1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ব্লগওয়াচ

‘২৫শে মার্চ আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবসের স্বীকৃতি লাভ করুক’

এ বছর ২৫ শে মার্চ প্রথমবারের মতো সারা দেশে পালিত হবে ‘জাতীয় গণহত্যা দিবস' হিসেবে৷ অন্যদিকে, দিবসটিকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য জাতিসংঘের কাছে এ মাসেই বাংলাদেশ আবেদন পাঠাবে বলে জানিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়৷

১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর হত্যাযজ্ঞ শুরু করে৷ পাকিস্তানিদের অপারেশনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জেন্ট জহুরুল হক হল এবং জগন্নাথ হলের ছাত্রদের নির্বিচারে হত্যা করা হয়৷ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও আশেপাশের বহু সংখ্যক শিক্ষক ও সাধারণ কর্মচারীদেরও হত্যা করা হয়৷ পুরোনো ঢাকার হিন্দু সম্প্রদায় অধ্যুষিত এলাকাগুলোতেও চালানো হয় ব্যাপক গণহত্যা৷ রাজারবাগ পুলিশ লাইনে আক্রমণ করে হত্যা করা হয় পুলিশ বাহিনীর বহু সদস্যকে৷ পিলখানার ইপিআর-এর কেন্দ্রে আচমকা আক্রমণ চালিয়ে নির্বিচারে হত্যা করা হয় নিরস্ত্র সদস্যদের৷

কয়েকটি পত্রিকা অফিস ভস্মীভূত করা হয়৷ দেশময় ত্রাস সৃষ্টির লক্ষ্যে নির্বিচারে হত্যা করা হয় বিভিন্ন এলাকায় ঘুমন্ত নর-নারীকে৷ ধারণা করা হয়, সেই কাল রাতে কেবল ঢাকা ও তার আশে পাশের এলাকাতে প্রায় এক লক্ষ নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল৷

পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বর্বরোচিত ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের জন্য ২৫শে মার্চ জাতীয়ভাবে ‘গণহত্যা দিবস' ঘোষণার প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা৷ এবার দাবি উঠেছে আন্তর্জাতিকভাবে দিবসটিকে স্বীকৃতি জানানোর৷ ২৫শে মার্চ গণহত্যা দিবসকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবি জানিয়েছে একাত্তরে শহিদ সন্তানদের সংগঠন প্রজন্ম ‘৭১

জাতীয় প্রেসক্লাবের প্রজন্ম'৭১-এর উদ্যোগে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে এ দাবি জানানো হয়৷ সেখানে ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন, ‘‘হেফাজতের ডিক্টেশনে যদি রাষ্ট্র ও শিক্ষাসহ অন্যান্য কার্যক্রম চলে তাহলে গণহত্যার স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতি তাতে কিছুই যাবে আসবে না৷ সুতারাং আগে স্বাধীনতাবিরোধী চেতনার মূলোৎপাটন দরকার৷''

অনুজ কান্তি দাস ফেসবুক পাতায় লিখেছেন, ‘‘৭১-এর কাল রাত ২৫শে মার্চ ‘গণহত্যা দিবস' হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি লাভ করুক৷'' শ্রীমঙ্গলে তারা এ উপলক্ষ্যে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি শুরু করেছেন৷

আক্তার এম জামান সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের ২৫শে মার্চ গণহত্যা দিবস সংক্রান্ত সংবাদটি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘‘জেনে আনন্দিত হলাম যে ২৫শে মার্চ গণহত্যা দিবস হিসেবে পার্লামেন্টে পাস হয়েছে৷ এখন আমাদের চেষ্টা করতে হবে যাতে এটা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

দিবস উপলক্ষ্যে সারওয়ার কামাল লিখেছেন, ‘‘পাকিস্তানি শোষক গোষ্ঠী ও তাদের এদেশীয় দোসরদের বিরুদ্ধে এটি ঘৃণা দিবস৷ এদের দোসররা এখনো ইসলাম ও দেশের বিরুদ্ধে অবিরাম ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে৷''

মুন্না আসিফ লিখেছেন, ‘‘বাঙালি জাতিকে ২৫শে মার্চের জঘন্যতম হত্যাকাণ্ডের কথা মনে রাখতে হবে৷ স্বাধীনতাবিরোধী ঐ পরাজিত শক্তিরা এখনো বিভিন্ন ভাবে, বিভিন্ন কৌশলে আমাদের ভিতরে প্রবেশ করে স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তি, সাধারণ জনগণের ও আমাদের দেশের নিরাপওার দায়িত্বে নিয়োজিত বাহিনীর ক্ষতিসাধন করার কাজে লিপ্ত রযেছে, সমগ্র বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় বিশেষ করে চটগ্রামে জঙ্গি তৎপরতা ইদানীং বৃদ্ধি পেয়েছে৷'' তিনি সবাইকে এ বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন৷ 

মঈনুল বাপ্পি ফেসবুক পাতায় লিখেছেন, ‘‘আন্তর্জাতিকভাবেই পালিত হোক বিশ্বের ইতিহাসে অন্যতম নৃশংসতম গণহত্যা দিবস৷ পৃথিবী জানুক পাকিস্তানের জানোয়ারেরা কতটা ঘৃণ্য বর্বর...!!''

অন্যদিকে, আব্দুস সালাম তুলে ধরেছেন মুক্তিযোদ্ধাদের লাঞ্ছনার কথা৷ তিনি লিখেছেন, ‘‘২৫শে মার্চ গণহত্যা দিবস হিসেবে আন্তর্জাতিক ভাবে হয়ত স্বীকৃতি পাবে৷ কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশে স্বাধীনতার ৪৬ বছর পরেও আজ জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধারা আজ বড়ই অবহেলিত, লাঞ্ছিত কেন? প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের কেন বারে বারে পদে পদে যাচাই-বাছাইয়ের নামে হয়রানি ও অপমানিত হতে হচ্ছে?''

সংকলন: অমৃতা পারভেজ

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়