1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

৩০ বছর ধরে ফুটপাতই যাঁদের ঘর

চেন্নাই শহরের রাস্তার ধারেই দেখা যায় তাঁদের৷ ফুটপাত কিংবা রাস্তার পাশেই ঘুপচি ঘরে থাকেন তাঁরা৷ সরকার একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই দেবে এ আশায় কারো কারো সেখানেই পার হয়ে গেছে ৩০ বছর৷ কিন্তু ঘর হয়নি তাঁদের৷

চেন্নাই শহরের লোক সংখ্যা ৮০ লাখের মতো৷ এর মধ্যে কমপক্ষে ১০ হাজার একেবারে গৃহহীন৷ ত্রিপলের ঘর বানিয়ে কোনোরকমে থাকেন তাঁরা৷ ঘুমানোর সময় প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র রাখার জায়গাও সেই ঘরে থাকে না৷ তাই জিনিসপত্র বাক্সে ঢুকিয়ে রাখতে হয় ফুটপাতে৷ বৃষ্টিতে মহাবিপদ৷ তখন ভরসা প্লাস্টিক৷ তা দিয়ে গা ঢেকেই বৃষ্টির সময়টা পার করতে হয় তাঁদের৷

চেন্নাইয়ের গৃহহীনদের প্রায় শতকরা ৭৫ ভাগই এভাবে ফুটপাতে বা রাস্তার কাছের ঘুপচিতে বাস করছেন ২০ থেকে ৩০ বছর ধরে৷ তাঁদের পেশা মূলত দিন মজুরি৷ দিনে ৩০০ টাকার বেশি আয় বলতে গেলে কারোই নেই৷

শুধু তামিলনাড়ু রাজ্যের চেন্নাই নয়, ভারতের সব শহরেই অসংখ্য মানুষ এভাবে জীবনযাপন করছেন৷ দেশের ১২৫ কোটি মানুষের এক তৃতীয়াংশই শহরবাসী৷ মোট শহরবাসীর অন্তত ৩ কোটি ৭০ লাখ বাস করে , কিংবা ফুটপাতে৷

২০১৪ সালের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, সারা বিশ্বের মানুষ এত বেশি হারে শহরমুখি হচ্ছে যে ২০৫০ সাল নাগাদ হয়ত দেখা যাবে বিশ্বের অর্ধেকেরও বেশি মানুষ শহরবাসী৷

তাই বলে তো শহরাঞ্চলে হাজার হাজার মানুষের ফুটপাতবাস কিংবা বস্তিতে বসবাস মেনে নেয়া যায় না৷ মানবাধিকার কর্মীরা মনে করেন, ভারতে এই বিষয়টির দিকে নজর দেয়া জরুরি হয়ে পড়েছে৷ বেসরকারি সংস্থা আইআরসিডিইউসি-র ভ্যানেসা পিটার বলছিলেন, ‘‘আমরা তো নগরায়নকে রুখতে বা উল্টোমুখী করতে পারবো না, তাই পরিস্থিতি খুব ভয়াবহ হয়ে ওঠার আগে এই সমস্যাটার দিকে জরুরি ভিত্তিতে নজর দিতে হবে৷''

ভারতে  ২০১২ সালের শীতে মারা গিয়েছিল অনেক গৃহহীন মানুষ৷ তারপর প্রত্যেক রাজ্য সরকারকে গৃহহীনদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট৷ নির্দেশ অনুযায়ী গৃহহীনদের জন্য ঘর বানানোর বেশ কিছু উদ্যোগ নেয়া হয়েছে৷ এখনো তৈরি হচ্ছে ঘর৷ কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় তা খুব অপ্রতুল৷

তাছাড়া সেসব ঘরে অনেকে যেতেও চান না৷ না যেতে চাওয়ার কারণ জানাতে গিয়ে শান্তি ভি. বললেন, ‘‘মাঝে মাঝে সরকারি কর্মকর্তারা এসে বলেন, ‘তোমাদের নতুন ঘরে নিয়ে যাবো৷ কিন্তু ঘরগুলো একটু দূরে৷' ঘর দূরে হলে আমরা কাজ করব কোথায়? বাচ্চারা স্কুলে যাবে কী করে? যাতায়াত খরচ দেবো কী করে? '' তাঁর মতে, ‘‘যদি বিকল্প উপায় মানে এত দূরে যাওয়া হয়, তাহলে তো আমাদের এভাবে রাস্তার পাশে থেকে যাওয়াই ভালো৷''  

এসিবি/ডিজি (টমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশন)

বন্ধু, কেমন লাগলো প্রতিবেদনটি? জানিয়ে দিন আমাদের, লিখুন মন্তব্যের ঘরে৷

 

নির্বাচিত প্রতিবেদন