1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

সৌদি আরবে বেশ কয়েকজন যুবরাজ ও মন্ত্রী আটক

৫ নভেম্বর ২০১৭

সৌদি আরবের ১১ জন যুবরাজ, চারজন মন্ত্রী ও কয়েক ডজন সাবেক মন্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছেন সেদেশের দুর্নীতি দমন কর্তৃপক্ষ৷ এর কয়েক ঘণ্টা আগেই যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে দেশটিতে নতুন একটি দুর্নীতি দমন কমিটি গঠিত হয়৷

https://p.dw.com/p/2n3Al
ছবি: picture-alliance/abaca/Bakis Press

নতুন কমিটিকে দুর্নীতির ঘটনাগুলোর তদন্ত, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি, ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা এবং সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে৷ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল আল আরাবিয়া অবশ্য জানিয়েছে, ২০০৯ সালে জেদ্দায় বন্যা ও ২০১২ সালে মার্স ভাইরাস ছড়ানোর নিয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু হয় সৌদি আরবে৷

ব্যবসায়ী কোটিপতি আলওয়ালিদ বিন তালালসহ ১১ যুবরাজ, চার মন্ত্রী এবং সাবেক আরো ১০ মন্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷ রবিবার শীর্ষ দুই সৌদি কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে৷ সৌদি আরবের সাবেক অর্থমন্ত্রী ইব্রাহিম আল-আসাফও গ্রেপ্তার হয়েছেন৷ এছাড়া আটককৃতদের মধ্যে আছেন অর্থনীতি মন্ত্রী, রিয়াদের সাবেক গভর্নর এবং রয়্যাল আদালতের সাবেক প্রধান বিচারপতি৷ অবশ্য এটাই প্রথমবার নয়, সেপ্টেম্বরেও সৌদি রাজপরিবারের বিরোধী অন্তত ৩০ জন রাজনীতিবিদ, ইমাম, বুদ্ধিজীবী এবং অধিকার কর্মীদের আটক করা হয়েছিল৷


জাতীয় নিরাপত্তা প্রধান প্রিন্স মিতেব বিন আব্দুল্লাহকে আটক করে তাঁর পদে প্রিন্স খালেদ বিন আয়াফকে স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে৷ সৌদি বাদশাহ সালমান শনিবার আলাদা ডিক্রিতে এই রদবদলের আদেশ দেন, যার মধ্য দিয়ে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের প্রভাব আরও সুসংহত করা হলো বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো৷ রয়্যাল ঐ ডিক্রিতে বলা হয়, ‘‘দুর্নীতি সমূলে উৎপাটন না করলে এবং দুর্নীতিবাজদের শাস্তি না দিলে দেশকে বাঁচানো যাবে না৷'' তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুবরাজ সালমান দেশের রাজনীতিতে যে সংস্কার করতে চান, সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে দুর্নীতির অজুহাতে তাঁর বিরোধীদের শক্তিশালী পদ থেকে সরিয়ে দিচ্ছেন৷

প্রিন্স মোহাম্মদের নতুন লক্ষ্য
প্রিন্স মোহাম্মদকে এরই মধ্যে দেশটির ‘ডি ফ্যাক্টো' নেতা হিসেবে মনে করছেন সেখানকার জনগণ৷ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা যুবরাজ এই রদবদলের ফলে পুরো দেশের সব নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর প্রাথমিক নিয়ন্ত্রণ পেলেন৷ তবে তিনি বর্তমানে দেশের অর্থনৈতিক সংস্কারের দিকে সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন৷ পাশাপাশি দেশের রক্ষণশীল কিছু প্রথা ভেঙে সমাজ সংস্কারের চেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছেন যুবরাজ৷


এ বছরের সেপ্টেম্বরে সৌদি নারীদের গাড়ি চালানোর উপর নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নিয়ে রক্ষণশীল সৌদি সমাজে প্রথার বিরুদ্ধে হাঁটতে শুরু করেন যুবরাজ৷ এরপর থেকে আরও নানা ধরনের সংস্কার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি৷ সম্প্রতি রিয়াদে এক অর্থনৈতিক সম্মেলনে তিনি বলেন, সৌদি আরবের আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে তাঁর পরিকল্পনার মূলমন্ত্র হবে ইসলামের কট্টর অবস্থান থেকে উদারনীতিতে ফিরে আসা৷ চলতি বছর জুনে সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হওয়ার পর থেকেই বিশ্বে সৌদি আরবের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে নানা ধরনের সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিচ্ছেন যুবরাজ মোহাম্মদ৷

এপিবি/ডিজি (এপি, এএফপি, রয়টার্স)

এ ব্যাপারে আপনার কোন মতামত থাকলে লিখুন নীচে মন্তব্যের ঘরে৷