1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

৬৬ ভাগ কিশোরী এখনো বাল্যবিবাহের শিকার!

বাংলাদেশের অন্তত ৬৬ ভাগ কিশোরী এখনো বাল্যবিবাহ করতে বাধ্য হয়৷ তাদের ৫০ ভাগ জন্ম দেন মৃত শিশু৷ শত প্রচার প্রচারণা আর আইন করেও বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ বন্ধ করা যাচ্ছে না৷ স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিজেই জানিয়েছেন এসব তথ্য৷

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ১৮ বছর হওয়ার আগেই ৬৬ ভাগ শিশু বা কিশোরীর বিয়ে হয়ে যায়৷ তারপর অনিরাপদ গর্ভধারণ করে তারা অপুষ্ট শিশুর জন্ম দেন৷ জনসংখ্যা বিশেষজ্ঞ ড. এ কে এম নূর-উন-নবী ডয়চে ভেলেকে বলেন, সামাজিক এবং আর্থিক কারণে এখনো বাল্যবিবাহ রোধ করা যাচ্ছে না৷ এ কারণে জনসংখ্যার একটি অংশ জনশক্তি না হয়ে বোঝায় পরিণত হচ্ছে৷

বাংলাদেশের জনসংখ্যার শতকরা ২৩ ভাগই ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সি কিশোরী৷ তাদের মধ্যে ৬৬ ভাগের ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই বিয়ে হয়ে যায়৷ তাদের মধ্যে আবার ৬৪.৩ ভাগ কিশোরী অবস্থাতেই গর্ভধারণ করেন৷ সেই হিসেবে দেশে প্রতি বছর ১ কোটি ৬০ লাখ কিশোরী সন্তানের জন্ম দেন৷ এই তথ্য খোদ স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের৷ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আ ফ ম রুহুল হক জানিয়েছেন, মাতৃমৃত্যুর অন্যতম কারণ এই কৈশোরে গর্ভধারণ৷

Indien Kinderhochzeit

‘বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে আইনই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন শুধু নারী নয়, সবাইকে শিক্ষিত করা’

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং জনসংখ্যা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এ কে এম নূর-উন-নবী ডয়চে ভেলেকে জানান, দেশে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে নারীদের বিয়ে আইন করে নিষিদ্ধ করা হয়েছে৷ কিন্তু এ আইনের কারণে বাস্তব অবস্থায় তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি৷ তিনি এর জন্য আর্থসামাজিক অবস্থা, অশিক্ষা এবং ধর্মীয় কুসংস্কারকে দায়ি করেন৷ ড. এ কে এম নূর-উন-নবী বলেন, নারীরা এখনো বাংলাদেশে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না৷ বিশেষ করে গ্রাম ও হাওর অঞ্চল এবং নিম্নবিত্ত পরিবারে নারীরা এখনো ‘অবরুদ্ধ'৷ এছাড়া কোনো কোনো পরিবার মনে করে, মেয়েকে শিক্ষিত করে বিয়ে দিলে বর পাওয়া কঠিন৷ পাওয়া গেলেও বেশি যৌতুক দিতে হয়৷ সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত পরিস্থিতি বিরাজ করছে বাংলাদেশে৷ আবার আইন প্রয়োগ করাও কঠিন হয়, কারণ, বাল্যবিবাহের ঘটনা সামাজিকভাবেই গোপন রাখা হয়৷ কোনো কোনো ক্ষেত্রে শাস্তি এড়াতে মেয়েদের বয়স বাড়িয়ে বলা হয়৷

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য জানান, এই কিশোরীরা বিয়ের পর গর্ভধারণ করলে দু'ধরণের সমস্যা হয়৷ একদিকে গর্ভবতী কিশোরী মা অপুষ্টি এবং নানা ঝুঁকির মধ্যে থাকেন৷ আর তিনি যে সন্তান জন্ম দেন সেও অপুষ্টির শিকার হয়৷ এর এক ধরণের ধারাবাহিক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া আছে৷ দেশের জনগোষ্ঠীর একটি অংশ জনসম্পদ না হয়ে বোঝায় পরিণত হয়৷ এদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে শিশু মৃত্যুর হার কমলেও কিশোরী মায়েদের শতকরা ৫০ ভাগ মৃত সন্তানের জন্ম দেন৷ শুধু তাই নয়, কিশোরী মায়েরা নানা ধরণের শারীরিক জটিলতায় ভোগেন এবং তাঁদের অনেকে অকালে মারাও যান৷

তাঁরা দুজনই মনে করেন, বাল্যবিবাহ এবং কিশোরী অবস্থায় গর্ভধারণ বন্ধ করতে আইনই যথেষ্ট নয়৷ এর জন্য শুধু নারী নয়, সবাইকে শিক্ষিত হতে হবে৷ এর বাইরে নানা ধরণের জনসচেতনতামূলক কর্মসূচিও গ্রহণ করতে হবে৷ মসজিদের ইমাম, ধর্মীয় নেতা এবং বিয়ের কাজিদেরও এ ব্যাপারে সক্রিয় করতে হবে বলে মনে করেন তাঁরা৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন