1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

প্রশ্নের মুখে কিম-ট্রাম্প বৈঠক

২২ মে ২০১৮

১২ই জুন অ্যামেরিকা ও উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে কিনা, তা স্পষ্ট নয়৷ পরিস্থিতি সামলাতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ওয়াশিংটন সফর করছেন৷ পরমাণু অস্ত্র বর্জন করলে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখাতে চান তিনি৷

https://p.dw.com/p/2y5Zc
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কিম জং উন
ছবি: picture-alliance/AP Photo/Young-joon

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন আগামী ১২ই জুন সিঙ্গাপুরে ঐতিহাসিক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হবেন, এমন পরিকল্পনা রয়েছে৷ ট্রাম্প এই ঘটনাকে নিজের পররাষ্ট্র নীতির বিশাল সাফল্য হিসেবে তুলে ধরতে বদ্ধপরিকর৷ ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি থেকে একতরফাভাবে বেরিয়ে এসে এবং জেরুসালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরিত করে তিনি আন্তর্জাতিক স্তরে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছেন৷ এই অবস্থায় উত্তর কোরিয়ার ক্ষেত্রে সাফল্য তাঁর ভাবমূর্তি কিছুটা উজ্জ্বল করতে পারে৷

কিন্তু এই মুহূর্তে ট্রাম্প-কিম শীর্ষ বৈঠক নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে৷ কারণ, উত্তর কোরিয়া ওয়াশিংটনের কিছু সাম্প্রতিক আচরণে ক্ষুব্ধ হয়েছে৷ কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি আনতে উত্তর কোরিয়াকে একতরফাভাবে তার পরমাণু অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র বর্জন করতে হবে, এমন ইঙ্গিত তাদের পছন্দ নয়৷ দক্ষিণ কোরিয়া ও অ্যামেরিকার মধ্যে যৌথ সামরিক মহড়ারও নিন্দা করেছে উত্তর কোরিয়া৷ মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন উত্তর কোরিয়ায় ‘লিবিয়া মডেল' প্রয়োগ করার কথা বলেও বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছেন৷ উল্লেখ্য, লিবিয়া তার পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করার পর শেষ পর্যন্ত সে দেশের নেতাকে নৃশংসভাবে প্রাণ হারাতে হয়েছিল৷ পরিস্থিতি সামলাতে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি কিম জং উন প্রশাসনকে নিরাপত্তার গ্যারান্টি দিতে প্রস্তুত৷ সেইসঙ্গে কিম-এর সাম্প্রতিক মনোভাবের জন্য তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর প্রতি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন৷ তাঁর মতে, চীনে সাম্প্রতিক এক বৈঠকে শি সম্ভবত কিম-কে প্রভাবিত করেছেন৷ চীন অবশ্য কূটনৈতিক পথে কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি আনার পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে৷ মোট কথা কোনো উল্লেখযোগ্য চুক্তি স্বাক্ষর না করতে পারলে ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আগ্রহী নন – এমন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে৷

এমনই প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় বসছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জে ইন৷ ট্রাম্প ও কিমের মধ্যে কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব কাটিয়ে ঐতিহাসিক শীর্ষ বৈঠকের পথে বাধা দূর করতে চান তিনি৷ পরমাণু অস্ত্র বর্জন করলে উত্তর কোরিয়ার জন্য উজ্জ্বল ভবিষ্যতের রূপরেখা সৃষ্টি করতে আগ্রহী মুন৷ কিম জং উন-এর সঙ্গে তাঁর নিজের বৈঠকের পরকোরীয় উপদ্বীপে শান্তির যে সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে, তা নষ্ট করতে চান না তিনি৷ তবে উত্তর কোরিয়ার বর্তমান সদিচ্ছার উপর ভরসা করে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে মার্কিন সৈন্য ও সামরিক সরঞ্জাম প্রত্যাহার বা অ্যামেরিকার সঙ্গে সামরিক মহড়া বন্ধ করতে তিনি কতটা প্রস্তুত, সে বিষয়ে সংশয় রয়েছে৷ উল্লেখ্য, নিজেদের পরমাণু অস্ত্র ত্যাগের বদলে উত্তর কোরিয়া এমনটাই আশা করছে৷

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট শান্তির আশায় অবাস্তব স্বপ্নময় প্রত্যাশা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছেন বলে মার্কিন প্রশাসনের একাংশ মনে করছে৷ তিনি যেভাবে কিম জং উনের উপর ভরসা করছেন, তার ফলে এমন ধারণা সৃষ্টি হয়েছে৷ বর্তমান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও গত দু'মাসে দু-দুবার পিয়ং ইয়ং সফর করেও উত্তর কোরিয়ার নেতার উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেননি৷ পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে দরকষাকষি করে কিম আরও ছাড় আদায় করতে চাইছেন, এমনটাই ধরে নেওয়া হচ্ছে৷  

এসবি/এসিবি (এএফপি, রয়টার্স)