1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

২০১৩ সালে যারা জিতে নিল বব্স

ডিডাব্লিউ’র ‘দ্য বব্স’ প্রতিযোগিতায় গোটা বিশ্বের সেরা ব্লগারদের বেছে নিলেন আন্তর্জাতিক বিচারকমণ্ডলীর ১৫ জন সদস্য৷ বিচারকাজ সম্পন্ন হয় বার্লিন অফিসে৷ এ বছর ৪,২০০-রও বেশি প্রস্তাব জমা পড়েছিল৷

সেরা ব্লগ

চীনা লেখক ও সাংবাদিক লি চেনপেং সেরা ব্লগ পুরস্কার জিতে নিলেন৷ চীনের সেন্সরশিপ-বিরোধী আন্দোলনের প্রথম সারিতে তাঁর অবস্থান৷ ‘গোটা বিশ্ব জানে' নামের বই লিখে কর্তৃপক্ষের রোষের মুখে পড়েছেন তিনি৷ বইয়ের প্রচারের সময় মুখ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছিল তাঁকে৷ প্রতিবাদে তিনি নিজের লেখা থেকে অংশবিশেষ পাঠের সময়ে পরে নিলেন একটি অক্সিজেন মুখোশ৷ ‘নীরব পাঠ'-এর সেই অনুষ্ঠানে তাঁর পরনে ছিল একটি টি-শার্ট, যাতে লেখা ‘আমি তোমাদের সবাইকে ভালোবাসি'৷ চীনে সেই অক্সিজেন মুখোশ ও টি-শার্ট হয়ে উঠেছে প্রতিরোধের প্রতীক৷ হাজার হাজার মানুষ বেছে নিয়েছেন সেই পথ৷

China Blogger Li Chengpeng

‘সেরা ব্লগ’ অ্যাওয়ার্ড জিতেছেন চীনের লি চেনপেং

পুরস্কারের সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জুরিমণ্ডলীর সদস্য ও ব্লগার হু ইয়ং জানালেন, ‘‘লি চেনপেং তরুণ প্রজন্মের কাছে আদর্শ হয়ে উঠেছেন৷ সেন্সরশিপের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে তিনি তাদের অনুপ্রেরণা জুগিয়ে চলেছেন৷'' লি চেনপেং-এর ব্লগ লিংক: http://blog.sina.com.cn/lichengpeng

সেরা সোশ্যাল অ্যাক্টিভিজম অভিযান

মরক্কোর তরুণ প্রজন্মের এক উদ্যোগের নাম ‘৪৭৫' (লিংক: https://www.facebook.com/475LeFilm)৷ ধর্ষিতা নারীদের অধিকার আদায় করতে ফেসবুকের মাধ্যমে অভিনব এক ইন্টারনেট প্রচারাভিযান চালিয়ে একটি বব পুরস্কার জিতে নিয়েছেন এর উদ্যোক্তারা৷ মরক্কোর আইনের ৪৭৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী কোনো ধর্ষক ধর্ষিতাকে বিয়ে করলেই শাস্তি এড়াতে পারে৷ ২০১২ সালে ১৬ বছরের কিশোরী আমিনা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছিল৷ সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে ‘৪৭৫' নামের একটি চলচ্চিত্র এবং ফেসবুক ও ফ্লিকার-এ সোশ্যাল মিডিয়া অভিযান৷ জুরিমণ্ডলীর সদস্যরা মনে করেন, বিশেষ করে ভারতে সম্প্রতি একের পর এক ধর্ষণের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ‘৪৭৫' গোটা বিশ্বে সেই সব অ্যাকটিভিস্টদের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ সংকেত, যারা নারী অধিকারের সপক্ষে লড়াই করছে৷

সেরা উদ্ভাবন

‘ফ্রিওয়াইবো ডট কম' (লিংক: https://freeweibo.com) নামের মাইক্রোব্লগিং সাইট চীনের সরকারের সেন্সরশিপ প্রক্রিয়া সম্পর্কে একটা ধারণা দিচ্ছে৷ এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে চীনের অন্যতম প্রধান সোশাল মিডিয়া সাইট ‘সিনাওইবো ডটকম'-এর সেন্সরমুক্ত সংস্করণে ঢুঁ মারা যায়৷ ফলে ব্যবহারকারীরা জানতে পারেন, কর্তৃপক্ষ কোনো প্রতিবেদন মুছে ফেলে৷ বব্স-এর জুরিমণ্ডলীর মতে, ‘‘চীনে সুপরিকল্পিত সেন্সরশিপ কাঠামো বর্তমানে একটা বড় সমস্যা৷ সেই সমস্যা তুলে ধরতে পারলে তবেই মানুষ তার প্রতিরোধ করতে পারবে৷''

রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স

প্রতি বছরের মতো এবারও রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স সংগঠনের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে এমন এক প্রতিযোগীকে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে, যিনি বা যাঁরা মত প্রকাশের অধিকার প্রতিষ্ঠায় উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন৷ এ বছর সেই পুরস্কার পাচ্ছেন পশ্চিম আফ্রিকার দেশ টোগো-র মানবাধিকার কর্মী ফাবি কুয়াসি৷ দেশের স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থায় পুলিশ সাংবাদিকদের উপর যে নিপীড়ন চালাচ্ছে, ফাবি সেই সব ঘটনা তুলে ধরছেন তাঁর ওয়েবসাইটে৷ রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স-এর প্রতিনিধি ক্রিস্টিয়ান মির মনে করেন, ‘‘ফাবি কুয়াসি তাঁর নিজের দেশে মত প্রকাশের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছেন৷ এর মাধ্যমে তিনি টোগোর সাংবাদিকদের ভয়ংকর পরিস্থিতির প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করতে সহায়তা করছেন৷'' ফাবি কুয়াসির ব্লগ লিংক http://fabbikouassi.wordpress.co

গ্লোবাল মিডিয়া ফোরাম পুরস্কার

Infolady Projekt gewinnt Global Media Forum Auszeichnung

বাংলাদেশের তথ্যকল্যাণী জিতেছে ‘গ্লোবাল মিডিয়া ফোরাম পুরস্কার’

২০১৩ সালে ডয়চে ভেলে আয়োজিত গ্লোবাল মিডিয়া ফোরামের বিষয় হলো ‘বৈশ্বিক অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ'৷ ১৭ থেকে ১৯শে জুন বন শহরে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে৷ বব্স প্রতিযোগিতায়ও বিষয়টিকে আলাদা বিভাগের মর্যাদা দিচ্ছে৷ বাংলাদেশের ‘ইনফোলেডি' (লিংক: http://www.pallitathya.org.bd/infolady/) নামের এক সামাজিক প্রকল্প এবার এই বিভাগে পুরস্কার অর্জন করে নিয়েছে৷ সাইকেলে চেপে কয়েকজন তরুণী বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইন্টারনেট সংযোগ পৌঁছে দিচ্ছেন৷ তাদের সম্বল ছোট আকারের নেটবুক ও মোবাইল ফোন৷ ফলে গ্রামবাসীরা স্বাস্থ্য, কৃষি বা উন্নয়ন সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজে নিতে পারছেন এই পরিষেবার মাধ্যমে৷ জুরিমণ্ডলীর কাছে এটা এমন এক ‘‘বৈপ্লবিক প্রকল্প যার মাধ্যমে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাংলাদেশের অতি দরিদ্র মানুষের নাগালে চলে আসছে৷''

সবচেয়ে সৃজনশীল ও মৌলিক উদ্যোগ

ইন্টারনেটে আমাদের গতিবিধির চিহ্ন কতটা থেকে যায়? এই প্রশ্ন নিয়েই কাজ করছে ‘মি অ্যান্ড মাই শ্যাডো' বা ‘আমি ও আমার ছায়া' (লিংক: https://myshadow.org)৷ ইন্টারনেটে কীভাবে নিরাপদে বিচরণ করা যায় ও তা করতে কী কী জানতে হয়, খেলাচ্ছলে ব্রাউজারের সেটিং বদলানোর মতো সেই সব পথ বাতলে দিচ্ছে এই ওয়েবসাইট৷ এই উদ্যোগের পিছনে রয়েছে ‘ট্যাকটিক্যাল টেকনোলজি কালেক্টিভ' নামের এক আন্তর্জাতিক সংগঠন৷ আধুনিক ইন্টারনেট প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে গোটা বিশ্বে মানবাধিকার কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেয় এই সংগঠন৷ বিশেষ করে যে সব দেশে প্রশাসনের নজরদারি ও সেন্সরশিপের বিপদ রয়েছে, সেখানে সাবধানতা অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরি৷ জুরিমণ্ডলীর সদস্য ত্রিনিদাদ ও টোব্যাগোর জর্জিয়া পপলওয়েল বলেন, ‘‘বেশ কিছু ক্ষেত্রে এটা জীবন-মরণের প্রশ্ন হয়ে ওঠে৷''

২০০৪ সাল থেকে ডয়চে ভেলে ‘দ্য বব্স – বেস্ট অব অনলাইন অ্যাক্টিভিজম' পুরস্কার দিয়ে আসছে৷ উদ্দেশ্য, ইন্টারনেটে মত প্রকাশের অধিকার করা এবং সেন্সরশিপ ছাড়াই খোলামেলা সংলাপে সহায়তা করা৷ ডয়চে ভেলের প্রধান সম্পাদক উটে শেফার মনে করেন, ‘‘বব্স এমন এক অভিনব মঞ্চ, যা দেখিয়ে দেয় যে গোটা বিশ্বের তরুণ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে একই প্রবণতা চালু আছে৷ কোনো সমাজকে প্রযুক্তির নাগাল থেকে দূরে রাখা বা তথ্যের উপর অধিকার থেকে মানুষকে বঞ্চিত করা সাময়িকভাবে সম্ভব হলেও চিরকাল তা টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না৷''

শুধু জুরিমণ্ডলী নয়, সাধারণ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরাও বব্স ভোটিং-এ অংশ নিতে পারেন৷ দ্য বব্স-এর ওয়েবসাইটেই প্রকাশিত হয় ব্যবহারকারীদের নির্বাচিত বিজয়ীদের নাম৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়