1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

পরিবেশ রক্ষায় নিবেদিত প্রাণ গ্রিনপিস

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১১

গ্রিনপিস – সবুজ শান্তি বললে একেবারে ভুল হবে না৷ আজ থেকে প্রায় চল্লিশ বছর আগে কানাডার ভ্যানকুভারে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল সবুজ প্রকৃতি এবং পরিবেশ রক্ষায় নিবেদিত প্রতিষ্ঠান গ্রিনপিস৷

https://p.dw.com/p/12YNA
ছবি: IWMI

অ্যালাস্কা সংলগ্ন উপকূলে অ্যামেরিকা চালিয়েছিল পারমাণবিক পরীক্ষা এবং এর মূল্য দিয়েছিল কয়েক হাজার সী অটার বা সামু্দ্রিক  উদ্বিড়াল৷ হাজার হাজার মৃত অটার সমুদ্রের তীরে ভেসে এসেছিল৷ সবগুলো অটারের কান থেকে রক্ত ঝরছে৷ আরভিং স্টো এবং তাঁর স্ত্রী ডরোথি এর প্রতিবাদে একটি পিটিশন লঞ্চ করেন ভ্যানকুভারে৷গড়ে তোলেন একটি সংগঠন৷ নাম দেন ‘ডোন্ট মেইক এ্যা ওয়েইভ' গ্রুপ৷

আরভিং স্টো জানান, সমুদ্রের তীরে যে সব সামুদ্রিক উদ্বিড়াল ভেসে এসেছিল তাদের সবগুলোর কান থেকে রক্ত ঝরছিল, কান ছিড়ে গিয়েছিল অনেকগুলোরই৷ আর এগুলো হয়েছে পারমাণবিক বিস্ফোরণের কারণে৷ অ্যালাস্কার কাছে অ্যামচিটকা আটলে এই পারমাণবিক পরীক্ষা চালানো হয়৷

ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষও সমর্থন করতে থাকে পরিবেশবাদী এই গোষ্ঠীকে৷ একটি নৌকায় করে সদস্যরা দেখতে যান অ্যামচিটকা দ্বীপ, দেখতে যান কোন ধরণের পরীক্ষা চালানো হয়েছে৷ তারা সেই নৌকার নাম দেন ‘গ্রিন পিস'৷ আর্থিক সাহায্য আসতে থাকে গ্রিন পিসের সমর্থনে দূর দূরান্ত থেকে৷

১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সমুদ্রে গ্রিন পিস শুরু করে তার প্রথম আনুষ্ঠানিক শুভযাত্রা৷ যাত্রা শুরু হয় ভ্যানকুভার থেকে৷ তবে বেশিদূর যেতে পারেনি গ্রিন পিসের সেই ট্রলার৷ মার্কিন কোস্ট গার্ড নৌকা আটকে দেয়৷ ফিরিয়ে দেয় গ্রিন পিসকে৷ এরপরই আরো জোর সমর্থন পায় গ্রিন পিস৷ বিশ্বের মানুষের কাছে অ্যামেরিকার পারমাণবিক বিস্ফোরণের ঘটনা খুলে বলা হয়৷  ‘ডোন্ট মেইক অ্যা ওয়েইভ' গ্রুপ তাদের নাম পরিবর্তন করে৷ নতুন নাম হয় ‘গ্রিন পিস'৷

আগামী বৃহষ্পতিবার অর্থাৎ ১৫ই সেপ্টেম্বর গ্রিন পিস পালন করবে তার ৪০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী৷

যদিও গ্রিন পিসের জন্ম ক্যানাডার ভ্যানকুভারে, কিন্তু গ্রিন পিসের সদর দপ্তর নেদারল্যান্ডস-এর আমস্টারডাম শহরে৷

গ্রিন পিস ক্যানাডার প্রধান ব্রুস কক্স জানান, ‘‘গ্রিন পিস হচ্ছে একটি বিশেষ সময়ের, একটি বিশেষ স্থানের সুফল৷ ক্যানাডার প্রতিটি প্রান্তরেই পরিবেশকে রক্ষা করতে সবাই সচেষ্ট, সবার ভেতরই এই সচেতনতা কাজ করছে৷'' টরোন্টোতে অবস্থিত গ্রিন পিস ক্যানাডার সদর দপ্তর৷ এছাড়া বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে গ্রিন পিসের দপ্তর রয়েছে৷  গ্রিন পিসের জার্মান শাখায় খুবই সক্রিয়৷ 

১৯৬০ সালে তরুণ মার্কিন সাংবাদিক রেক্স ওয়েইলার অ্যামেরিকা থেকে ক্যানাডায় চলে আসেন৷ কাজ শুরু করেন গ্রিন পিসের পক্ষে৷ বার্তা সংস্থা এএফপিকে তিনি জানান, ‘‘আমরা সবাই একটি সবুজ আন্দোলন শুরু করতে চাইছিলাম৷ তখন আমাদের সামনে ছিল নাগরিক অধিকার আন্দোলন, নারী ও শান্তি আন্দোলন৷ ছিলনা শুধু পরিবেশ রক্ষার সত্যিকারের এক আন্দোলন৷''

হাসতে হাসতে ওয়েইলার আরো জানান, ‘‘গ্রিন পিসকে জনপ্রিয় করা আমাদের লক্ষ্য নয়, বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা, সবুজকে রক্ষা, পরিবেশকে ভালবাসবে সবাই – সেটাই আমরা দেখতে চাই, অর্জন করতে চাই৷''

গ্রিন পিস ইন্টারন্যাশনাল আমস্টারডামের সহ পরিচালক সেপোরাহ বেরমান জানান, ‘‘যারা প্রকৃতিকে ভালবাসে তাদের এই জায়গাটি ভাল লাগবে৷ কারণ আমস্টারডাম বিশ্বের সবুজতম শহর হিসেবে নিজেকে তুলে ধরতে চায়৷''

প্রতিবেদন: মারিনা জোয়ারদার

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক