1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

২০১১ সালের ইউরোপীয় সাংস্কৃতিক রাজধানী টালিন

১লা জানুয়ারি থেকে টালিন শুধু এস্টোনিয়ার রাজধানী নয়, ফিনল্যান্ডের টুর্কু শহরের সঙ্গে মিলে ইউরোপীয় সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছে৷ নগরটির দেয়ার রয়েছে এক ঐশ্বর্যশালী সাংস্কৃতিক জগত ও সাগরের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক৷

default

এস্টোনিয়ার রাজধানী টালিনে জার্মান চেন্সোলর অ্যাঙ্গেলা ম্যার্কেল

বাল্টিক সাগরবর্তী ৪ লক্ষ অধিবাসীর শহর টালিন এখন ঝেড়েমুছে ঝকঝকে হয়ে উঠছে৷ এক বছরের জন্য প্রস্তুত হতে হবে তাকে৷ এ উপলক্ষে থিম মটো নেয়া হয়েছে ‘সাগরের ইতিহাস'৷ টালিন ২০১১'এর আয়োজক কমিটির মুখপাত্র মারিস হেলরান্ড এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘সাগরের সঙ্গে মানুষের সম্পর্কটা গত কয়েক বছরে অনেকটাই ম্লান হয়ে গিয়েছে৷ তার একটা পরিবর্তন প্রয়োজন৷ শুধু পার্থিব পরিবর্তন নয়, মানুষের মনোজগতেও পরিবর্তন আনতে হবে৷ নিজেদের অতীত ঐশ্বর্য আবিষ্কার করতে হবে৷''

মারিস হেলরান্ড'এর মনে শৈশবের স্মৃতি ভেসে ওঠে৷ সোভিয়েট ইউনিয়নের শাসনামলে টালিন শহর থেকে সাগরে যাওয়ার পথটি ছিল সামরিক বাহিনীর সংরক্ষিত এলাকা৷ সোভিয়েট সেনারা আজ সেখানে না থাকলেও সাগরতীরে এখনও যাওয়া যায়না৷ মারিস বলেন, ‘‘সেখানে এখন ঊনবিংশ শতাব্দীতে নির্মিত এক কারাভবন দাঁড়িয়ে আছে৷ পাঁচ বছরে আগেও ব্যবহৃত হত এই কারাগার৷ আমরা এখন সেখানে সাগর তীরবর্তী দীর্ঘ সড়ক গড়ে তুলতে চাই, যার নাম দেয়া হবে ‘কালচার কিলোমিটার'৷ যত বেশি সম্ভব সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে সেখানে৷''

18.07.2006 projekt zukunft fragezeichen

এই ছবিটিকেই খুঁজছেন আপনি৷ ছবিটির তারিখ 13/01/2011 এবং কোড: 7204 পাঠিয়ে দিন bengali@dw-world.de ঠিকানায় অথবা এসএমএস করুন 0088 0173 030 2205, ভারত: 0091 98309 97232 নম্বরে৷ এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে জিততে পারেন আকর্ষণীয় সারপ্রাইজ গিফট…

এস্টোনিয়া ২০১১ সালে আধুনিক ইউরোপীয় শহর হিসাবে নিজেকে উপস্থাপন করতে চায়৷ ১লা জানুয়ারি থেকে দেশটিতে ইউরোপীয় অভিন্ন মুদ্রা ইউরো চালু হওয়ায় উচ্ছ্বাসটা আরো বেশি এস্টোনিয়ার বাসিন্দাদের৷ সাংস্কৃতিক দিক দিয়ে অসাধারণ কিছু করার পরিকল্পনাও রয়েছে এস্টোনিয়ার৷ যেমন ‘একাকিত্বের ৬০ সেকেন্ড' নামে এক প্রকল্প৷ আগস্ট মাস পরিবেশিত হবে নতুন ধরনের এই আয়োজনটি৷ উদ্যোক্তাদের একজন ইন্ডড্রেক কাসেলা বলেন, ‘‘এটা হচ্ছে সিনেমার প্রতি ভালবাসা৷ আমরা বিভিন্ন দেশের পরিচালকদের অনুরোধ করেছি নিঃসঙ্গতা নিয়ে এক মিনিটের ছায়াছবি নির্মাণ করতে৷ তাঁদের সৃষ্ট ছায়াছবিগুলিকে জোড়া লাগিয়ে এক ঘন্টার একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হবে৷ সমুদ্রের বুকে বিশাল এক পর্দায় প্রদর্শিত হবে ছবিটি৷ পরে পর্দাসহ ছবির রোলটি পুড়িয়ে ফেলা হবে৷''

