1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

১১ মাস আগে বন্যার পূর্বাভাষ!

বন্যার মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয় প্রতিরোধ করা এতকাল কার্যত অসম্ভব ছিল৷ কিন্তু মার্কিন বিজ্ঞানীরা এবার মাধ্যাকর্ষণ ও জমির ব্যবহার সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে পূর্বাভাষের এমন এক মডেল তৈরি করছেন, যাতে ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো যাবে৷

বাংলাদেশ বা ভারতের মতো দেশে ভয়াবহ বন্যা বিশাল এলাকার মারাত্মক ক্ষতি করে থাকে৷ অসংখ্য মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েন৷ দিন-কয়েক আগে ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাষ পেলেও তেমন লাভ হয় না৷ কিন্তু দীর্ঘ প্রস্তুতির সময় পেলে অনেক ক্ষতি হয়ত এড়ানো সম্ভব৷ অ্যামেরিকায় স্যাটেলাইট-ভিত্তিক এক নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে সেটাই সম্ভব হচ্ছে৷

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা প্রথমেই মিসিসিপি নদীর অববাহিকার একটি মানচিত্র তৈরি করেছেন৷ তার ভিত্তি ছিল একদিকে জমির ব্যবহার সংক্রান্ত তথ্য, অন্যদিকে নাসার ‘গ্রেস' নামের স্যাটেলাইট থেকে পাঠানো মাধ্যাকর্ষণ সংক্রান্ত তথ্য৷ তাতে দেখা গেছে যে, মাধ্যাকর্ষণ শক্তির মাত্রা সামান্য বেড়ে যাওয়ার অর্থ জমির জলীয় অংশ বেড়ে গেছে৷ অর্থাৎ বন্যা বা বরফ গলা জলের কারণে কোনো নদী কী রকম প্রতিক্রিয়া দেখাবে, মাধ্যাকর্ষণের মাত্রাভেদ তার আগাম সূচক হতে পারে৷

জমি যত শুকনা হবে, তার পক্ষে বাড়তি জল শুষে নেওয়া তত সহজ হবে৷ কিন্তু তাতে যদি আগে থেকেই বেশি আর্দ্রতা থাকে, তখন বাড়তি জল জমি ছেড়ে নদীতে চলে গিয়ে তার উচ্চতা বাড়িয়ে দেবে৷

এই তত্ত্ব কতটা ঠিক, তা জানার জন্য বিজ্ঞানীরা ২০১১ সালের মে-জুন মাসে মিসৌরি নদীর মারাত্মক বন্যার মডেল খতিয়ে দেখেন৷ পরিসংখ্যান অনুযায়ী এমন বন্যা ৫০০ বছরে একবার দেখা যায়৷ দেখা গেল, সঠিক তথ্য বিশ্লেষণ করলে ৬ থেকে ১১ মাস আগে তার পূর্বাভাষ দেওয়া সম্ভব হতো৷

তবে সব সময়ে স্যাটেলাইট তথ্যের প্রয়োজন নেই৷ নদীর অববাহিকায় গিয়ে বরফ-গলা জল ও মাটির আর্দ্রতা মাপলে তা থেকেও দু'মাস আগে পর্যন্ত বন্যার পূর্বাভাষ দেওয়া সম্ভব৷

নির্ভরযোগ্য পূর্বাভাষের জন্য অবশ্য নির্ভরযোগ্য ডেটা বা তথ্য থাকতে হবে৷ অর্থাৎ কোনো নদী অববাহিকার ‘হাইড্রোলজিকাল' আচরণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য থাকা প্রয়োজন৷ সেই জমি কী ভাবে ব্যবহার করা হয়, কোথায় কতটা সেচের কাজ হয়, জল কোথায় ও কীভাবে নদীকে গিয়ে পড়ে – এ সব জানা প্রয়োজন৷ তা থেকেই সেই নদীর নির্ভরযোগ্য মডেল তৈরি করা সম্ভব৷

এসবি/ডিজি (এএফপি, এপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন