1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

অবশেষে ‘হ্যাঁ' বললো ব্রিটিশ সংসদ

৩০ অক্টোবর ২০১৯

ব্রেক্সিট চুক্তি অনুমোদন করতে ব্যর্থ হলেও আগাম নির্বাচনের প্রশ্নে অবশেষে বিরল ঐক্য দেখালো ব্রিটিশ সংসদ৷ ফলে ডিসেম্বর মাসে আগাম নির্বাচনের পরেই ব্রেক্সিট প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ স্পষ্ট হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে৷

https://p.dw.com/p/3SAjw
ব্রিটিশ সংসদে লেবার নেতা জেরেমি কর্বিন
ছবি: picture-alliance/AP Photo/UK Parliament/Jessica Taylor

ব্রেক্সিট সংক্রান্ত অচলাবস্থার জন্য টেরেসা মে ও বরিস জনসন বার বার ব্রিটিশ সংসদকে দায়ী করেছেন৷ একমাত্র চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের বিরুদ্ধে সংসদ সদস্যরা ঐক্যবদ্ধ হলেও এতকাল তারা কোনো পদক্ষেপের ক্ষেত্রে ঐক্য দেখাতে পারেন নি৷ তাঁরা কী চান না, শুধু সেটাই বার বার স্পষ্ট করে দিয়েছেন৷ মঙ্গলবার রাতে সেই প্রবণতা ভেঙে তাঁরা আগাম নির্বাচনের পথ সুগম করে দিলেন৷ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের প্রস্তাব মেনে তাঁরা ১২ই ডিসেম্বর নির্বাচন আয়োজন করার পক্ষে বিপুল সমর্থন জানিয়েছেন৷

১৯২৩ সালের পর ব্রিটেনে ডিসেম্বর মাসে, বড়দিন উৎসবের ঠিক আগে কখনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় নি৷ কিন্তু সংসদে ব্রেক্সিট নিয়ে লাগাতার অচলাবস্থা কাটাতে জনসন এ ছাড়া অন্য কোনো পথ দেখছেন না৷ তাঁর আশা, ভোটারদের বিপুল সমর্থন পেয়ে তিনি সরকার গড়তে পারবেন৷ সে ক্ষেত্রে সংসদেও টোরি দলের নিজস্ব সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে তিনি ব্রেক্সিট চুক্তি অনুমোদন করিয়ে ৩১শে জানুয়ারি ব্রেক্সিট কার্যকর করতে পারবেন৷

ইউরোপীয় ইউনিয়ন মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রেক্সিটের সময়সীমা তিন মাস পর্যন্ত বাড়ানোর পর ব্রিটেনের বিরোধী লেবার দল আগাম নির্বাচনের প্রস্তাব মেনে নিয়েছে৷ লেবার নেতা জেরেমি কর্বিন বলেন, চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হওয়ায় তাঁর দল আগের ঘোষণা অনুযায়ী ভোটারদের রায় জানতে প্রস্তুত৷ উদারপন্থি লিবডেম ও স্কটল্যান্ডের এসএনপি দলও ৯ই ডিসেম্বরের বদলে ১২ই ডিসেম্বর নির্বাচনের তারিখ মেনে নিয়েছে৷ ফলে ৪৩৮ জন সংসদ সদস্য প্রস্তাবের পক্ষে, মাত্র ২০ জন বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন৷ সংসদের উচ্চ কক্ষের অনুমোদনের পর সেটি চূড়ান্ত হবে৷

উল্লেখ্য, জনসনের পূর্বসুরি টেরেসা মে-ও ২০১৭ সালে আগাম নির্বাচন ডেকে বিপুল জনসমর্থনের আশা করেছিলেন৷ কিন্তু সে যাত্রায় টোরি দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে জোট সরকার গড়তে বাধ্য হয়েছিল৷ জনমত সমীক্ষায় টোরি দল এগিয়ে থাকলেও ডিসেম্বরের নির্বাচনের ফলাফল সম্পর্কেও বিশেষজ্ঞরা এই মুহূর্তে কোনো পূর্বাভাষ দিতে পারছেন না৷ তবে টোরি দলের পরাজয় ঘটলে অথবা কোনো দলই সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে ব্রেক্সিট প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ আবার অনিশ্চিত হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে৷

ইইউ সদস্যদের সরকারগুলির পরিষদের প্রধান ডোনাল্ড টুস্ক মঙ্গলবার তাঁর বিদায়ী টুইট বার্তায় ব্রেক্সিটের মেয়াদ বাড়ানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে ব্রিটিশ বন্ধুদের এই বাড়তি সময় ভালভাবে কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন৷

এসবি/কেএম (রয়টার্স, ডিপিএ)