1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি

হিলারি আর ট্রাম্প সম্পর্কে জার্মানরা যা ভাবছেন

স্থান-কাল-পাত্র নির্বিচারে জার্মানরা দৃশ্যত হিলারি ক্লিন্টনকে বিশেষ পছন্দ করেন না৷ অন্যদিকে তারা ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও সহ্য করতে পারেন না৷ ডয়চে ভেলেকে এমনটিই জানিয়েছেন পাঁচজন জার্মান৷

রয়েটলিঙ্গেনের টেরেজিয়া শল্জ
বয়স ৮৫ , অবসরপ্রাপ্ত, গত ৫০ বছর ধরে রক্ষণশীল সিডিইউ দলের সদস্যা

ব্যক্তিগতভাবে আমি ওবামাকে আবার পেলেই খুশি হতাম৷ দেখতে-শুনতে ভালো, দেখলে সচ্চরিত্র বলেই মনে হয়৷ মার্কিনিরা যদি তাদের প্রেসিডেন্টকে একটি তৃতীয় কর্মকালের সুযোগ দিতে চায়, তাহলে আমি তা সমর্থন করব৷ কিন্তু ট্রাম্প জিতলে আমরা অর্ধেক মেয়াদও চাই না৷ দেখতে যেমন বিচ্ছিরি, তেমনই ওর আচরণ আর কথাবার্তা৷ উত্তর ফ্রাঙ্কোনিয়ার ভাষায় আমরা বলব ‘চাষাড়ে’৷

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা

ক্লিন্টনকে দেখে মনে হয় উনি সৎ আর মানুষজনকে সাহায্য করতে চান৷ অবশ্যই তিনি জার্মানির সামাজিক গণতন্ত্রীদের মতো... উনি যা বলছেন, তা করতে চান বলেই আমার ধারণা৷ আমার মতে মার্কিনিদের স্বাস্থ্যবীমা থাকা প্রয়োজন - ট্রাম্প তো সেটা তুলে দিতে চান, তাই না?

অ্যামেরিকা একটি খ্রিষ্টান দেশ, আর খ্রিষ্টান দেশ হিসেবে আমি অন্যদের আসা বন্ধ করে দিতে পারি না৷ ট্রাম্প কোন গির্জার সঙ্গে যুক্ত, তা আমি জানি না... লোকের কোনোমতেই ট্রাম্পকে ভোট দেওয়া উচিৎ নয়৷ ওর সমর্থকদের মধ্যে বুদ্ধিমান লোকও আছে, তারা যে ওকে কী করে এখানে তুলল!

আমি মার্কিন ভোটারদের বলব, দু’টো খারাপের মধ্যে কম খারাপটা বেছে নাও৷ দুনিয়ায় নিখুঁত বলে তো কিছু নেই৷ ওরকম বিতৃষ্ণাকর কাউকে ভোট দেওয়া যায় না, যে সব সময় হুমকি দিচ্ছে, পরস্পরবিরোধী কথাবার্তা বলছে৷ শেষে তা থেকে যে কী বেরোবে, তা তো কারো জানা নেই৷

হেলমুট কপ 
বয়স ৪৬, ফ্রাংকফুর্টের কাছে র এক বিজনেস কনসালটেনসির সিনিয়ার পার্টনার

যুক্তরাষ্টের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন

যুক্তরাষ্টের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন

আমি মার্কিন নির্বাচন খুব মনোযোগ দিয়ে ফলো করছি, রাত তিনটের সময় প্রথম ডিবেটটাও দেখেছি৷ আগ্রহ তো ছিলই, আবার কিছুটা বিদ্রুপও ছিল৷ যেন স্ট্যান্ড-আপ কমেডি দেখছি৷

পরিষ্কার বোঝা গেল যে ট্রাম্পের কোনো প্রস্তুতি ছিল না, একই কথা বার বার আউড়ে যাচ্ছিলেন... ওনার কাছে অনেক ব্যাখ্যা আছে, কিন্তু কীভাবে কী করবেন তার কোনো উত্তর নেই৷ আমি হিলারি ক্লিনটনের সাপোর্টার নই৷ ৩২ কোটি মানুষের একটা দেশকে যে এক ৭০ বছরের ভীমরতিগ্রস্ত বৃদ্ধ ও এক ৬৯ বছরের মহিলার মধ্যে বেছে নিতে হচ্ছে, সেটা আমার কাছে হাস্যকর বলে মনে হয়৷ 

