1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

কলম্বিয়া

বাহান্ন বছর সংঘাতের পর কলম্বিয়ায় শান্তি চুক্তি

পাঁচ দশকব্যাপী এই যুদ্ধে প্রায় দু'লাখ ২০ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন৷ প্রেসিডেন্ট সান্তোস এই চুক্তিকে ‘কলম্বিয়ার নতুন ভোর' আখ্যা দিয়েছেন৷ বুলেট থেকে তৈরি কলম দিয়ে স্বাক্ষরিত হয় এই চুক্তি৷

উত্তর কলম্বিয়ার উপকূলে অবস্থিত কার্তাজেনা শহরে চুক্তিস্বাক্ষর উপলক্ষ্যে সম্মিলিত হয়েছিলেন দক্ষিণ অ্যামেরিকার ১৫টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানেরা৷ এছাড়া ছিলেন জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি-মুন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ও পোপ ফ্রান্সিসের বিশেষ দূত পিয়েত্রো পারোলিন-এর মতো বিশিষ্ট অতিথি৷ কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হুয়ান মানুয়েল সান্তোস ও ফার্ক অধিনায়ক তিমোলিয়ান খিমেনেস ২৯৭ পাতার নথিটিতে স্বাক্ষর করেন বুলেট থেকে তৈরি কলম দিয়ে৷

সভায় উপস্থিত আড়াই হাজারের বেশি অতিথি-অভ্যাগতদের সকলেই সাদা পোশাক পরে ছিলেন, কেননা সাদা হলো শান্তির প্রতীক৷ সুদীর্ঘ সংঘাতে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের স্মরণে এক মিনিটের নীরবতা পালন করা হয় ও সেই সঙ্গে ৫০টি সাদা পতাকা উত্তোলন করা হয়৷

চুক্তিস্বাক্ষরের স্বল্প আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিদেশ নীতি বিষয়ক প্রধান ফেদেরিকা মোঘেরিনি ঘোষণা করেন যে, ইইউ ফার্ক-কে সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলির তালিকা থেকে সাময়িকভাবে বাদ দিচ্ছে৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও তা করবে কিনা, এ প্রশ্নের উত্তরে কেরি বলেন, ওয়াশিংটন ‘‘তথ্যের ভিত্তিতে পর্যালোচনা করতে ও সিদ্ধান্ত নিতে প্রস্তুত''৷

ভিডিও দেখুন 01:43

চুক্তির শর্তাবলী

চু্ক্তি অনুযায়ী ‘কলম্বিয়ার সশস্ত্র বিপ্লবী বাহিনী' বা ফার্ক-এর আনুমানিক সাড়ে সাত হাজার যোদ্ধা পাহাড়-জঙ্গলে তাদের শিবিরগুলি আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে পরিত্যাগ করবে ও জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে অস্ত্রত্যাগ করবে৷ পরিবর্তে গোষ্ঠীটিকে রাজনৈতিক দল হিসেবে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হবে৷

ফার্ক যোদ্ধারা তাদের কৃত ‘‘রাজনৈতিক অপরাধের'' জন্য রাজক্ষমা পাবে৷ তবে হত্যাকাণ্ড, শারীরিক নিপীড়ন বা ধর্ষণ এর আওতায় পড়বে না৷ চুক্তিতে এই যুদ্ধের শিকার, অর্থাৎ ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণের প্রসঙ্গটিও বিবেচনা করা হয়েছে৷ অনুরূপভাবে ভূমি সংস্কার ও মাদক চোরাচালান প্রতিরোধের বিষয়গুলিও চুক্তিতে স্থান পেয়েছে৷

মনে রাখা দরকার, এটি ছিল কলম্বিয়ায় শান্তি আনয়নের চতুর্থ প্রচেষ্টা: এর আগে ১৯৮৪, ১৯৯১ ও ১৯৯৯-সালের সব ক'টি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে৷ এবারেও গণভোট এখনও বাকি, কিন্তু তাতে কলম্বিয়ার জনসাধারণের সমর্থন থাকবে বলেই ধরে নেওয়া যায়৷ অপরদিকে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ বা ভারতে মাওপন্থি বিদ্রোহী আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে কলম্বিয়ায় শান্তি আসাটা যে একটা আশার লক্ষণ, তাতে কোনো সন্দেহ নেই৷

এসি/ডিজি (এএফপি, এপি)

এই শান্তি কি উপমহাদেশেও সম্ভব? লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন