1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

মনে রাখার সহজ উপায়

১১ জানুয়ারি ২০১৬

ছোটবেলায় স্কুলে নামতা বা কবিতা মুখস্থ করতে হয়েছে অনেককেই৷ আজকাল কম্পিউটার আর স্মার্টফোনের যুগে প্রায় কিছুই মনে রাখার দরকার হয় না৷ কিন্তু স্মৃতিশক্তির প্রয়োজন মোটেই ফুরায়নি৷

https://p.dw.com/p/1HYyE
Alzheimer (Symbolbild)
ছবি: Colourbox

আজকাল আর অচেনা শহরেও ঠিকানা মনে রাখতে হয় না৷ টেলিফোন নম্বর বা জন্মদিনও আলাদা করে মনে রাখার দরকার নেই৷ মস্তিষ্কের স্মৃতিভাণ্ডার এখন ‘আউটসোর্স' করা হচ্ছে স্মার্টফোন ও ডেটা গ্লাসের মধ্যে৷ মাথা খালি রাখাই স্বাভাবিক হয়ে উঠছে৷ কিন্তু স্নায়ুবিজ্ঞানী বরিস কনরাড এই প্রবণতার বিপক্ষে৷ তাঁর মতে, ভালো স্মৃতিভাণ্ডার পেশাগত ও সামাজিক ক্ষেত্রে সাফল্যের চাবিকাঠি৷ কনরাড বলেন, ‘‘স্কুলে থাকতে মনে হতো শেখার সীমা আছে৷ কখনো ভাবি নি, যে আমি নিজেই নিজের স্মৃতিভাণ্ডারের ক্ষমতা প্রভাবিত করতে পারি৷''

বরিস কনরাড-এর স্মৃতিশক্তি বেশ প্রখর৷ তবে গিনিস বুক অফ রেকর্ড-এ স্থান পেতে তাঁর কোনো অসাধারণ ক্ষমতার প্রয়োজন হয়নি৷ সবটাই পেরেছেন অনুশীলনের কল্যাণে৷ তিনি বলেন, ‘‘যে কেউ, মানে যে কোনো সুস্থ মানুষ এটা করতে পারে৷ প্রতিভা বা বয়স কোনো বাধা নয়৷ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্মৃতিশক্তির যথেষ্ট উন্নতি সম্ভব৷''

বিশ্ব স্মৃতিশক্তি চ্যাম্পিয়ন ৫২টি তাসের বিন্যাস মুখস্থ করতে চান৷ সাধারণ মানুষের কাছে যা অসম্ভব মনে হয়, তাঁর কাছে সেই বিষয়টি মোটেই অস্বাভাবিক নয়৷ শেখার প্রক্রিয়া মস্তিষ্কের কাছে কাজের মতো৷ প্রতিটি নতুন তথ্য স্নায়ুকোষগুলির মধ্যে পথগুলি সম্প্রসারণ করে ডেটা হাইওয়ে সৃষ্টি করে৷ তার যত ব্যবহার হয়, ভবিষ্যতে তত দ্রুত জ্ঞানের নাগাল পাওয়া যায়৷

তাসের পরীক্ষার জন্য কনরাড-এর এক বিশেষ কায়দা আছে৷ একবার দেখে নিয়ে তিনি শুধু স্মৃতিশক্তি কাজে লাগিয়ে সব তাস আগের মতো হুবহু সাজিয়ে ফেলতে পারেন৷ এমন অসাধারণ কাজ করতে হলে মস্তিষ্ককে সবচেয়ে দ্রুত গতিতে কাজ করতে হয়৷ তাস মুখস্থ করতে কনরাড-এর রেকর্ড ৩০ সেকেন্ড৷ একেবারে ক্রমানুসারে তাস সাজিয়েছেন তিনি৷ কোনো ভুল হয় নি৷ এর জন্য জিনিয়াস হবার দরকার নেই, অত্যন্ত সহজ উপায়ে এটা করা সম্ভব৷ বরিস কনরাড বলেন, ‘‘সব ধরনের মেমারি ট্রেনিং-এর ভিত্তি একই৷ সেটা হলো ছবির মাধ্যমে ভাবা৷ তাতে বাড়তি অংশ সক্রিয় হয়ে ওঠে৷ ফলে বেশি জিনিস মনে রাখা সম্ভব৷''

কিন্তু ৫২টি তাসের বিন্যাস মনে রাখার উপায় কী? কনরাড প্রতিটি তাসের জন্য মনে আলাদা ছবি তৈরি করেন৷ সেগুলি দিয়ে একটি রুট তৈরি করেন৷ তিনি বলেন, ‘‘প্রথম তাসটি রুইতনের ৫৷ তার জন্য আমি স্ট্যাচুর হিরোকে কল্পনা করলাম৷ সে একচাকা সাইকেলে দাঁড়িয়ে৷ তারপর এল হরতনের ৯৷ তার জন্য আমি সিঁড়ির ছবি বেছে নিলাম৷ কল্পনা করলাম, সিঁড়িতে বসে কেউ চুমু খাচ্ছে৷ তারপর এলো হরতনের ৩, যেটা কানের মতো দেখতে৷ কল্পনা করলাম, দেয়াল থেকে অনেক কান বেরিয়ে আছে৷ এভাবেই বাকিগুলিও ছবি তৈরি হয়৷''

এ এক অসাধারণ সাফল্য, সবারই অনুকরণের যোগ্য৷

স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য

এই বিষয়ে আরো তথ্য

আরো সংবাদ দেখান