1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

আফ্রিকায় মাটি ছাড়াই সারা বছর চাষের সুযোগ

২০ অক্টোবর ২০২১

বেড়ে চলা জনসংখ্যার খাদ্যের চাহিদা মেটাতে, পরিবেশ সংরক্ষণ ও জঞ্জাল ব্যবস্থাপনার স্বার্থে হাইড্রোপনিক্স চাবিকাঠি হতে পারে৷ ঋতুর উপর নির্ভর না করে সারা বছর ধরে শাকসবজির জোগান নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে আফ্রিকার একটি দেশে৷

https://p.dw.com/p/41v2t
ছবি: GUILLEM SARTORIO/AFP/Getty Images

বুরকিনা ফাসোর রাজধানী ওয়াগাদুগুতে আফ্রিকার কয়েকটি দেশের চাষি মাটি ছাড়াই চাষের কাজ শিখছেন৷ সবুজ বরবটি ও টমেটো চাষ করতে হলে পানি ও নারকেলের কয়ার বা ছোবড়াই যথেষ্ট৷

আজারাতু সানোগো লক্ষ্য করেন, যে বছরের কিছু সময়ে শহরের বাজারে শাকসবজির সরবরাহ কমে যায়৷ কয়েক বছর আগেই তিনি হাইড্রোপনিক্স পদ্ধতি কাজে লাগাতে শুরু করেন৷ তিনি বলেন, ‘‘এখানকার চাষিরা চিরকাল চিরায়ত পদ্ধতিতে কাজ করে এসেছেন৷ কিন্তু মাটির অবস্থা বেশ খারাপ এবং ফসলের পরিমাণও কমে চলেছে৷ কয়েকজন চাষি এমনকি নিজস্ব চাহিদাও আর পূরণ করতে পারেন না৷ বিক্রিবাটার তো প্রশ্নই নেই৷ আমার মতে, এই পদ্ধতি তুলনামূলকভাবে ভালো৷ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনে আরও বেশি উৎপাদন করা যায়৷''

সাহেল অঞ্চলে কৃষিপণ্যের উৎপাদন ৩০ শতাশ কমে যাবে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন৷ সেই প্রবণতার মোকাবিলা করতে আজারাতু আন্তর্জাতিক সহায়তায় এক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করেছেন৷ তিনি অন্যদের কাছেও নিজের জ্ঞান বিতরণ করতে চান৷

কোর্স ভরে গেছে৷ সোশাল মিডিয়ার কল্যাণে মালি, চাদ ও কঙ্গোর মতো প্রতিবেশী দেশেও এই প্রশিক্ষণের খবর ছড়িয়ে পড়েছে৷ অংশগ্রহণকারীদের ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত স্বার্থও রয়েছে৷ অংশগ্রহণকারী হিসেবে  এভেলিন দাহানি বলেন, ‘‘আমি এই কোর্সে অংশ নিচ্ছি, কারণ বছরের যে কোনো সময়ে আমি নিজের ও পরিবারের জন্য অরগ্যানিক খাদ্য উৎপাদন করতে চাই৷ হাইড্রোপনিক্সের ক্ষেত্রে ঋতুর উপর নির্ভর করতে হয় না৷ সারা বছরই ফসল তোলা যায়৷''

হাইড্রোপনিক্সের সাহায্যে শিক্ষার্থীরা আরও দ্রুত বড় শাকসবজি ফলনের কৌশল শিখতে পারেন৷ বিশেষ এই প্রশিক্ষণের জন্য তাদের ১০ ইউরোর মতো মাসুল গুনতে হয়৷ অনেকে বেশি টাকা দিয়ে আরও কোর্সে অংশ নেন৷ বাদুহা কোম্পানির আজারাতু সানোগো বলেন, ‘‘আমরা চার মাস ধরে সম্পূর্ণ কোর্স আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, কারণ বীজ বপন থেকে ফসল তোলা পর্যন্ত মোটামুটি চার মাস সময় লাগে৷ এভাবে উৎপাদনের সব পর্যায় সম্পর্কে জানা যায়৷''

তাত্ত্বিক জ্ঞান আয়ত্ত করা ও হাতেনাতে কাজ শেখা দুটোই জরুরি৷ মাটির বিকল্প হিসেবে মাটির পেলেট, নারকেলের তন্তু বা অরগ্যানিক সারের মতো প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করা যায়৷ গ্রিনহাউসের মধ্যে এমনকি বর্ষাকালেও টমেটো গজায়৷ নিয়মিত সেগুলি তোলার সুযোগও রয়েছে৷

অদূর ভবিষ্যতেই টমেটো, পিঁয়াজ ও মরিচ এক অরগ্যানিক স্টোরে পাঠানো হবে৷ এক স্থানীয় সমবায় পরিবেশ সচেতন ক্রেতাদের কাছে এমন শাকসবজি বিক্রি করে৷ বায়োপ্রোটেক্ট প্রকল্পের বাণিজ্যিক প্রধান মুসা উয়েদ্রাওগো বলেন, ‘‘অরগ্যানিক চাষিরাও যাতে তাঁদের কাজের জন্য ন্যায্য পারিশ্রমিক পান, তা নিশ্চিত করতে অরগ্যানিক শাকসবজির জন্য খুচরা ব্যবসার চ্যানেলের প্রয়োজন৷ চাষিরা শুধু অরগ্যানিক প্রক্রিয়া ও পণ্য ব্যবহার করে পরিবেশ সংরক্ষণ করছেন না, তারা নিজেদের ও ক্রেতাদের স্বাস্থ্যও রক্ষা করছেন৷''

কিন্তু অনেক শহরবাসীর জন্য অরগ্যানিক খাবারের দাম অত্যন্ত বেশি৷ সম্ভব হলে তাঁরা এখনো নিজেরাই শাকসবজির চাষ করেন৷ শহরের একটা ছোট এলাকা সেই লক্ষ্যে ধার্য করা হয়েছে৷ কিন্তু এমন জায়গা কমে চলেছে বলে পুরসভা আশঙ্কা করছে৷ বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আগামী দশ বছরে শহরের জনসংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যাবে৷

তবে নতুন এই চাষের প্রক্রিয়ার জন্য অরগ্যানিক সারের জোগান দিয়ে জঞ্জাল পরিষেবা কোম্পানিগুলিরও মুনাফা হতে পারে৷ কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি ক্রিস্টফ উদ্রাওগো মনে করেন, ‘‘হাইড্রোপনিক ফার্মিং বুরকিনা ফাসোর জন্য অনেক সুবিধা বয়ে আনছে৷ বিশেষ করে আমাদের বর্তমান সমস্যাগুলি মেটাতে আমরা উৎপাদন আরও বাড়াতে পারি এবং ফসলে আরও বৈচিত্র্য আনতে পারি৷ একই সঙ্গে শহরের অনেক জঞ্জাল পুনর্ব্যবহারের সুযোগও রয়েছে৷ ফলে শহর আরও পরিষ্কার ও সবুজ হয়ে উঠতে পারে৷''

এই উদ্যোগের আওতায় ২০টি গ্রামে কোর্স চালু হয়েছে৷ আজারাতু সানোগো সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে চাষিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এক ‘ভার্চুয়াল সমবায়' সৃষ্টি করেছেন৷ এভাবে বুরকিনা ফাসোর আরও অনেক অংশে স্বাস্থ্যকর কৃষিপণ্য মানুষের নাগালে নিয়ে আসা হচ্ছে৷

কুলিবালি/মিলকে/এসবি