1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

১৭ দিন পর পুলিশ প্রত্যাহার: আপাতত কার্যালয় ছাড়ছেন না খালেদা

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ের সামনে থেকে অতিরিক্ত পুলিশ, পুলিশের গাড়ি ও জলকামান সরিয়ে নেওয়া হয়েছে৷ কিন্তু অবরোধ যতদিন চলবে ততদিন খালেদা জিয়া গুলশান কার্যালয়েই থাকবেন বলে জানা গেছে৷

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রোববার রাত আড়াইটার দিকে বিএনপি চেয়ারপার্সনের গুলশান কার্যালয়ের সামনে থেকে পুলিশের দুটি ভ্যান ও জলকামান সরিয়ে নেওয়া হয়৷ সেই সঙ্গে কার্যালয়ের সামনে অবস্থানরত অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যদেরও প্রত্যাহার করা হয়৷ এখন সেখানে অল্প কয়েকজন পুলিশ সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন৷

গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, বিএনপি চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ের সামনে থেকে অতিরিক্ত নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে৷ তবে অন্যান্য সময়ে তার কার্যালয়ে যে ধরনের নিরাপত্তা দেওয়া হয়, এখনও তেমন নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে৷

গত ৩রা জানুয়ারি রাতে গুলশানের কার্যালয় থেকে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যেতে চাইলে পুলিশি বাধার মুখে পড়েন খালেদা জিয়া৷ এরপর থেকেই তিনি গুলশান কার্যালয়ে রয়েছেন৷ কার্যালয় ঘিরে ব়্যাব পুলিশ ছাড়াও বিভিন্ন সড়কের প্রবেশ পথে রাখা হয়েছিল ইট ও বালুর ট্রাক৷ আর গেটে ছিল তালা৷ বিএনপি নেতারা অভিযোগ করে আসছিলেন, খালেদা জিয়াকে তাঁর কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে৷

Unruhen in Bangladesch 05.01.2015

অশান্ত বাংলাদেশ

গত ৫ই জানুয়ারি খালেদা জিয়া ‘অবরুদ্ধ' অবস্থায়ই গুলশান কার্যালয় থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন৷ তিনি নয়াপল্টনে বিএনপির ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবসের' একটি কর্মসূচিতে যোগ দিতে চাইছিলেন৷ কিন্তু তাঁকে বের হতে দেয়া হয়নি৷ এরপর সেদিন বিকেলে ৬ই জানুয়ারি থেকে সারাদেশে লাগাতার অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা দেন খালেদা জিয়া৷ এই অবরোধ কর্মসূচি এখনো চলছে৷ সোমবার অবরোধের ১৪তম দিন৷

এদিকে পুলিশ প্রত্যাহারের পর সোমবার দুপুরে খালেদা জিয়ার মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শাইরুল কবির খান জানান,' পরবর্তী কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়া গুলশান কার্যালয় থেকে বের হবেন না৷'

তিনি বলেন, ‘‘বর্তমানে দেশে অবরোধ চলছে৷ তাই নতুন করে দলের কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত গুলশানের কার্যালয় থেকে বের হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই খালেদা জিয়ার৷

আর খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘খালেদা জিয়ার গুলশানের কার্যালয় থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সরিয়ে নেয়া সরকারের নতুন চাতুরী ছাড়া আর কিছুই নয়৷ সরকার বিএনপি নেতা-কর্মীদের নির্যাতন, নিপীড়ন ও গ্রেপ্তার অব্যাহত রেখেছে৷'' তিনি আরও বলেন, ‘‘এ পর্যন্ত বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের ৮০ হাজার নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়েছে৷ তাদের বিরুদ্ধে নির্বিচারে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে৷ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত মোট ৮৭ টি মামলা করা হয়েছে৷ বাংলাদেশে কেন বিশ্বের ইতিহাসে মিথ্যা মামলার এই নির্লজ্জ নজির আমার জানামতে আর নাই৷''''

খালেদা জিয়ার এই উপদেষ্টা বলেন, ‘‘একটি কার্যকর সংলাপ আয়োজন না করা পর্যন্ত বিএনপির লাগাতার অবরোধ কর্মসূচি এবং আন্দোলন অব্যাহত থাকবে৷ খালেদা জিয়া এখনো গুলশান কার্যালয়ে আছেন এবং পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি তাঁর কার্যালয়েই অবস্থান করবেন৷'' তিনি আরো বলেন, ‘‘৫ই জানুয়ারির একতরফা ভোটারবিহীন নির্বাচন দেশের মানুষ গ্রহণ করেনি৷ গ্রহণ করেনি বিশ্ব সম্প্রদায়৷ তাই নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আরেকটি নির্বাচন হতেই হবে৷''

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সোমবার বলেছেন, ‘‘সংলাপের দাবি করার আগে নাশকতা বন্ধ করতে হবে৷'' তিনি নাশকতা প্রতিরোধে সরকারকে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোরও পরামর্শ দিয়েছেন ৷

সাবেক এই রেলমন্ত্রী বলেন, ‘‘কিছু বুদ্ধিজীবীসহ অনেকেই মনে করেন নাশকতা ও সন্ত্রাস করে সরকারকে সংলাপের জন্য বাধ্য করা যাবে৷ সংলাপ গণতন্ত্রের একটি অব্যাহত ধারা৷ কিন্তু কিছু পেট্রোলবোমা মেরে, সহিংসতা ও নাশকতা করে সংলাপের জন্য বাধ্য করা কোনো নৈতিকতাকেই বহন করে না৷ আমি ওই সব বুদ্ধিজীবীদের বলব, আগে এই নাশকতা বন্ধ করতে বলুন৷ যারা অবরোধ ঘোষণা করেছে অবশ্যই তাদের এই নাশকতার দায়িত্ব নিতে হবে৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়