1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

এইচআইভি/এইডসের ‘বিপদ' এড়াতে প্রয়োজন শত কোটি টাকার অর্থায়ন

৫ আগস্ট ২০২২

২০২১ সালে প্রায় ১৫ লাখ মানুষের দেহে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে৷ পূর্বধারণার চেয়ে এই সংখ্যা ১০ লাখ বেশি৷ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোভিডের কারণে এইডস নিয়ে কাজ ‘ক্ষতিগ্রস্ত' হয়েছে এবং দ্রুত আবার সেটি শুরু করা উচিত৷

https://p.dw.com/p/4FB6B
Rasterelektronenmikroskopische Aufnahme von HIV-Partikeln
ছবি: National Institutes of Health/StockTrek Images/imago

করোনা ভাইরাসের মহামারি খুব অল্প সময়ের মধ্যে অনেক কিছু পালটে দিয়েছে৷ এইচআইভি এবং এইডসের সংক্রমণ ছড়ানো বন্ধ এবং আক্রান্তদের চিকিৎসার বিষয়ে নেয়া বৈশ্বিক কৌশলেও এসেছে পরিবর্তন৷

ডয়চে ভেলেকে পাঠানো এক ইমেইলে ইউএনএইডসের নির্বাহী পরিচালক উইনি বায়ানিমা বলেছেন, ‘‘পশ্চিম, মধ্য আফ্রিকা এবং ক্যারিবিয়ানে আমরা নতুন সংক্রমণের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমতে দেখেছি৷''

তিনি বলেছেন, ‘‘বিশ্বজুড়ে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে আড়াই কোটিরও বেশি মানুষ এইচআইভির চিকিৎসা নিচ্ছেন৷ এটা এমন এক অর্জন, যা কয়েক বছর আগেও এটা অবিশ্বাস্য ছিল৷''

সংক্রমণের হার বাড়ছে

জুলাই মাসের শেষ দিকে ইউএনএইডস একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে৷ প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২১ সালে এইচআইভির সংক্রমণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে৷ পূর্বাভাসের তুলনায় ১০ লাখ বেশি মানুষের দেহে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেছে৷

পূর্ব ইউরোপ, মধ্য এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা এবং লাতিন অ্যামেরিকায় এইচআইভি সংক্রমণ বেশি বাড়ছে৷

২০২১ সালে এইডসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাড়ে ছয় লাখ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে৷ এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিশ্বে প্রতি মিনিটে একজনের মৃত্যু ঘটেছে৷

মহামারিই দায়ী?

ইউএনএইডস জানিয়েছে, বিশ্বের নজর করোনা ভাইরাসের দিকে সরে আসার পর থেকেই এইডসের সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে৷ সংস্থাটির উপ নির্বাহী পরিচালক ম্যাথিউ কাভানাহ জানিয়েছেন, ‘‘অনেক দেশে এইডসের ব্যবস্থাপনা কোভিড মোকাবিলায় নিয়োগ করা হয়েছে৷ এর ফলে কোভিড মোকাবিলায় দারুণ সফল হওয়া গেছে কিন্তু দুটোতে একসঙ্গে মনোযোগ দেয়ার মতো সম্পদ ছিল না৷ এর যা ফল হয়েছে সেটি হলো, এইডস মোকাবিলার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে৷''

তবে কেবল মহামারি নয়, লিঙ্গ, অর্থনীতি এবং জাতি সম্পর্কিত বৈষম্যও এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে৷ উদাহরণস্বরূপ, আফ্রিকান দেশগুলোতে অল্পবয়স্ক নারী এবং বয়সন্ধিকালে থাকা কিশোরীরা বেশি আক্রান্ত হয়েছে৷ এসব দেশে অল্পবয়স্ক তরুণদের তুলনায় অল্পবয়স্ক নারীরা তিনগুণ বেশি আক্রান্ত হয়েছেন৷

ধনী দেশগুলোতে শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় অন্য বর্ণের মানুষের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণ বেশি৷ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ক্যানাডার ক্ষেত্রে এমনটা দেখা গেছে৷ ইউএনএইডসের প্রতিবেদনে দেখা গেছে সমকামী পুরুষদের মধ্যে একই বয়সি বিসমকামী পুরুষদের তুলনায় এইচআইভি সংক্রমণ ২৮ গুণ বেশি৷

নতুন ওষুধ আসছে

কাভানাহ জানিয়েছেন, এইচআইভি সংক্রমণ প্রতিরোধে লং অ্যাক্টিং ইনজেক্টেবল কাবোটেগ্রাভির (কাব-লা) নামের একটি ওষুধ প্রতি দুই-তিন মাস অন্তর ব্যবহার করা যায়৷ ইইচআইভির জিনকে প্রতিরোধ করার মাধ্যমে এটি কাজ করে৷ এর ফলে এই ভাইরাস মানুষের শরীরের ডিএনএতে কোনো প্রতিক্রিয়া ফেলতে পারে না৷ ফলে নিজের সংখ্যা বাড়িয়ে শরীরে ছড়িয়েও পড়তে পারে না৷

এইচআইভি ঠেকাতে বিভিন্ন দেশকে তাদের কৌশলে এই ওষুধটিও অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে৷ কিন্তু এই ওষুধের দাম এখন সাধারণ মানুষের পক্ষে অনেক বেশি, সেটিও বিবেচনায় রাখার কথা বলা হয়েছে৷

এইচআইভির টিকা নিয়েও কাজ অনেকদূর এগিয়ে গেছে৷ ২০২২ সালের মার্চে তিনটি টিকার ট্রায়াল শুরু হয়েছে৷ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, টিকা সফল হলে বিশ্বজুড়ে এইচআইভি এবং এইডস সংক্রমণ প্রতিরোধে আসবে দ্রুতগতি৷

২০১৯ সালের ছবিঘর

ফ্রেড শ্ভালার/এডিকে