এই ছবিটির আর কোনো কপিও থাকবেনা৷ যা শুধু একবারই দেখতে পারবে মানুষ৷ টালিন ২০১১'এর আয়োজক কমিটির প্রধান লাউর কানিসারে বলেন, ‘‘আমি মনে করি মানুষের সবচেয়ে সুন্দর স্মৃতিটি রয়ে যায় পরিস্থিতির মাঝে, যা আর ফিরে আসেনা৷ যেমন ২ সেকেন্ডের জন্য রাস্তায় হয়তো কারো সঙ্গে দেখা হল, ৩০ বছর পরও স্মৃতিতে ভেসে উঠতে পারে তার কথা৷''

পরিবেশ সংরক্ষণের দিকটি মাথায় রেখে একটি থিয়েটার প্রকল্পও গড়ে তোলা হবে৷ পারফর্মেন্স ও থিয়েটারের এক মিশ্রণ৷ মে মাসে প্রদর্শিত হবে এটি৷ সাংস্কৃতিক বছর শেষ হলে ভেঙে ফেলা হবে এই প্রকল্প৷ এতে অংশ নেবেন দর্শকরাও৷ প্রদর্শনী চলাকালে দর্শকরা ফিটনেসের সাইকেলে বসে চাকা ঘোরাবেন, উৎপাদন করবেন বিদ্যুৎশক্তি৷ এতে জ্বেলে উঠবে মঞ্চের আলোকসজ্জা৷ অতিরিক্ত জ্বালানি শক্তির প্রয়োজন পড়বেনা আর৷ এই ভাবে অতীতের ঐতিহ্য আর ভবিষ্যতের প্রযুক্তিগত কলাকৌশলের একটা সংমিশ্রণ ঘটাতে চান টালিন ২০১১-এর আয়োজকরা৷

টালিনে পাঁচ বছর পর পর যে লোকসংগীতের আয়োজন করা হয়, তা এগিয়ে আনা হবে এবার৷ এস্টোনিয়ায় কয়েকশ বছরের ঐতিহ্য এই লোকসংগীতের কোরাস৷ ১৯৯১ সালে স্বাধিকার আন্দোলনের সময় সোভিয়েট দখলদারির বিরুদ্ধে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিল এই সংগীত৷ জুলাই মাসের প্রথম দিকে শহরের এক প্রান্তে অনুষ্ঠিত হবে এই লোকসংগীতের অনুষ্ঠান৷ মারিস হেলরান্ড বলেন ‘‘৩০ হাজার শিশুশিল্পীর গান দর্শক শ্রোতাদের হৃদয় স্পর্শ করবে৷ এটাই আমাদের ঐতিহ্য৷'' ১৫ জুলাই উদ্বোধন করা হবে সাগর মিউজিয়ামের৷ জলজ উড়ো জাহাজগুলি প্রদর্শন করার জন্য সমুদ্রতীরে বিশাল হল নির্মাণ করা হচ্ছে৷ সাগরের সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য ঘের দেয়া একটি প্ল্যাটফর্মও নির্মাণ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে৷ মারিস হেলরান্ড জানান, ‘‘বিশ্বের কাছে আমাদের সাংস্কৃতিক ইতিহাস উপস্থাপন করার এটা আমাদের এক বিরাট সুযোগ৷ আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের দৃষ্টি এখন আমাদের দিকে নিবদ্ধ৷ অনেক পর্যটকও আসবেন৷ যারা এতদিন দ্বিধা দ্বন্দ্বে ছিলেন, তারাও আমাদের শহরের শিল্পীদের আবিষ্কার করতে আগ্রহী হবেন৷ টালিনবাসীর আনন্দিত এই ভেবে যে, বছর খানেক পাদপ্রদীপের আলোয় থাকতে পারবেনতরা এবং তাদের সাগরের ইতিহাস তুলে ধরতে পারবেন৷

প্রতিবেদন: রায়হানা বেগম

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক