1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা

হুমবোল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

বার্লিনে হুমবোল্ট ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৮১০ সালে৷ বার্লিনের উন্টার ডেন লিন্ডেনে জাঁকজমকের সঙ্গে পালন করা হচ্ছে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী৷

default

বার্লিনের হুমবোল্ট বিশ্ববিদ্যালয়

বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গ্যালারি৷ সর্বশেষ ছবিটি ভ্যার্নার ফর্সমানের৷ তিনি ১৯৫৬ সালে চিকিৎসা বিদ্যায় নোবেল পুরস্কার পান৷ কথাগুলো বলেন ইউলিয়ানে কুচিনস্কি৷ এক দল বৃদ্ধ-বৃদ্ধাকে গ্যালারি ঘুরিয়ে দেখাচ্ছেন ইউলিয়ানে জুলিয়ান৷ গ্যালারিতে ২৯ জন নোবেল বিজয়ীর ছবি টাঙানো রয়েছে৷ নিজ নিজ ক্ষেত্রে এরা সবাই পেয়েছিলেন বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি, পেয়েছিলেন নোবেল পুরস্কার৷ যে সব বৃদ্ধ-বৃদ্ধা এসেছেন গ্যালারিতে এরা সবাই হুমবোল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী৷ নোবেল বিজয়ী ভের্নার ফর্সমান প্রসঙ্গে জুলিয়ানে কুচিনস্কি বললেন, ‘‘তিনিই প্রথম হৃদযন্ত্রে ক্যাথেটার বসিয়েছিলেন এবং তাও নিজের হৃদযন্ত্রে৷ এবং এর জন্য তিনি নোবেল পুরস্কার পান৷ নিজের হাত ফুঁড়ে হৃদযন্ত্রে তিনি ক্যাথেটার বসিয়ে দেন৷''

হুমবোল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতী ছাত্ররা

হৃদযন্ত্রের শৈল্য চিকিৎসা ক্ষেত্রে ভের্নার ফর্সমানের অবদানকে মাইল ফলক হিসেবে দেখা হয়ে থাকে৷ তাঁরই স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৫৬ সালে নোবেল পুরস্কার পান তিনি৷

Flash-Galerie 200 Jahre Humboldt Universität Berlin Bücherverbrennung Nationalsozialismus

১৯৩৩ সালে নাৎসি পার্টি ক্ষমতায় আসার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার থেকে হাজার হাজার বই পুড়িয়ে ফেলা হয়

আগেই বলা হয়েছে ১৮১০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল হুমবোল্ট বিশ্ববিদ্যালয়৷ বিজ্ঞান ভিত্তিক বিষয়ে গবেষণার জন্য খ্যাতি ছিল এই বিশ্ববিদ্যালয়টির৷ বেশ কিছু ছাত্র পাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল হুমবোল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের, যারা পরবর্তীকালে খ্যাতিমান হয়েছেন৷ বিখ্যাত দার্শনিক গেওর্গ ভিলহেল্ম ফ্রিডরিশ হেগেল এখানে নিয়মিত ক্লাশ নিতেন৷ কার্ল মার্ক্স, হাইনরিশ হাইনে এবং অটো ফন বিসমার্ক এখানে পড়াশোনা করেছেন৷ এই হুমবোল্ট বিশ্ববিদ্যালয়েরই মাক্স প্লাঙ্ক, রবার্ট কখ এবং আলবার্ট আইনস্টাইন নোবেল জয় করেন৷

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সেই কালো দিনগুলো

১৮২৮ সাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টি পরিচিত ছিল ফ্রিডরিশ ভিলহেল্ম ইউনিভার্সিটি হিসেবে৷ তবে ১৯৩৩ সালে নাৎসি পার্টি ক্ষমতায় আসার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার থেকে গুরুত্বপূর্ণ হাজার হাজার বই পুড়িয়ে ফেলা হয়৷ শূন্য হয়ে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার৷ ইহুদি এবং কমিউনিজমের সঙ্গে জড়িত ছাত্র-ছাত্রীদের বহিষ্কার করা হয়৷ অনেকের ওপর চালানো হয় অত্যচার৷

Humboldt Universität in Berlin Flash Format

এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু পড়াশোনার জন্যই ছাত্র-ছাত্রীদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে না বরং প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে ক্যারিয়ার গড়ার, মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকার

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরপরই আসে বিশাল এক পরিবর্তন৷ ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে আসে আন্দোলনের জোয়ার৷ সাবেক সোভিয়েত রাশিয়ার সেনার সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছিল তখনকার কমিউনিস্ট পূর্ব জার্মানিতে৷ এর তীব্র প্রতিবাদে মুখর হয় ছাত্র-ছাত্রীরা৷ শুরু হয় ধর-পাকড়, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার এবং অন্যায়ভাবে কারাবন্দি৷ ১৯৭৪ সালে সংগীত নিয়ে পড়াশোনা শেষ করেন গের্লিন্ড কেম্পেনডর্ফ৷ এখন তিনি রাজনৈতিক-সামাজিক স্যাটায়ার পরিবেশন করেন৷ তিনি জানান, ‘‘ সেই সময় সব বিষয়ই ছিল অত্যন্ত স্পর্শকাতর৷ বিশেষ করে যারা পূর্ব জার্মানিতে আসতো বা পূর্ব জার্মানি থেকে বের হতে চাইতো তাদের জন্য৷ আমার সবচেয়ে প্রিয় বান্ধবী ১৯৭৬ সালে হাঙ্গেরির মধ্যে দিয়ে পশ্চিম জার্মানিতে পালিয়ে গিয়েছিল৷ কেউ কিছু জানতো না৷ কে যেতে চাচ্ছে, কে থেকে যেতে চাচ্ছে – কোন কিছুই বলা সম্ভব হত না৷ অবিশ্বাস কাজ করতো চারদিকে৷ নিরাপত্তা রক্ষীরা এর নাম দিয়েছিল ‘রিং'- চক্র৷ বলা হত অত্যন্ত ভয়ঙ্কর একটি চক্র৷ আর এই রিং-এর উৎপত্তি হচ্ছে বার্লিনের পূর্বাংশের হুমবোল্ট বিশ্ববিদ্যালয়৷ সেখানে থেকেই সবকিছু পরিচালনা করা হয়৷''

১৯৮৯ সাল পর্যন্ত চলে ছাত্র-ছাত্রীদের সেই আন্দোলন৷

হুমবোল্ট আজ সারা দুনিয়ার ছাত্রছাত্রীদের মিলনমেলা

প্রায় ৩৪ হাজার ছাত্র-ছাত্রী পড়াশোনা করছে হুমবোল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে৷ রয়েছে ২৫০ টি পাঠ্য বিষয়৷ প্রায় কয়েক হাজার বিদেশি ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে৷ সারা বিশ্বের প্রায় একশোটি দেশ থেকে আসছে ছাত্র-ছাত্রীরা৷ আন্তর্জাতিক এই মানকে ধরে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে ২১ বিভিন্ন বিষয়, যেগুলো ইংরেজি মাধ্যমে পড়ানো হয়৷ বার্লিন এবং ব্রান্ডেনবুর্গ জুড়ে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনশোটি ভবন৷ হুমবোল্ট বিশ্ববিদ্যালয় শুধু পড়াশোনার জন্যই ছাত্র-ছাত্রীদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে না বরং প্রতিজ্ঞা আর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে ক্যারিয়ার গড়ার, মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকার৷

প্রতিবেদন: মারিনা জোয়ারদার

সম্পাদনা: আবদুল্লাহ আল-ফারূক

ইন্টারনেট লিংক