1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

আলোকসজ্জায় নতুন মাত্রা

কশুক/স্ট্রাউস/এসবি১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৬

স্থাপত্যের ক্ষেত্রে শুধু ডিজাইন নয়, আলোকসজ্জাও গুরুত্বপূর্ণ৷ কৃত্রিম আলো ছাড়াই যদি সেই আলোকসজ্জা সম্ভব হয়, তাহলে তার মাত্রাই আলাদা৷ জার্মানির এক ডিজাইনার তাঁর অভিনব আইডিয়ার মাধ্যমে লাইট ডিজাইনকে নতুন আঙ্গিকে তুলে ধরছেন৷

https://p.dw.com/p/1Hry9
DW Euromaxx Lichtdesigner Andreas Schulz
ছবি: Licht Kunst Licht AG/Andreas Schulz

আলো ও ডিজাইনের মধ্যে নতুন ‘সেতুবন্ধ’

বন শহরের কাছে একটি রেস্তোরাঁ যাতে দিনের আলো এবং রাতের অন্ধকারেও অপরূপ হয়ে থাকে, তা নিশ্চিত করতে আন্দ্রেয়াস শুলৎস বিশেষ আলোকসজ্জা সৃষ্টি করেছেন৷ ডিজাইনার হিসেবে তিনি অবশ্য শুরু থেকেই আলোকসজ্জার সঙ্গে পারিপার্শ্বিকের মেলবন্ধনে বিশ্বাস করেন৷ শুলৎস বলেন, ‘‘আইডিয়া ছিল এমন সারফেস রাখা, যার উপর আলো পড়লে বেশি প্রতিফলন ঘটবে না৷ এমন নিষ্প্রভ এক সারফেস, সামনের কাচেও যার প্রতিফলন ঘটবে না৷ ফলে বাইরে তাকালে সেই সারফেস চোখেই পড়বে না৷ এটাই ছিল কনসেপ্টের আইডিয়া৷''

ড্রাখেনফেল্স রেস্তোরাঁর ইজারাদার হিসেবে হেয়ারমান নলডেন সহজেই আলোকসজ্জা বদলানোর সুযোগ থাকায় খুশি৷ তিনি বলেন, ‘‘সন্ধ্যার সময় আমি এর সুফল পাই৷ তাছাড়া ড্রাখেনফেল্স শুধু দিনের বেলায় খোলা থাকে না, এখানে অনেক অনুষ্ঠানও হয়৷ সন্ধ্যায় অন্ধকার নামলে আলোর প্রয়োজন হয়৷''

Museum Morsbroich Ausstellung Aufschlussreiche Räume - Andreas Schulze
ছবি: DW/S. Oelze

সিলিংয়ের আলো ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে সাজানো যায়৷ টেবিল-চেয়ার নাড়াচাড়া করলেও আলোর ছটা ঠিক টেবিলের মাঝে ফেলে প্রয়োজনীয় আবহ সৃষ্টি করা সম্ভব৷ চৌকো রঙিন এলইডি বাতিগুলি সত্যি নজর কাড়ার মতো৷ এর মধ্যে লালের ছটা ড্রাগনের রক্তের রংয়ের প্রতীক৷ এটাই ‘ড্রাখেনফেল্স' রেস্তোরাঁর নিজস্ব রং৷ নিজস্ব অনুষ্ঠান থাকলে কোম্পানিগুলি তাদের ব্র্যান্ডের রংও ব্যবহার করতে পারে৷

এখানকার আলোকসজ্জার কনসেপ্টের জন্য আন্দ্রেয়াস শুলৎস ও তাঁর টিম এ বছর হোটেল-রেস্তোরাঁ বিভাগে জার্মান লাইট ডিজাইন পুরস্কার পেয়েছেন৷ তবে এটাই আন্দ্রেয়াস শুলৎসের সংস্থার একমাত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রকল্প নয়৷ লাইপসিশ শহরে মাটির নীচে এক লোকাল ট্রেন স্টেশনের আলোকসজ্জার জন্যও স্বীকৃতি পেয়েছে এই টিম৷ সেখানে কৃত্রিম আলো দিয়েই প্ল্যাটফর্মে দিনের আলোর আবহ তৈরি করা হয়েছে৷ বল্টিক সাগর উপকূলে এক শিল্পকলার মিউজিয়ামের আলোর ডিজাইনের জন্যও পুরস্কার পেয়েছেন তাঁরা৷ আন্দ্রেয়াস শুলৎস বলেন, ‘‘এখানে প্রশ্ন ছিল, কীভাবে এই ভবনকে এমনভাবে আলোকিত করা যায়, যাতে কৃত্রিম আলোর প্রয়োজন না পড়ে৷ অর্থাৎ দিনের আলোকে ঠিকমতো কাজে লাগানো, তার ‘ডায়নামিক' বা গতিশীল চরিত্র ধরে রাখা, প্রদর্শনীর ঘরগুলিকে প্রাণবন্ত করে তোলা – এ সব ছিল চ্যালেঞ্জ৷ কারণ একদিকে সংগ্রহশালার কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে৷ দিনের আলো শিল্পকর্মের ক্ষতি করতে পারে৷ তার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করতে হয়েছে৷ এই সিস্টেমে আমরা সেটা করতে পেরেছি৷''

১৯৯১ সাল থেকে বন ও বার্লিনে আন্দ্রেয়াস শুলৎসের দপ্তর রয়েছে৷ ২৬ জন কর্মীদের মধ্যে অনেকেই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত লাইট ডিজাইনার৷ তাঁদেরই একজন মার্টিনা ভাইস৷ তিনি বলেন, ‘‘একেবারে মৌলিক বিষয়গুলি শিখতে হয়৷ দিনের আলো নিয়েও অনেক ভাবনা-চিন্তা করতে হয়৷ যেমন মানুষের উপর বা দপ্তরে কাজের জায়গায় তার প্রভাব কী?''

আন্দ্রেয়াস শুলৎস এমন অপ্রচলিত আইডিয়ার মাধ্যমে আলো ও ডিজাইনের মাধ্যমে এক সেতুবন্ধ গড়ে তুলছেন৷ জার্মানির ‘ডয়চে টেলেকম' কোম্পানির জন্য আক্ষরিক অর্থেই একটি সেতু গড়ে দিয়েছেন তিনি৷ আন্দ্রেয়াস বলেন, ‘‘এক টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি যে মানুষের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করে, এই সেতুর মাধ্যমে সেটা ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছিলাম৷ গোটা সেতু জুড়ে এক মিডিয়া স্ক্রিন রয়েছে, যা একেবারে সেতুর মাপেই তৈরি৷ এর মাধ্যমে বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া যায়৷''

আন্দ্রেয়াস শুলৎস নিজে অবশ্য এই স্পষ্ট বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছেন, যে লাইট ডিজাইন তাঁর কাছে আলোকসজ্জার চেয়ে অনেক বড় বিষয়৷

স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য

এই বিষয়ে আরো তথ্য