1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

তুরস্ক

‘১৯৩৩ সালের পর জার্মানি যেমন ছিল, তুরস্ক এখন তেমন'

কথাটা বলেছেন তুরস্ক থেকে জার্মানিতে পালিয়ে আসা মাজহার জুমরুত৷ এর্দোয়ান সরকারের নির্যাতন থেকে বাঁচতে গত মে মাসে জার্মানিতে পৌঁছান এই কুর্দি মানুষটি৷

মাজহার জুমরুত

মাজহার জুমরুত

সাবেক এই সরকারি চাকুরের বর্তমান বয়স ৬২৷ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী পিকেকে (কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি)-র সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এনে জুমরুতের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছিল পুলিশ৷ তখনই তিনি বুঝতে পারেন তাঁর পক্ষে আর তুরস্কে থাকা সম্ভব নয়৷ তাই তিনি প্রথমে সিরিয়া, তারপর ইরাক হয়ে জার্মানিতে পৌঁছান৷

ডয়চে ভেলের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে সরকারের আনা অভিযোগ অস্বীকার করে জুমরুত বলেন, তিনি কুর্দি দল বিডিপি-র (পিস অ্যান্ড ডেমোক্রেটিক পার্টি) সদস্য৷ বিডিপি হচ্ছে কুর্দিপন্থি দল এইচডিপি (পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি)-র একটি শাখা দল৷ তুরস্কের সংসদে এইচডিপি-র সদস্য আছে, যাঁদের গত মাসে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল৷

জুমরুত জার্মানিতে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছেন৷ থাকছেন আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য নির্ধারিত একটি কেন্দ্রে৷ সেখানে বসে ডয়চে ভেলের সঙ্গে কথা বলতে চাননি তিনি৷ কারণ তাঁর ভয়, ঐ কেন্দ্রে এমন লোক থাকতে পারে যারা আসলে এর্দোয়ান সরকারের গুপ্তচর৷

ভিডিও দেখুন 02:37

জুমরুত বলেন, এর্দোয়ানের আমলে নির্যাতন, নিপীড়নের সংখ্যা অনেক বেড়েছে৷ ‘‘যে তুরস্ক থেকে আমি পালিয়ে এসেছি, ১৯৩৩ সালে জার্মানিতে সেই অবস্থা ছিল'', বলেন তিনি৷ উল্লেখ্য, সেই বছর আডল্ফ হিটলার জার্মানির চ্যান্সেলরের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন৷

জুমরুতের মতো অনেক কুর্দি এ বছর জার্মানিতে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন৷ অভিবাসন ও শরণার্থী বিষয়ক জার্মানির কেন্দ্রীয় সংস্থা বিএএমএফ ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত তুরস্কের ৪,৪৩৭ জন নাগরিক জার্মানিতে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন৷ গত বছর সংখ্যাটি ছিল ১,৭৬৭৷

নিপীড়িতদের পাশে জার্মানি

জার্মানির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মিশায়েল রোট সম্প্রতি বলেন, ‘‘সরকারের সমালোচনা করা তুর্কি নাগরিকদের জানা উচিত যে, জার্মান সরকার তাঁদের সঙ্গে আছে৷ রাজনৈতিকভাবে নিপীড়নের শিকাররা এখানে (জার্মানি) আশ্রয়ের আবেদন করতে পারবেন৷''

রোটের এই বক্তব্য জুমরুতের মনে আশা জাগিয়েছে৷ তাঁকে কিছুটা নিশ্চিতও করেছে৷ তাঁর আবেদন গ্রহণ হবে বলে আশা করছেন তিনি৷ এরপর তুরস্কে থাকা তাঁর স্ত্রীকে জার্মানিতে নিয়ে আসতে চান জুমরুত৷ তাঁর স্ত্রীও এখন তুরস্কে গোপন স্থানে বসবাস করছেন৷ জুমরত তাঁর সঙ্গে ফোনে কথা বলতে ভয় পান৷ কারণ টেলিফোনে নজরদারি হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন৷

ফল্কার ভিটিং/জেডএইচ

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়