1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

২০৫০ সাল নাগাদ এশিয়ার বেশিরভাগ নদীর জলপ্রবাহ কমে যাবে

নদী৷ যে নদীর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অনেক অনেক দিনের৷ নদীকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানের জনপথ, শহর ও সভ্যতা৷ নদী বিভিন্নভাবে বাঁচিয়ে রেখেছে আমাদের৷ কিন্তু আজ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পড়েছে নদীগুলোর উপর৷

default

গঙ্গার মত নদী বিশাল এক অঞ্চলের জীবনী শক্তি

বৃদ্ধা সমিরণ বেওয়া যখন শিশু ছিলেন, তখন তিনি দেখতেন তাঁর বাড়ির পাশের নদীতে পাল তুলে বয়ে যাচ্ছে নৌকা৷ বাহারি সব নৌকায় নানা ধরণের মালামাল৷ শুভ্র ধুতি পরে, পান চিবুতে চিবুতে সওদাগর দেখছে নদী তীরের মানুষ আর প্রকৃতিকে৷ গুন বয়ে যাচ্ছে মাল্লারা৷ মাঝির গলায় গান৷

কিন্তু এই অবস্থা এখন আর নেই৷ সে আপনি বাংলাদেশ বলুন আর ভারত কিংবা ভিয়েতমাম বা ফিলিপিন্স...৷ সবখানে এই নদী হারাচ্ছে তার যৌবন৷ মরে যাচ্ছে নানা ভাবে৷ আর এ জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ি করা হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তনকে৷

১৮৯১ থেকে ১৯৯০ সাল৷ একশ বছর৷ এই শত বছরে বাংলাদেশে ছোট বড় প্রায় ৭শ' ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে, যার প্রায় প্রতিটিই সমুদ্র উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীতে আঘাত হানে৷ এই ঝড়-জলোচ্ছাসের কারণে এখন ঐ জেলার নদীগুলোতে লবনাক্ত পানি প্রবেশ করেছে৷ তা আর নামতে পারছে না৷ এ অবস্থা যে কেবল পটুয়াখালীর, তাই নয়৷ উপকূলীয় জেলাগুলোর প্রায় সব নদীরই একই অবস্থা৷ বলা হচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি হতে থাকায় লবনাক্ত জল নেমে যেতে পারছে না সমুদ্রে৷ এই নোনাজল সরাসরি প্রভাব ফেলছে কৃষি ব্যবস্থায়৷ পরিবেশ বিধ্বংসী কার্যকলাপ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইতিমধ্যেই কিশোরগঞ্জের নরসুন্দা, রাজবাড়ি-ফরিদপুরের ভুবনেশ্বর, হবিগঞ্জের বিবিয়ানা ও শাখা বরাক, শরীয়তপুরের পালঅং, কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বুড়িনদী, যশোরের হরিহর ও মুক্তেশ্বরী, খুলনার হামকুড়া, সাতক্ষীরার মরিচাপ, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর বামনী, বগুড়ার মানস, নাটোর-পাবনার বড়াল ও চিকনি, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, যশোর, খুলনা, বাগেরহাটের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ভৈরব নদী মরে গেছে৷ আরও অনেক নদী ধীরে ধীরে চলে যাচ্ছে একই গন্তব্যে৷

কিন্তু এই পরিস্থিতি কি কেবল বাংলাদেশে? উত্তর ‘না'৷ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিশেষজ্ঞ নেপচুন শ্রীমাল জানাচ্ছেন, সেখানেও একই অবস্থা৷ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির বর্তমান হার অপরিবর্তিত থাকলে জলপৃষ্ঠ কলকাতায় এই শতাব্দীর শেষে ৮৩২ মিলিমিটার, ডায়মন্ড হারবারে ৫৮৩ মিলিমিটার ও হলদিয়ায় ৩৩২ মিলিমিটার বৃদ্ধি পাবে৷ অন্যদিকে, সাগরদ্বীপে সমুদ্রপৃষ্ঠের তুলনায় জমির উচ্চতা ৪০৫ মিলিমিটার বৃদ্ধি পাবে৷ এর কারণ এই নয় যে সেখানে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়বে না, সাগরদ্বীপে জমির উচ্চতা বাড়ার কারণ সেখানে অপেক্ষাকৃত উচ্চ হারে পলি পড়বে৷ কিন্তু মোটামুটি উপকূলবর্তী পশ্চিমবঙ্গে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে যার ফলে সেই উপকূল নানান ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে৷

সম্প্রতি নেদারল্যান্ডস এর একদল পানি বিজ্ঞানী এশিয়ার নদীগুলো নিয়ে করা এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন৷ যে গবেষণায় স্পষ্ট করেই বলা হয়েছে, ২০৫০ সাল নাগাদ এশিয়ার বেশিরভাগ নদীর জলপ্রবাহ কমে যাবে৷ জলে ঢুকে পড়বে নুন৷ সেচের জলের সংকট থাকায় বাড়বে খাদ্য সংকট৷

প্রতিবেদন: সাগর সরওয়ার
সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল ফারূক

সংশ্লিষ্ট বিষয়