1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

‘নাস্তিকতার মিথ্যা অভিযোগ’

১১ এপ্রিল ২০১৩

ক’দিন আগেও তাঁদের আহ্বানে সারাদেশ উঠে দাঁড়িয়েছিল৷ শুভকামনার প্রতীক হিসেবে আলোও জ্বলেছে দেশে৷ সেই গনজাগরণ মঞ্চ এবার লাঠিও নিয়েছে হাতে৷ হামলা প্রতিরোধের প্রতীকি অঙ্গীকার৷ এসব নিয়েই কথা হলো ডা. ইমরান এইচ সরকারের সঙ্গে৷

https://p.dw.com/p/18DKh
People attend a mass demonstration at Shahbagh intersection, demanding capital punishment for Bangladesh's Jamaat-e-Islami senior leader Abdul Quader Mollah, after a war crimes tribunal sentenced him to life imprisonment, in Dhaka February 8, 2013. More than fifty thousands of protesters rallied in cities across Bangladesh for a fourth day on Friday to demand the execution of an Islamist leader sentenced to life in prison for war crimes committed during the 1971 independence conflict. The flag in the picture has Bangladesh's country featured on the country's national flag. REUTERS/Andrew Biraj (BANGLADESH - Tags: POLITICS CIVIL UNREST)
ছবি: Reuters

গনজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, ধাপে ধাপে আন্দোলনের রূপ বদলের কথা৷ শুরুতে শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরের দিকেই ছিল জনস্রোত৷ এক সময় উল্টো স্রোতও এসেছে৷ জামায়াত-শিবির মাঠে নেমেছে, দেশময় চালিয়েছে তাণ্ডব৷ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে প্রচুর৷ সংখ্যালঘুরা ঘরছাড়া হয়েছেন অনেক জায়গায়, ঘরের মতো তাঁদের মন্দির আর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও চলেছে ভাংচুর, লুটপাট৷ গনজাগরণ মঞ্চেও হামলা চালানোর চেষ্টা হয়েছিল৷ প্রতিরোধের অটল প্রতিজ্ঞায় কর্মীরা দাঁড়িয়ে যাওয়ায় সেদিন অবশ্য অপ্রীতিকর কিছু ঘটেনি৷ পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আবার আক্রান্ত হলে তা ঠেকানোর প্রত্যয় প্রকাশের উদ্দেশ্যেই গত মঙ্গলবার লাঠি মিছিল হয়েছে বলে জানালেন ডা. ইমরান এইচ সরকার৷

‘জামাতের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত সংসদে’

প্রত্যক্ষ হামলার চেয়ে পরোক্ষ আক্রমনের তিরই বেশি আসছে গনজাগরণ মঞ্চের দিকে৷ নাস্তিকতার কথাও তোলা হয়েছে৷ প্রকাশ্যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চেয়েছেন এমন অনেকের গায়েই ‘নাস্তিক' লেবেল লাগানোর চেষ্টা চলছে৷ গনজাগরণ মঞ্চের খবর পরিবেশনের পেশাগত দায়িত্ব পালনে যাওয়া সাংবাদিককেও ‘নাস্তিক' বলতে শুরু করেছে একটি মহল৷ এই প্রয়াসের সঙ্গে যাঁরা, তাঁদের অগ্রসৈনিকদের কারো কারো অবস্থান যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার দাবির বিপক্ষে৷ ইমরান এইচ সরকার জানালেন, বিষয়গুলো তাঁকে একাত্তরের কথাই মনে করিয়ে দেয়৷ এ প্রসঙ্গে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের মিত্ররাও যে একই অপকৌশল অবলম্বন করেছিল সে কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি৷

মূলত যুদ্ধাপরাধী এবং সেই সূত্রে জামায়াতে ইসলামী আর তাদের অঙ্গসংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরের বিরুদ্ধেই চলমান আন্দোলন- এ কথা জানিয়ে ব্লগার, সরকার এবং হেফাজতে ইসলামীর ব্যাপারেও কিছু কথা বলেছেন গনজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র৷ আটক ব্লগারদের কারো কারো বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সত্যি নয়, তাঁদের নাস্তিক হিসেবে তুলে ধরতে মিথ্যের আশ্রয় নেয়া হয়েছে- এ দাবি করে ইমরান এইচ সরকার বলেছেন, তিনি আশা করেন সরকার ব্লগারদের সুবিচার নিশ্চিত করবেন৷

হেফাজতে ইসলামীর সঙ্গে জামায়াতের সম্পৃক্ততার প্রসঙ্গটিও উঠে এসেছে ইমরান এইচ সরকারের বক্তব্যে৷ ইমরান মনে করেন, সংগঠনটির কিছু দাবি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক৷ তাঁদের কার্যকলাপ নিয়েও প্রশ্ন আছে তাঁর৷ অথচ কিছু ক্ষেত্রে সেই হেফাজতের পাশেই সরকারের অবস্থান৷ সর্বশেষ যে সমাবেশে হেফাজত কর্মীরা প্রকাশ্যে একুশে টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার নাদিয়া শারমিনসহ বেশ কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলা চালিয়েছে সেই সমাবেশকেই ‘শান্তিপূর্ণ' বলে সরকারের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে হেফাজতকে৷ ডয়চে ভেলেকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ইমরান এইচ সরকার জানালেন, হেফাজতের ব্যাপারে সরকারের এই দৃষ্টিভঙ্গি হতাশ করেছে তাঁকে, তবে গনজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন নিয়ে তিনি আগের মতোই আশাবাদী৷

সাক্ষাৎকার: আশীষ চক্রবর্ত্তী
সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন

স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য

এই বিষয়ে আরো তথ্য