1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

৫ই জানুয়ারিকে সামনে রেখে মাঠে নামতে চায় বিএনপি

বাংলাদেশে ৫ই জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের বছরপূর্তিতে আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি৷ গত এক বছরে নির্বাচন বয়কটকারী বিএনপি কার্যকর কোনো আন্দোলন গড়ে তুলতে না পারলেও, বছরপূর্তিতে সরকারকে বড় ধরণের ধাক্কা দিতে চায়৷

আগামী ১৮ই ডিসেম্বর ঢাকায় সর্বদলী ছাত্র কনভেনশনের কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপি৷ এই কনভেনশনের মূল সংগঠক হিসেবে কাজ করছেন ডাকসুর সাবেক ভিপি এবং ১৯৯০-এ এরশাদ বিরোধী ছাত্র-গণআন্দোলনের সর্বদলী ছাত্র ঐক্যের অন্যতম নেতা আমান উল্লাহ আমান৷ তিনি এখন বিএনপি-র যুগ্ম মহাসচিব৷ তিনি সোমবার জানান, ‘‘ঢাকার এই কনভেনশনে বর্তমান এবং '৯০-এর ছাত্র নেতারা উপস্থিত থাকবেন৷ সেই কনভেনশনে প্রধান অতিথি হিসেবে সরকার পতনের রূপরেখা ঘোষণা করবেন খালেদা জিয়া৷ এছাড়া পরবর্তী আন্দোলনের দিক নির্দেশনাও দেবেন তিনি৷''

জানা গেছে, ৫ই জানুয়ারিকে সামনে রেখে আরো কিছু কর্মসূচি হাতে নিতে যাচ্ছে বিএনপি৷ তারা এর জন্য ইস্যু খুঁজছে৷ বিএনপি-র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এরই মধ্যে বলেছেন সরকার যদি তেল, গ্যাস বা বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করে, তাহলে লাগাতার কর্মসূচি দেবে বিএনপি৷ আর তার মধ্যে হরতাল অবরোধও থাকতে পারে৷

৫ই জানুয়ারি দেশকে অচল করে দিতে চায় বিএনপি৷ তার আগে এই ডিসেম্বরেই ঢাকা থেকে খুলনা, সিলেট ও চট্টগ্রাম অভিমুখে তিনটি রোডমার্চ কর্মসূচি করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে৷ তবে তার দিন-তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি৷ ৫ই জানুয়ারি রাজধানী ঢাকাকে সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে চায় বিএনপি৷ এ জন্য ২০ দলীয় জোটের শরিকদের সঙ্গেও আলাপ-আলোচনা চলছে৷

বিএনপি মনে করছে, ৫ই জানয়ারি যদি কর্মসূচি সফল করা যায়, তাহলে এরপর থেকে নেতা-কর্মীরাই মাঠে নেমে যাবেন৷ সে'জন্য ধারাবাহিক সরকারবিরোধী আন্দোলন কর্মসূচিও তৈরি করা হচ্ছে৷

বিএনপি-র চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘বিএনপি এই ডিসেম্বরেই নানা কর্মসূচি দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে৷ ১৮ই ডিসেম্বর ঢাকায় ছাত্র কনভেনশনের আগে, ১৩ই ডিসেম্বর, নারায়ণগঞ্জে মহাসমাবেশের কর্মসূচি দেয়া হয়েছে৷ সেখানে খালেদা জিয়া প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন৷ এর আগে তিনি জেলায় জেলায় সফর করেছেন৷ ৫ই জানুয়ারি আগেই যে কোনো সময় বড় ধরণের কর্মসূচির ঘোষণা দেবেন খালেদা জিয়া৷''

তিনি বলেন, ‘‘তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত নেতা-কর্মীদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে৷ সময় এলেই তাঁরা মাঠে নামবনে৷''

শামসুজ্জামান দুদু-র আশঙ্কা, ‘‘পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার খালেদা জিয়াসহ বিএনপি-র শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তারে ঝুঁকি নিতে পারে৷ তার আলামতও দেখা যাচ্ছে৷ বিশেষ করে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে খালেদা জিয়ার কথিত বৈঠক নিয়ে জল ঘোলা করার চেষ্টা করছে সরকার৷'' তাই তিনি দাবি করেন, ‘‘খালেদা জিয়া কোনো সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেননি৷ তিনি সাবেক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

তিনি বলেন, ‘‘কোন পরিস্থিতিতে কী করতে হবে – তা এবার পরিষ্কার করে বলা আছে৷''

এদিকে সাবেক মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেছেন, ‘‘বিএনপি-কে কোনো লাগাতার আন্দোলনের সুযোগ দেয়া হবে না৷ তারা সে সুযোগ পাবে না৷''

তিনি বলেন, ‘‘আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে দেশের মানুষ আছে৷ আর নেতা-কর্মীরাও ঘরে বসে নেই৷ সময় এলে বোঝা যাবে বিএনপি-র আন্দোলন কোথায় যায়৷''

তাঁর কথায়, ‘‘শুধু দেশে নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এই সরকারের অবস্থান শক্ত৷ সারা বিশ্বের সঙ্গে আমাদের সরকারের সু-সম্পর্ক রয়েছে৷ তার প্রমাণ – কমনওয়েলথ পার্লমেন্টরি অ্যাসোসিয়েশনে (সিপিএ) এবং ইন্টারন্যাশনাল পার্লমেন্টরি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সভাপতি পদে বাংলাদেশের বর্তমান সংসদের স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী ও সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছেন৷''

তবে বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে মামলার হাতিয়ার বরাবরের মতোই ব্যবহার করা হবে বলে সরকারের দিক থেকে জানা গেছে৷ সোমবার বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে৷ খালেদা জিয়া এবং মির্জা ফখরুল সহ অন্য নেতাদের বিরুদ্ধে মামলাগুলোও গতি পেয়েছে৷ আর ৫ই জানুয়ারির আগেই গত সপ্তাহে ‘সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে খালেদার বৈঠকের' তদন্ত একটি পর্যায়ে উপনীত হবে৷ পুলিশ এরই মধ্যে অনানুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে৷ স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ‘‘সব তথ্য-প্রমাণ আমাদের হাতে আছে৷''

আওয়ামী লীগও ৫ই জানুয়ারি ঢাকাসহ সারা দেশে ব্যাপক ‘শোডাউন'-এর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়