1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

১৩ বছরেই চিরস্মরণীয় আনে ফ্রাঙ্ক

নিজের ১৩তম জন্মবার্ষিকীতে বাবা-মায়ের কাছ থেকে একটি ডায়েরি উপহার পেয়েছিলেন আনে ফ্রাঙ্ক৷ সে উপহারই হয়ে ওঠে তাঁর জীবনের একমাত্র সাথী৷ এই ডায়রিই তাঁকে করে রেখেছে চিরস্মরণীয়৷

পুরো নাম: আনেলিজে মারি ফ্রাঙ্ক

জন্ম: ১৯২৯ সালের ১২ই জুন, ফ্রাংকফুর্ট, জার্মানি

মৃত্যু: ১৯৪৫ সালের মার্চের শুরুর দিকে, ব্যার্গেন-বেলসেন বন্দী শিবির, জার্মানি

পেশা: লেখক

বাবা: অটো ফ্রাঙ্ক

মা: এডিথ

বোন: মারগট

স্মরণীয় কাজ: ‘দ্য ডায়েরি অফ আনে ফ্রাঙ্ক'

‘দ্য ডায়েরি অফ আনে ফ্রাঙ্ক' – এই একটি মাত্র রচনার মধ্য দিয়েই চিরজীবী হয়ে আছেন আনে ফ্রাঙ্ক

Anne Frank

‘দ্য ডায়েরি অফ আনে ফ্রাঙ্ক' – এই একটি মাত্র রচনার মধ্য দিয়েই চিরজীবী হয়ে আছেন আনে ফ্রাঙ্ক

১৯৪২ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত কিশোরী আনে তাঁর দিনলিপিতে বর্ণনা করেছেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা৷ গেস্টাপোর হাত থেকে রক্ষা পেতে দু'বছর আত্মগোপন করে থাকতে হয় তাঁকে৷ তখনকার আশেপাশের ঘটনাবলীকে সমালোচকের দৃষ্টিতে দেখেছেন আনে৷ লেখায় প্রকাশ পেয়েছে কিশোরী মনের চিন্তাধারা, গেস্টাপোর প্রতি ভীষণ ভীতি এবং তাঁর একাকিত্বের কষ্ট৷ এক জন বান্ধবীর অভাব খুব বেশি অনুভব করেছেন তিনি, প্রায় সারা জীবনই৷ তাই নিজের ডায়েরির নাম দিয়েছিলেন ‘কিটি'৷ এই কিটিই ছিল তাঁর একমাত্র বন্ধু৷ কিটিকে তিনি প্রথমদিকে তাঁর জীবন এবং পরিবার সম্পর্কে বলেছেন৷ আবার বৈষম্যের অভিজ্ঞতার কথাও বলেছেন৷ সে সময় ইহুদিদের দুর্দশা ও নাৎসি বন্দী শিবিরে তাঁদের নির্মম পরিণতি সম্পর্কে তাঁর গভীর অনুভূতি প্রকাশ করেছেন৷

Haus der Familie Frank in Frankfurt

জার্মানির ফ্রাংকফুর্টে আনে ফ্রাঙ্কের পরিবারের বাড়ির ছবি

আত্মগোপনের আস্তানায় নিজের এবং আরো দুটি পরিবারের বিভিন্ন ঘটনা ও বাইরে থেকে আসা বিভিন্ন খবর অত্যন্ত সুন্দরভাবে গুছিয়ে বলেছেন কিটিকে৷ এভাবেই আনে ফ্রাঙ্কের বর্ণনায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন নাৎসি বন্দী শিবিরে লক্ষ লক্ষ নির্দোষ ইহুদির মৃত্যুর এক বিভীষিকাময় রূপ ফুটে উঠেছে৷

১৯৩৩ সালে হিটলার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই জার্মান নাৎসি সরকারের ইহুদিবিরোধী তৎপরতা শুরু হয়৷ সেই পরিস্থিতিতে পরিবারের সঙ্গে জন্মস্থান ফ্রাংকফুর্ট ছেড়ে মাত্র চার বছর বয়সে আনে চলে যান নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডাম শহরে৷ সেখানেই বড় হন তিনি৷ ১৯৪০ সালে জার্মান নাৎসি সরকার নেদারল্যান্ডস দখল করে এবং পরের বছর আনে জার্মান নাগরিকত্ব হারান৷ শুরু হয় নাৎসিদের ইহুদি নিপীড়ন ও নিধন৷

বাড়ির পেছনের গোপন কক্ষে লুকিয়ে থাকতে হতো তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে৷

Edith und Otto Frank mit den Kindern Anne und Margot

বাবা-মার সঙ্গে ছোট্ট আনে ফ্রাঙ্ক

সেই থেকেই শুরু হয় ১৩ বছর বয়সি আনের জীবনের ঘটনাগুলি ডায়েরিতে লিপিবদ্ধ করা৷ দু'বছর পর তাঁর পরিবারকে গেস্টাপো ধরে নিয়ে যায় কুখ্যাত ‘ব্যার্গেন-বেলসেন' বন্দী শিবিরে৷ ১৯৪৫ সালের মার্চ মাসে নাৎসি সরকারের পতনের কয়েক সপ্তাহ আগে ওই শিবিরে টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়ে মাত্র ১৫ বছর বয়সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন আনে ফ্রাঙ্ক৷ মা ও বড় বোনও মারা যান একই রোগে ভুগে৷ বাবা অটো ফ্রাঙ্কই শুধু বেঁচে যান৷ তাঁর উদ্যোগেই ১৯৪৭ সালে প্রথমে ডাচ ভাষায় গ্রন্থ আকারে প্রকাশিত হয় আনে ফ্রাঙ্কের ডায়েরি৷ ১৯৫২ সালে যুক্তরাষ্ট্রেও প্রকাশিত হয় বইটি, ইংরেজিতে৷ এ পর্যন্ত ৬০টিরও বেশি ভাষায় অনুদিত হয়েছে ‘দ্য ডায়েরি অফ আনে ফ্রাঙ্ক'৷ এই ডায়েরিকে ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে অসংখ্য নাটক ও চলচ্চিত্র৷ আনের ডায়েরি ইতিহাসের এক মূল্যবান দলিল৷ আজও এর গুরুত্ব কমেনি৷ জার্মানিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়েছে, এখনও হচ্ছে৷ আর বহু মানুষের হৃদয়ে আজও বেঁচে আছেন আনে ফ্রাঙ্ক৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন