1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন

হিলারি আর ট্রাম্পের হয়ে টুইট করছে রোবট!

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণা বলছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দুই প্রার্থী অটোমাটেড সফটওয়্যার ব্যবহার করে টুইট করছেন৷ তবে এক্ষেত্রে এগিয়ে আছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প৷

US TV Debatte Trump vs Clinton (Reuters/R. Wilking)

নির্বাচনী ডিবেটে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও হিলারি ক্লিনটন

গবেষকরা দেখেছেন, হিলারি ক্লিনটন যখন একটি টুইট করেন, ট্রাম্প করেন চারটিরও বেশি৷ অর্থাৎ ট্রাম্পের টুইট হিলারির চার গুণ৷ প্রেসিডেন্সিয়াল ডিবেটের প্রথম পর্ব থেকেই ট্রাম্প ও হিলারি টুইটারে প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েছেন৷ কিন্তু দু'জনেই এক্ষেত্রে সাহায্য নিয়েছেন রোবটের৷ অটোম্যাটিক অ্যাকাউন্ট থেকে অনেক টুইট করা হয়েছে দু'জনের সমর্থনে৷

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফিলিপ হাওয়ার্ড এই গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন৷ তার গবেষণার বিষয় ‘কম্পিউটেশনাল প্রোপাগান্ডা' অর্থাৎ কম্পিউটারের মাধ্যমে প্রচারণা৷ গবেষণায় বলা হয়েছে, এই বোট টুইট রিপাবলিকানদের সমর্থন বাড়াতে সহযোগিতা করছে৷

গবেষণা প্রতিবেদকরা বলছেন, এই সফটওয়্যারের জনমতে পরিবর্তন আনার ক্ষমতা আছে, কেননা অটোম্যাটিক হলেও জনমতের ভিত্তিতে, রাজনৈতিক মতামত বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই টুইটগুলো করা হয়৷ তবে এক সমালোচক বলেছেন, এটা বলা খুবই মুশকিল যে কোন টুইটার অ্যাকাউন্টটটি আসল আর কোনটি ওয়েব রোবট৷

দুই প্রার্থীর মধ্যে প্রথম বির্তক হয়েছিল ২৬ সেপ্টেম্বর৷ সেদিন থেকে টানা চার দিনের টুইট সংগ্রহ করেছেন গবেষকরা৷ আর এসব টুইটে কী কী হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলোর তালিকা তৈরি করেছেন৷

ট্রাম্পের সমর্থনে টুইটে যেসব হ্যাশট্যাগ যুক্ত হয়েছে সেগুলো হলো, হ্যাশঅ্যামেরিকাফার্স্ট (#AmericaFirst),  হ্যাশডেপ্লোরেবল (#deplorable), হ্যাশনেভারহিলারি (#NeverHillary), হ্যাশপেপে (#pepe), হ্যাশটিমট্রাম্প (#TeamTrump)  এবং হ্যাশট্রাম্পপেন্স২০১৬ (#TrumpPence2016)৷

হিলারির সমর্থনে যুক্ত হয়েছে বেশ কিছু হ্যাশট্যাগ৷ উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো হ্যাশডেমস (#dems), হ্যাশডার্টিডোনাল্ড (#DirtyDonald), হ্যাশআঅ্যামউইদহিলারি (#ImWithHer), হ্যাশট্রাম্পহেইট (#LoveTrumpsHate), হ্যাশস্ট্রংগারটুগেদার (#StrongerTogether) ও হ্যাশহোয়াইওয়ান্টহিলারি (#WhyIWantHillary)৷

প্রথমে গবেষকরা অ্যাকাউন্টগুলো কাদের সেটা চিহ্নিত করেছেন৷ তারা এমন টুইটগুলো নিয়েছেন, যেগুলো প্রার্থীদের মধ্যে কেবল একজনকে সমর্থন করেছে৷ তারা দেখেছেন চারদিনে এসব অ্যাকাউন্ট থেকে ট্রাম্পের সমর্থনে ১৮ লাখ এবং হিলারির সমর্থনে ৬ লাখ ১৩ হাজার টুইট করা হয়েছে৷ এরপর গবেষকরা এই টুইটগুলোর কতগুলো রোবটের মাধ্যমে করা হয়েছে তা বিশ্লেষণ করে দেখেছেন৷ তারা এমন একটি অ্যাকাউন্ট খুঁজে পেয়েছেন যেটি থেকে প্রতিদিন অন্তত ৫০ টি করে টুইট করা হয়েছে৷ তারা বলছেন, ট্রাম্পের টুইটের ৩২ ভাগ রোবট নিয়ন্ত্রিত অ্যাকাউন্ট থেকে করা হয়েছে৷ আর ক্লিনটনের ২২ ভাগ৷ ফলাফলে দেখা যাচ্ছে রিপাবলিকান প্রার্থীর জন্য রোবটের মাধ্যমে এসেছে প্রায় ৫ লাখ ৭৬ হাজার টুইট৷ আর ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর পক্ষে ১ লাখ ৩৬ হাজার টুইট৷

সাবেক আইবিএম গবেষক ক্যারোলিন সিন্ডার্স বলেছেন, ‘‘সাধারণ মানুষ লেখার সময় নির্দিষ্ট একটা অ্যালগোরিদম ব্যবহার করে, আর নির্দিষ্ট কারণে তারা টুইট করে৷ কিন্তু রোবটরা যখন টুইট করে তখন নির্দিষ্ট কিছু হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে প্রায় একই ধরনের কথাবার্তা টুইট করে৷''

অধ্যাপক হাওয়ার্ড বলছেন, ‘‘এই টুইটগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বেশিরভাগ টুইট সারা রাত ধরে করা হয়েছে, আর ব্যবহার করা হয়েছে একই ধরনের হ্যাশট্যাগ ও তথ্য৷ এ থেকেই বোঝা যায় এটা কোনো মানুষের আচরণ নয়, যন্ত্রের আচরণ৷ আর এমনটা দেখা গিয়েছিল ব্রেক্সিট ভোট এবং ভেনেজুয়েলা নির্বাচনের সময়৷''

Symbolbild Twitter (Imago/R. Peters)

‘একই ধরনের কথাবার্তা টুইট করে’

কীভাবে বোট অ্যাকাউন্ট চিনবেন?

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এ ধরনের অ্যাকাউন্টে নির্দিষ্ট প্রোফাইল ছবি থাকে না৷ তারা টুইট করার সাথে সাথে একই রকম দেখতে অ্যাকাউন্ট থেকে তা শেয়ার করা শুরু করে৷ মেইন টপিক নিয়ে খুব সংক্ষিপ্ত বক্তব্য লেখে৷ আরও একটা ব্যপার হলো, একজন মানুষের একটির পর আর একটি টুইট করতে যতটা সময় লাগার কথা এই অ্যাকাউন্টগুলোর তা লাগে না৷

তবে অধ্যাপক হাওয়ার্ড এ-ও জানালেন যে, তিনি তাঁর গবেষণায় দেখেছেন ট্রাম্পের টুইটগুলো রোবট কর্তৃক করা হোক বা না হোক, এগুলো ভোটারদের ভালোই প্রভাবিত করছে এবং তা ইতিবাচকভাবেই৷

এপিবি/এসিবি (বিবিসি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়