লোকজনকে ভোট দিতে যেতে হবে আর নিজের ধ্যানধারণার সঙ্গে তার সবটা যদি না’ও মেলে তবু যে প্রার্থী কম খারাপ, তাকে ভোট দিতে হবে৷

স্টেফান হাউজার 
বয়স ৪৬, ড্রেসডেনের একটি অনলাইন শপে কাজ করেন

আমি অনলাইন পত্রিকাগুলোয় রোজ মার্কিন নির্বাচনের খবর দেখি৷ আমার খেলো জিনিস পছন্দ৷ ট্রাম্প সে হিসেবে মজার প্রার্থী৷ ট্রাম্পকে নিয়ে হাসা যায়, যদিও ধীরে ধীরে আমার হাসি শুকিয়ে আসতে শুরু করেছে৷ সে (ট্রাম্প) এক বদমেজাজি ঠাকুরদা, বুদ্ধিও কিছু আহামরি নয়৷ এক সময় তাঁর হম্বিতম্বির পুনরাবৃত্তি হতে শুরু করে, বাড়াবাড়ি হয়ে দাঁড়ায়৷ তখন আর সেটা মনোরঞ্জন থাকে না৷ হিলারি ক্লিনটন নিঃসন্দেহে একাধিক রেকর্ড সৃষ্টি করতে চান: প্রথম মহিলা প্রেসিডেন্ট, প্রথম প্রেসিডেন্ট দম্পতি...৷ ট্রাম্প তাঁর দেশকে আরো বিভক্ত করে তুলবেন৷ কাজেই তিনি বাকি বিশ্বের চেয়ে অ্যামেরিকার পক্ষেই বড় বিপর্যয় হয়ে দাঁড়াবেন৷

পাউলি হাইঞ্জ 
বয়স ১৯, তিন বছর ইংল্যান্ডে ছিলেন, সেখানেই স্কুলের পড়া শেষ করেছেন 

অধিকাংশ সময় আমি ফেসবুকে৷ বন্ধুরা সব ভিডিও পোস্ট করে সেগুলো আমাকে পাঠিয়ে দেয়৷ ট্রাম্প কিংবা হিলারির ভাষণ বা ওদের ডিবেটের ছোট ছোট অংশ৷ তার অধিকাংশই ট্রাম্পের প্রতি বিরূপ, কিন্তু সেটাই আমি ও আমার বন্ধুবান্ধবদের মনোভাব বলে আমার ধারণা৷ (অথচ) ট্রাম্প অনেক বেশি মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন৷ ফেসবুকে ট্রাম্প হিলারির চেয়ে অনেক বড় ঘটনা৷হিলারি ঠিক পছন্দ করার মতো নন৷ আমার বয়ফ্রেন্ড রাষ্ট্রবিজ্ঞান পড়ে; সে বলে যে, ক্লিন্টনকে জার্মানিতে দক্ষিণপন্থি বলে গণ্য করা হতো৷

বেয়াটে ব্রিঙ্কমায়ার 
বয়স ৪০, বার্লিনে একটি দৈনিকের আলোকচিত্র বিভাগে কাজ করেন

ট্রাম্প এত বোকা যে, উনি পুরোপুরি খারাপ হতে পারেন বলে আমার মনে হয় না৷ আমার মনে হয়, উনি ঠিক জানেন না, উনি কী করছেন৷হিলারি ক্লিনটন ভেড়ার সাজে নেকড়ে৷ উনি পুরোপুরি অসৎ, একজন কুচক্রী৷ আমার ধারণা উনি একটা যুদ্ধ শুরু করবেন - অন্তত শান্তির জন্য কিছু করবেন না৷ আমি অ্যামেরিকান হলে হয়তো ভোটই দিতাম না৷ ইউরোপীয় হিসেবে আমি ভাবি, দু’জন প্রার্থীই যে এতটা খারাপ, সেটা কী করে সম্ভব হলো৷ ভয় পেয়ে যাওয়ার মতো!

সাক্ষাৎকার: চেজ জেফারসন/এসি
সম্পাদনা: আশীষ চক্রবর্ত্তী

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়