1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

২৫ বছর বিনা বিচারে কারাভোগের পর মুক্তির প্রতিক্ষায় বাবুল

১৯৯২ সালে এক ডাকাতির মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন মো. বাবুল৷ ২৪ বছর ধরে চলেছে সেই মামলা৷ শেষ পর্যন্ত মামলায় তিনি খালাস পেয়েছেন৷ অর্থাৎ আদালত তাকে দোষী মনে করেনি৷ অথচ এই দীর্ঘ সময় কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্টে তাঁর দিন কেটেছে৷

যাদের কারণ বাবুলকে এই দীর্ঘ সময় বিনা কারণে কারাগারে থাকতে হয়েছে তাদের বিচার দাবি করেছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক৷ তিনি এই ঘটনাকে চরম অন্যায় বলে আখ্যায়িত করে ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বাবুলের প্রতি যে অন্যায় হয়েছে, এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা উচিত৷ এ ছাড়া বাবুলকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থাও করা উচিত৷''

গত বুধবার আদালত বাবুলের বিরুদ্ধে থাকা ডাকাতির মামলায় তাঁকে খালাস দিয়েছেন৷ তবে এখনও কারাগার থেকে মুক্তি পাননি বাবুল৷ সবকিছু ঠিক থাকলে অতি শীঘ্রই তিনি মুক্তি পেতে পারেন৷ ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপার জাহাঙ্গীর আলম ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘সরকার তার বিরুদ্ধে ‘লিভ টু আপিল' না করলে দু'য়েক দিনের মধ্যেই তিনি ছাড়া পেতে পারেন৷ কারণ আদালত থেকে রায়ের কপি আসতে দু'তিন দিন লেগে যায়৷ তাঁর বিরুদ্ধে যদি অন্য কোন মামলা না থাকে তাহলে তার মুক্তি পেতে আর কোন জটিলতা নেই৷''

অডিও শুনুন 03:29

‘‘বাবুলকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থাও করা উচিত’’

গত বুধবার বাবুলসহ পাঁচজনকে খালাস দিয়েছেন ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আখতারুজ্জামান৷ মামলার নথিতে দেখা গেছে, ১৯৯২ সালের ২১ আগস্ট রাত সাড়ে আটটার দিকে গুলিস্তান থেকে কুমিল্লাগামী একটি বাস ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সানারপাড়ে পৌঁছালে তিন সদস্যের অজ্ঞাত ডাকাতদল বাসে ডাকাতি করে৷ যাত্রীদের কাছ থেকে নয় হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় তারা৷ এ ঘটনায় ওই বাসের কর্মচারী নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা করেন৷ তদন্ত করে ওই বছরের ১৫ ডিসেম্বর বাবুলসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন ডেমরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আশরাফ আলী সিকদার৷

আদালত অভিযোগপত্রটি আমলে নিয়ে বাবুলসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে ১৯৯৩ সালের ৪ জুলাই বিচারকাজ শুরু করেন৷ বিচার শুরুর ২৪ বছরে মামলার ১১ জন সাক্ষীর মধ্যে মাত্র চারজন সাক্ষীকে আদালতে হাজির করে পুলিশ৷ তবে মামলার বাদী নজরুল কিংবা তদন্ত কর্মকর্তা আশরাফ কখনো আদালতে হাজির হননি৷ আদালত বাবুলের খালাসের রায়ে বলেছেন, ‘‘মামলার বাদী, আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডকারী বিচারকসহ অন্য সাক্ষীদের আদালতে হাজির করানোর জন্য আদেশের কপি পুলিশের মহাপরিদর্শক এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর পাঠানো হয়৷ কিন্তু কোনো পক্ষই মামলার বাদী, তদন্ত কর্মকর্তা ও জবানবন্দি রেকর্ডকারী বিচারককে আদালতে হাজির করানোর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি৷'' বাবুলসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে ডাকাতির অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করতে পারেনি বলে আদালত রায়ে উল্লেখ করেছেন৷

খালাসের রায় পাওয়ার পর আদালতে বাবুল দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার এক প্রতিবেদকের কাছে তাঁর গ্রেফতারের কাহিনি তুলে ধরে বলেন, ‘‘মা-বাবার সঙ্গে তিনি থাকতেন ডেমরার দোলাইরপাড় (এখন যাত্রাবাড়ী থানার মধ্যে) এলাকায়৷ সেদিন তিনি ফতুল্লায় যাচ্ছিলেন বন্ধুর কাছে৷ ডেমরা সেতুর ওপর ট্যাক্সির ভেতরে ছিলেন৷ হঠাৎ পুলিশ তাকে ধরে৷ পরে রিমান্ডেও নেয়৷ গ্রেফতারের পর প্রথম প্রথম মা-বাবা তার সঙ্গে দেখা করতে কারাগারে আসতেন৷''

অডিও শুনুন 00:36

‘‘অন্য কোন মামলা না থাকলে মুক্তি পেতে কোন জটিলতা নেই’’

বাবুলের গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের বাহারনগর গ্রামে৷ তার বাবার নাম আনোয়ার হোসেন৷ মা নিলুফা বেগম৷ তারা সাত ভাই ও দুই বোন৷ বাবুলের ভাষ্য, তার বাবা বিমানবাহিনীতে চাকরি করতেন৷ তাকে গ্রেফতারের পর সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান বাবা৷ ১৯৯৫ সালে মারা যান মা৷ এরপর থেকে আর কোনো দিন ভাই কিংবা বোনকে দেখেননি তিনি৷

ঢাকার বিশেষ জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর শওকত আলম ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘ঘটনাটি ঠিকই ছিল৷ মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে পড়ে ছিল৷ স্বাক্ষী না আসায় বিচার শুরু করা যায়নি৷ ঘটনাটি প্রমাণ করার জন্য পুলিশ স্বাক্ষী আনতে পারেনি৷ বাবুল ২৫ বছরের কিছু কম সময় কারাগারে আছেন৷ পুলিশ যেহেতু সহযোগিতা করতে পারেনি তাই মামলাটি প্রমাণ করা যায়নি৷ আমি বলব, আদালতেরও কিছু দোষ আছে৷ আদালত সচেতন হলে মামলার জাজমেন্ট অনেক আগেই হয়ে যেত৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়