্থকে তা ফেরত দিতে বলা হয়েছে৷
দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন৷

অন্যদিকে পার্থ গোপালের আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী বলেন, রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে৷

রায়ের পর পার্থর জন্য কারাগারে প্রথম শ্রেণির মর্যাদা (ডিভিশন) চেয়ে আবেদন করেন তার আইনজীবী৷ বিচারক কারাবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বলেন৷

সরকার কি দুর্নীতি রোধে ব্যর্থ হচ্ছে?

যেভাবে অবৈধ আয়ের সন্ধান পায় দুদক

২০১৮ সালের ২৬ অক্টোবর নগদ ৪৪ লাখ ৪৩ হাজার টাকা, দুই কোটি ৫০ লাখ টাকার এফডিআর, এক কোটি ৩০ লাখ টাকার চেক ও ফেনসিডিলসহ কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ট্রেন থেকে গ্রেপ্তার হন চট্টগ্রামের তখনকার জেলার সোহেল রানা বিশ্বাস৷ 

সে সময় তিনি গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে নিজের ঘুষ বাণিজ্যের পেছনে সহায়ক শক্তি হিসেবে সেখানকার তৎকালীন ডিআইজি পার্থ গোপাল বণিকের নাম বলেন৷

ওই তথ্যের সূত্র ধরে দুদকের অনুসন্ধানী দল পার্থ গোপালকে সেগুনবাগিচার কার্যালয়ে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে৷ 

পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২০১৯ সালের ২৯ জুলাই তার ভূতেরগলির ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে ৮০ লাখ টাকা উদ্ধার করার কথা জানায় দুদক৷
 
দুদকের কর্মকর্তারা সে সময় বলেছিলেন, উদ্ধার হওয়া টাকার মধ্যে পার্থের ফ্ল্যাটের দেয়াল কেবিনেটে গেঞ্জিতে মোড়ানো ছিল ৫০ লাখ টাকা৷ একটি স্কুল ব্যাগ থেকে উদ্ধার করা হয় বাকি ৩০ লাখ টাকা৷

আটকের সময় পার্থ সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেছিলেন, এই ৮০ লাখ টাকা তার বৈধ আয় থেকে অর্জিত৷ এর মধ্যে ৩০ লাখ টাকা তার শাশুড়ি দিয়েছেন, বাকি ৫০ লাখ টাকা তার সারা জীবনের জমানো টাকা৷ ফ্ল্যাটের নিচে থাকা তার ব্যবহারের গাড়িটির মালিকও তিনি নন, তার বন্ধুর গাড়ি ব্যবহার করেন৷ যে ফ্ল্যাটে থাকেন তাও তার শাশুড়ির বলে দাবি করেছিলেন তিনি৷

পরদিন দুদকের সহকারী পরিচালক মো. সালাহউদ্দিন বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন৷ পার্থ গোপাল বণিককে সাময়িক বরখাস্ত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়৷ এক বছরের বেশি সময় তদন্তের পর ২০২০ সালের অগাস্ট মাসে এ মামলায় অভিযোগপত্র দেন তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক মো. সালাহউদ্দিন৷

২০২০ সালের ৪ নভেম্বর পার্থ গোপালের বিচার শুরুর আদেশ দেয় আদালত৷ 

আরআর/জেডএ (বিডিনিউজ টোয়েন্টি ফোর ডটকম)